৫ টাকার বলপেন ২০ টাকা ১২ টাকার ফাইল ৫০|181547|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
৫ টাকার বলপেন ২০ টাকা ১২ টাকার ফাইল ৫০
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

৫ টাকার বলপেন ২০ টাকা  ১২ টাকার ফাইল ৫০

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ক্রয়কৃত উপকরণের মধ্যে ৫ টাকার বলপেন ২০ টাকা, ১২ টাকার ফাইল ৫০ টাকার ভাউচার এবং চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বদলি হওয়ার পরে ছদ্ম নামে সরকারি ভাতা উত্তোলনসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টরের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মমিনুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগাযোগ হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘যা কিছু করেছি তা নিয়মের মধ্যে রেখেই করেছি’। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন চলতি বছরের জুন মাসে (২৫ তারিখ) চট্টগ্রামে বদলি হয়। তার শূন্যপদে খলিলুর রহমান ছদ্ম নাম দিয়ে সরকারি কর্ম দিবসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রশিক্ষণ চলাকালীন দৈনিক ভাতা, খাবার বিল ও যাতায়াত ভাতা বাবদ ১,৪৪০ টাকা করে উত্তোলন করছেন রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মমিনুল ইসলাম মজুমদার। গত ১০ নভেম্বর পিইডিপি-৪ এর আওতায় মার্কিং প্রশিক্ষণের খরচ বাবদ অর্থ উত্তোলনের জন্য উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে জমা দেওয়া বিল-ভাউচারে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এ ছাড়া প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য সরকারিভাবে ২,৬৪০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তিনি সেখানে ২,৫৫০ টাকা দিয়ে বাকি ৯০ টাকা হারে রেখে দেন। এদিকে, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য উপকরণ হিসেবে সরকারি খরচ দেখানো হয়েছে-৫ টাকার বলপেন ২০ টাকা, ১২ টাকার কোর্ট ফাইল ৫০ টাকা করে। প্রশিক্ষণের সব উপকরণেও সরকারি ক্রয় নীতিমালা উপেক্ষা করে কয়েকগুন বেশি দাম দেখিয়ে সরকারি বিপুল পরিমাণের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী জানান, ‘শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের সরকারি ভাতার অংশ কেটে নেওয়া হয়েছে এবং এটি ধারাবাহিকভাবেই চলছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।’

কুমিল্লা জেলা রিসোর্স সেন্টারের সুপার হারুনুর রশিদ ভূঁইয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এখনই ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। কাগজপত্র দেখে অনিয়মের সত্যতা পেলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে’।

অপরদিকে চট্টগ্রাম রিসোর্স সেন্টারের ডিডি সুলতান মিয়া বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’