আসামে ফের এনআরসি কেন?|182295|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
আসামে ফের এনআরসি কেন?
প্রতিদিন ডেস্ক

আসামে ফের এনআরসি কেন?

সারা দেশে জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) করার ঘোষণা দিয়েই যাচ্ছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আসামে এনআরসি বিতর্কিত হওয়ার পরেও এই তালিকা প্রণয়নে বদ্ধপরিকর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আসামে ফের এনআরসি করা হবে এমন ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি।
আসামে ফের এনআরসি করতে ভারতের জনগণের দেওয়া আয়করের ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপি ব্যয় করতে হবে। এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে কেন ফের এনআরসি করা হবে, তা নিয়ে সরকারের ও বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। অথবা নতুন এনআরসির ফলাফল কি প্রথম এনআরসির ফলাফলকে খারিজ করবে কি না, সে বিষয়েও কোনো বক্তব্য নেই।

গত ১৩ অক্টোবর সাবেক বিচারপতি রঞ্জন গগৈ স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন যে, আসামে এনআরসির হালনাগাদ তালিকা সিদ্ধান্ত আকারে বাস্তবায়ন নির্ভর করে সাংবিধানিক বেঞ্চের ওপর। এই বেঞ্চের ওপর যে রাজনৈতিক ক্ষমতা বহাল রয়েছে তা বোঝা যায় এনআরসি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর একের পর এক বক্তব্যে। তার সুর ধরে আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকেও বলতে শোনা যায়, আসাম এনআরসি এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির আসামে ফের এনআরসি করতে চাওয়ার নেপথ্য কারণ বাংলা ভাষাভাষি হিন্দু সম্প্রদায়। এই সম্প্রদায়ের বিশাল সংখ্যক মানুষকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ওই বাদ যাওয়া বাংলা ভাষাভাষি হিন্দুদের ত্রাণ দিতেও পারেনি সর্বানন্দ সোনোয়াল সরকার। অথচ ব্রহ্মপুত্র ও বরাক ভ্যালির দুই পাশের অঞ্চল বিজেপির ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত।

আসামের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসামিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবেই বিজেপির প্রভাব অতটা নেই। গেল লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থীরা ওই অঞ্চলে পরাজয়ের শিকার হয়েছেন। এমনকি ভুপেন হাজারিকার মতো ব্যক্তিও গুয়াহাটিতে বিজেপির হয়ে জিততে পারেননি। বিজেপি এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ আসামিজদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চাইছে তাদের হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা থেকে কিছুটা সরে এসে। এ ক্ষেত্রে তালিকা থেকে বাদ পড়া বাঙালি হিন্দুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিমধ্যেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন একাধিক বিশ্লেষক। তাদের মতে, এই বাঙালি হিন্দুরা নতুন করে রাজনীতির শিকার হতে পারে।

গত ৩১ আগস্ট এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে কমপক্ষে ২০ লাখ বাঙালি হিন্দু বাদ পড়ে। এর আগে ২০১৮ সালের জুলাইয়ের খসড়া নাগরিক তালিকায় মোট বাদ পড়েছিল ৪০ লাখ মানুষ। এসব ঘটনায় সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াগুলোই মূলত আসামে ফের এনআরসি করতে উৎসাহিত করছে বিজেপিকে। ভুল শুদ্ধ করে বাদ পড়াদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হবে কি হবে না, তা বিজেপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলেও মনে করছে দ্য ওয়ার।

বিশ্লেষকদের একপক্ষ বলছেন, আসামে নতুন করে এনআরসি করে বাদ পড়া বাঙালি হিন্দুদের তালিকাভুক্ত করতে চাইছে বিজেপি সরকার। আসাম সরকারের এনআরসি প্রত্যাখ্যান শুধু বিজেপিকে সময় পাইয়ে দেওয়ার জন্য। এই সময়ে মোদি সরকারকে পার্লামেন্টের অধিবেশনে সিটিজেনশিপ বিল (নাগরিকত্ব আইন) পাস করাতে হবে। আর বিলটি আইন হয়ে গেলে ভারতের সর্বত্র এনআরসি করা বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে।