সাপ ও বিষাক্ত পোকা আতঙ্কে পাবনার চরে আবাদ বন্ধ|182264|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
সাপ ও বিষাক্ত পোকা আতঙ্কে পাবনার চরে আবাদ বন্ধ
পাবনা প্রতিনিধি

সাপ ও বিষাক্ত পোকা আতঙ্কে  পাবনার চরে আবাদ বন্ধ

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের চর সদিরাজপুরে দেখা দিয়েছে বিষধর সাপ ও পোকার আতঙ্ক। এরই মধ্যে বিষাক্ত পোকার কামড়ে মারা গেছেন এক ব্যক্তি, বিষধর সাপের কামড়ে গুরুতর আহত আরেক ব্যক্তি রয়েছেন হাসপাতালে। আতঙ্কে চরের জমিতে চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুমে প্রতি বছরই পাবনার পদ্মার চরগুলোতে পেঁয়াজ, মসুর, মাষকলাই, সরিষাসহ রবিশস্যের আবাদ করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের মতো বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের চরসদিরাজপুর গ্রামের এই সুবিশাল চর এখনো অনাবাদী, ঝোপজঙ্গলে ঠাসা।

কৃষকরা জানালেন, এ বছর উজান থেকে নেমে আসা পদ্মার পানিতে হঠাৎ বন্যায় তলিয়ে গিয়েছিল উপজেলার আড়াই শ বিঘা আয়তনের সবচেয়ে উঁচু এ চরটিও। পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকরা কাজে গিয়ে দেখতে পান নানা ধরনের অপরিচিত সাপ ও পোকা-মাকড়ের আনাগোনা। আবাদের জন্য জমির ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে গিয়ে সম্প্রতি বিষাক্ত পোকার কামড়ে মারা যান আফজাল কাজী (৫০) নামে এক ব্যক্তি। সাপের কামড়ে নজরুল ইসলাম (৩৫) নামে আরেক কৃষক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

পোকার কামড়ে মারা যাওয়া আফজাল কাজীর ছেলে শাহীন বলেন, বাবা নভেম্বর মাসের ১ তারিখ মাঠে কাজ করতে আসেন। জঙ্গল পরিষ্কারের সময় তাকে কাঁকড়া-বিছা পোকা কামড় দেয়। বিষক্রিয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সপ্তাহখানেক আইসিইউতে থাকার পর মারা যান তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিষক্রিয়াতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

চরসদিরাজপুরে গিয়ে দেখা যায়, শুকিয়ে আসা শীর্ণ পদ্মায় ছোট নৌকায় পার হতে হয় আক্রান্ত চরে যেতে। কোনো বসতবাড়ি নেই, তবে পলি পড়া উর্বর চরের জমিতে ফসল ভালো হয়। গরু, মহিষ, ভেড়াসহ গবাদিপশুর বাথান রয়েছে স্থানীয়দের। উর্বর এ জমির ফসলের ওপর কয়েক শ পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল হলেও আতঙ্কে চরে যেতেই ভয় পাচ্ছেন তারা।

দোগাছি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, আগে কখনো এ ধরনের অপরিচিত সাপ, পোকার আনাগোনা দেখা যায়নি। এ বছর চরে কাজ করতে আসা অনেকেই বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পোকা দেখেছেন। আমি নিজেও কয়েকটি জঙ্গল পরিষ্কারের সময় বেশ কিছু সাপ দেখেছি।

আফজাল কাজীর মৃত্যুর পর চাষিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আবাদ করতে আসতেই ভয় পাচ্ছেন তারা। ফলে বিশাল এ চর এ বছর অনেকটাই অনাবাদী পড়ে আছে।

স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা এস এম মাসুম বিল্লাহ, জেলা কীটতত্ত্ববিদ হেলাল উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসনের ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি। বন্যার কারণে সাপ ও পোকার উপদ্রব বেড়েছে বলে ধারণা তাদের।

জেলা কীটতত্ত্ববিদ হেলাল উদ্দিন বলেন, পোকার কামড়ে মারা যাওয়া আফজাল কাজীর পরিবারের বক্তব্য ও দেখানো ছবিতে মনে হচ্ছে তিনি স্করপিয়নজাতীয় বিছা কাঁকড়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ধরনের পোকার বিষক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, উজান থেকে নেমে বন্যার পানিতে বিভিন্ন ধরনের পোকা ও সাপ উঁচু এই চরে আশ্রয় নিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তবে নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, পোকা ও সাপের উপদ্রবের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন অবগত রয়েছে। প্রয়োজনীয় উপকরণ ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয়দের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ন