নিউমোনিয়া শনাক্তে পুঁতির মালা|182297|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
নিউমোনিয়া শনাক্তে পুঁতির মালা
প্রতিদিন ডেস্ক

নিউমোনিয়া শনাক্তে পুঁতির মালা

কেনিয়ায় প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। নিউমোনিয়া প্রতিরোধে দেশটির সরকারি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। বেসরকারি পর্যায়েও অনেককে উদ্যোগ নিতে দেখা যায় নিউমোনিয়া প্রতিরোধে। দেশটির উত্তরাঞ্চলের তেমনি একজন গ্রাম্য ডাক্তার বিটরাইস লোকওয়াই। উত্তরের গ্রামের পর গ্রাম তিনি ঘুরে বেড়ান আর শিশুদের চিকিৎসা করেন।

শিশুদের চিকিৎসা ছাড়াও তিনি নিউমোনিয়া শনাক্ত করার কাজটিও করেন। এই নিউমোনিয়া শনাক্তে তিনি এক বিকল্প প্রাকৃতিক পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছেন। পুঁতির মালা দিয়ে তিনি কোনো ব্যক্তির শরীরে নিউমোনিয়া আছে কি না তা পরীক্ষা করেন। একটি শিশুকে দেওয়া মালার প্রতিটি পুঁতি ওই শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের গণনা হিসেবে থাকে। শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাসের মাত্রা নিরূপণ করা হয় ওই পুঁতি দিয়ে।

একটি শিশু একবার শ্বাস-প্রশ্বাস নিলে একটি পুঁতি আলাদা করা হয়। ওই শিশুর গলার মাথায় ৫০টির বেশি পুঁতি হয়ে গেলে, তাকে নিউমোনিয়া আক্রান্ত বলে ধরে নেন ওই চিকিৎসক। এমন অবস্থায় ওই শিশুকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন বিটরাইস। তার মতে, শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে শুরু করলে বোঝা যাবে সে আপাতত নিরাপদ।

বিবিসিকে বিটরাইস বলেন, ‘কীভাবে পুঁতি নিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস গণনা করতে হবে তা আমাকে শেখানো হয়েছে। এ কারণেই আমি বলে দিতে পারি কোন শিশুর নিউমোনিয়ার বিপদের মধ্যে রয়েছে। মূলত অপুষ্টি, বায়ুদূষণ ও অনিরাপদ পানির কারণে নিউমোনিয়ার সৃষ্টি হয়।’

সাত বছর ধরে গ্রামের মানুষদের চিকিৎসা দেওয়া বিটরাইস নিজের ইচ্ছায় গ্রাম্য চিকিৎসক হয়েছেন, যাতে তিনি মানুষের সেবা করতে পারেন। কেনিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো কাঠোমোভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে প্রচলিত রোগ ও এর প্রতিরোধ-প্রতিকার নিয়ে খুব একটা জানেন না স্থানীয়রা। কদাচিৎ আসা সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা গ্রামবাসীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন না, অবকাঠামোগত পরিস্থিতি না থাকার ফলে।

বিটরাইস আরও বলেন, ‘একটা গ্রামে একবারে ১০ জন নারী ও তাদের সন্তানদের দেখা সম্ভব হয়। পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের আমি বেশি দেখে থাকি।’

দেশটির তুরকানা অঞ্চলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জার্টুড নাসিকে বলেন, ‘গ্রামে কাদের নিউমোনিয়া রয়েছে তা নির্ধারণ করা আমাদের জন্য খুব একটা সহজ নয়। কিন্তু পুঁতির মালা পদ্ধতির ফলে অন্তত আমাদের কাছে তারা আসতে পারেন যাদের এই রোগ হয়েছে।

প্রতিদিন রোদে পুড়ে হেঁটে বেড়ান বিটরাইস। উত্তরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে তিনি বেশ পরিচিত মুখ, আর তাকে সবাই বেশ সম্মানও করে।