শিক্ষা সমাপনীর সার্টিফিকেটে নভেম্বর মাস ৩১ দিনে, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা|181643|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:২৯
শিক্ষা সমাপনীর সার্টিফিকেটে নভেম্বর মাস ৩১ দিনে, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
মনোয়ার হোসেন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লার) প্রতিনিধি

শিক্ষা সমাপনীর সার্টিফিকেটে নভেম্বর মাস ৩১ দিনে, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ক্যালেন্ডারে নভেম্বর মাস ৩০ দিনে হলেও চলতি বছরের নভেম্বর মাসকে ৩১ দিনে স্বীকৃতি দিচ্ছেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সরকারি সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করে শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম নভেম্বর মাস শেষ না হতেই সার্টিফিকেটে ইস্যুর তারিখ উল্লেখ করেছেন- ৩১/১১/১৯। সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়।  

জানা গেছে, প্রতি বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নভেম্বর মাসেই শেষ করা হয়। আর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পরের বছর মার্চ মাসের মধ্যে সার্টিফিকেট প্রদান করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ২০১৮ সালের উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সার্টিফিকেট মার্চ মাসের মধ্যে প্রদান করেনি। নিয়ম অনুযায়ী সার্টিফিকেট প্রদান না করে নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদানের উদ্যোগ নেন। নভেম্বর মাসকে ৩১ দিন হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম স্বাক্ষরিত ওই সার্টিফিকেটগুলো চেক করেছেন সহকারী শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসেন।

উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের যশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. সাব্বির হোসেন নামের এক ছাত্রকে দেওয়া সার্টিফিকেটে দেখা গেছে, সব লেখা ঠিক থাকলেও সার্টিফিকেট ইস্যুর তারিখ দেখানো হয়েছে ৩১/১১/১৯। লিপিকার হিসেবে নাম রয়েছে ‘আমেনা’। যাচাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসেন।

নভেম্বর মাসকে ৩১ দিনের উল্লেখ করায় ভবিষ্যতে কোন কিছুতেই সার্টিফিকেটটি কাজে লাগবে না শিক্ষার্থীদের তবে ভুলের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম ও সহকারী শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসেন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকেরা শিগগিরই বিতরণ করা সার্টিফিকেটগুলো বাদ দিয়ে সঠিক তারিখ উল্লেখ করে নতুন সার্টিফিকেট বিতরণের আহ্বান জানান।

সার্টিফিকেট যাচাইকারী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। তবে অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব’।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে যাচাইকারী সহকারী শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। আমরা ভুল তারিখ দেওয়া সার্টিফিকেটগুলো প্রত্যাহার করে নিচ্ছি’।