মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে চলে কাজ |181554|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে চলে কাজ
পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ
সুমন্ত চক্রবর্ত্তী, খুলনা

মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে চলে কাজ

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ২ নম্বর কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সেবা নিতে আসা এ ইউনিয়নের ২২ গ্রামের মানুষ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে কাজ করেন। যেকোনো সময় ভবনধসে ঘটতে পারে প্রাণহানি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দ্বিতল ভবনটির ছাদের বেশির ভাগ অংশ পলেস্তারা খসে পড়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খসে পড়ছে বের হয়ে থাকা রডগুলোর মরিচাও। নিচতলার পরিত্যক্ত তিনটি স্টোররুমে বসবাস করছে বিষাক্ত সাপ ও পোকামাকড়ের দল। ভালো নেই কোনো রুমের একটি জানালাও। বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক ধসে পড়ার আশঙ্কায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ঠেক দিয়ে রাখা হয়েছে।

কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, ১৯৬০ সালের দিকে মাত্র ৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হয় পরিষদ ভবনটি। এর দোতলায় রয়েছে চারটি কক্ষ, যার মেঝের মূল আস্তরণ উঠে গেছে বহু আগেই। ৩৭ দশমিক ৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার কপিলমুনি ইউনিয়নে গ্রামের সংখ্যা ২২টি, মৌজা রয়েছে ২৭টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৪টি, উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যা পাঁচটি, মাদ্রাসা রয়েছে তিনটি, হাট-বাজারের সংখ্যা চারটি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ১৩ জন, রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উদ্যোক্তা এবং গ্রাম পুলিশ নয়জন নিয়ে পরিচালিত খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিয়ন পরিষদ। এখানে প্রতিদিন সেবা পেতে আসেন শত শত ইউনিয়নবাসী। সে সময় অতি ভারে দুলতে থাকে ভবনটি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে বিচারিক কাজসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন চেয়ারম্যান, ১২ জন ইউপি সদস্য, কর্মকর্তা, গ্রাম আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এর মধ্যে একাধিকবার ভবনটির সংস্কার হয়েছে। তবে তা স্থায়ী হয়নি বেশি দিন। তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (স্থানীয় সরকার শাখা) খুলনার সহকারী কমিশনার সাবরিনা শারমিন ২০০৬ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং নতুন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দেওয়ার এক যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য ন্যূনতম ৩০ শতক জমি প্রয়োজন থাকলেও পরিষদের রয়েছে মাত্র ৫ শতক জমি। যার ফলে বারবার আটকে যাচ্ছে আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ।

কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়ার্দার বলেন, আধুনিক ভবন নির্মাণে জমি কিনতে কাজ করছি। কিন্তু বাজারের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে না।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া সুকায়না বলেন, আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণে আরও ২৫ শতক জমির প্রয়োজন। অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে গেলেও স্থানীয়রা তা মানছেন না। যে কারণে জরাজীর্ণ ভবনের পরিবর্তে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণে বিলম্ব হচ্ছে।