এসএ গেমসে শীলার হাতে লাল-সবুজের পতাকা|181404|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৩১
এসএ গেমসে শীলার হাতে লাল-সবুজের পতাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক

এসএ গেমসে শীলার হাতে লাল-সবুজের পতাকা

২০১৬ গৌহাটি-শিলং এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ের পর মাহফুজা খাতুন শীলা। ফাইল ছবি

১ ডিসেম্বর নেপালের তিনটি শহরে শুরু হতে যাচ্ছে এসএ গেমসের ১৩তম আসর। এই আসরে না খেলার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন আগের আসরে দেশকে দুটি স্বর্ণপদক এনে দেওয়া মাহফুজা খাতুন শীলা। কিন্তু মেয়েদের ১০০ মিটার এবং ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে সোনাজয়ী এই কৃতী সাঁতারুকে ভুলে যায়নি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন।

ভারতের গৌহাটি এবং শিলংয়ে অনুষ্ঠিত সে আসর থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তিই ছিল মাত্র চারটি স্বর্ণপদক। এর মধ্যে শীলার হাত ধরেই আসে দুটি। পুলে এবার তিনি না থাকলেও এই স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানের লাল-সবুজ পতাকাটা তার হাতেই তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিওএ। অর্থাৎ এবার দেশের পতাকা হাতে প্রায় ৬২৫ সদস্যের বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

গতকাল এই ঘোষণা দিয়েছেন এসএ গেমসে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন এবং বিওএর যুগ্ম মহাসচিব আসাদুজ্জামান কোহিনুর। সাধারণত পতাকা বহনের দায়িত্বটা পেয়ে থাকেন কোনো দেশের কন্টিনজেন্টের সেরার কাতারে থাকা কোনো ক্রীড়াবিদ। কিন্তু এবার খানিকটা ব্যতিক্রম আনার পেছনে বেশ কিছু যুক্তিও দিয়েছেন বিওএর কর্মকর্তারা।

কোহিনুর বলেন, ‘শীলাকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে কয়েকটি বিষয় আমাদের দেখতে হয়েছে। প্রথমত ১০০ এবং ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে এখন পর্যন্ত সে-ই দক্ষিণ এশিয়ার সেরা। এই গেমসে হয়তো অন্য কেউই তার জায়গায় চলে আসবে। তাছাড়া ও কিন্তু অনেক আগে থেকেই আমাদের কন্টিনজেন্টেরই একজন অংশ ছিল। ব্যক্তিগত কারণে ও সরে দাঁড়ালেও ওকে আমরা বেছে নিয়েছি দলের একজন ডেলিগেট হিসেবে।’

শীলা ছাড়াও আলোচনায় ছিলেন ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করা আরচার রোমান সানা। কিন্তু উদ্বোধনীর পরের দিনই সানার ইভেন্ট এবং তাকে ঘিরে একাধিক স্বর্ণপদক জয়ের প্রত্যাশা থাকায় রোমান সানাকে হিসেবের বাইরে রাখা হয়েছে।

এছাড়া ২০১৬ এসএ গেমসে স্বর্ণপদকজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত এবং শুটার শাকিল আহমেদ খানের নামও আলোচনায় এসেছিল। কিন্তু শীলা তাদের পেছনে ফেলেন দুটি স্বর্ণপদক জয় এবং ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ৩৪.৬৬ সেকেন্ডে গেমস রেকর্ড গড়ায়। তাছাড়া সীমান্ত গত বছর এশিয়ান গেমসে দেশের পতাকা বহন করেন। বাকুতে ইসলামী সলিডারিটি গেমসের পতাকা বহনকারী ছিলেন শাকিল। আর ২০১৪ এবং ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমস রুপাজয়ী শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী এই সম্মান পেয়েছিলেন গত বছর গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে। 

২০১৬ সালে ১২তম এশিয়ান গেমসে দেশের পতাকা বহন করেছিলেন সাঁতারু রুবেল রানা। এবার এই সম্মান পেতে যাচ্ছেন আরেক সাঁতারু। বিরল এই সম্মানের প্রতিক্রিয়ায় শীলা বলেন, ‘এটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এমনিতে আমি খেলছি না। তার ওপর এমন একটা ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে বিওএ আমাকে সম্মানিত করবে কল্পনা করিনি। আমি আসলে বিওএর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’

২০১৬ সালে দুটি স্বর্ণপদক জয়ের চেয়েও এটাকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই সাঁতারু, ‘আমি তো মনে করি এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। কারণ এখন আমাকে গোটা বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিতে হবে।’