জীবন বাঁচাতে পারে খেলনাও|182310|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
জীবন বাঁচাতে পারে খেলনাও

জীবন বাঁচাতে পারে খেলনাও

খেলনা বানানো হয় শিশুদের আনন্দ দেওয়ার জন্য। বিভিন্ন কার্টুন চরিত্রের খেলনাগুলো শিশু-কিশোরসহ সব বয়সীই পছন্দ করেন। প্রিয় চরিত্রগুলো টেলিভিশনের পর্দায় জীবন্ত মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। এরপরও মানুষের খেলার সাথী হয়েও বিপদে প্রাণ বাঁচিয়েছে এমন কিছু অদ্ভুত ঘটনা আছে। এমন কয়েকটি ঘটনা নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

আফগানিস্তান যুদ্ধে খেলনা ট্রাক

ইরাকে ডিউটি শেষে আফগানিস্তানে আসার ডাক পড়েছিল স্টাফ মার্কিন সার্জেন্ট ক্রিস্টোফার ফেসেনডেনের। যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার কারণে তাকে নানা ধরনের অস্ত্র, হেলমেট, ইউনিফর্ম, বুট জুতাসহ অনেক কিছু নিয়ে কাজ করতে হতো। ভাইকে এত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে সব সময় যেতে হতো বলে প্রায় সময় চিন্তিত থাকতেন ক্রিস্টোফারের ভাই এরনি ফেসেনডেন। তিনি সব সময় চাইতেন তার ভাই ভালো থাকুক আর নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসুক। যেহেতু যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে ভাইকে সাহায্য করা সম্ভব নয়, তাই তিনি ভাবলেন ভাইকে তিনি এমন কিছু দেবেন যা তার সঙ্গে সব সময় থাকবে আবার তাকে নিরাপদেও রাখবে। অনেক ভেবেচিন্তে কেভিন গাই নামে এক খেলনার দোকানের মালিকের সঙ্গে মিলে এরিন ভাইয়ের জন্য বানালেন রিমোট কন্ট্রোলচালিত একটি খেলনা ট্রাক। তাতে জুড়ে দিলেন একটি ওয়্যারলেস ভিডিও ক্যামেরা। ২০০৭ সালে ভাইয়ের হাতে আফগানিস্তানে পৌঁছে গেল সেই ট্রাক।

ক্রিস্টোফার তার সৈন্যদলের সঙ্গে কোনো মিশনে বের হলেই ট্রাকটি ব্যবহার করতেন। তারা যেখানেই টহল দিতে যেতেন, ট্রাকটিও তাদের সঙ্গে থাকত এবং আশপাশে কোনো জায়গায় বোমা থাকলে তার উপস্থিতি জানান দিত।

অনেক দিন সঙ্গে থেকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করলেও ২০১১ সালে এসে ট্রাকটি জীবন বাঁচায় ক্রিস্টোফার এবং তার দলের। এক সকালে সৈন্যদলের টহলের সামনে ক্রিস্টোফার কী ভেবে যেন ট্রাকটি রাখলেন। রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে ট্রাকটির মাধ্যমে তারা দেখতে পেলেন সামনেই অসংখ্য তার প্যাঁচানো কোনো একটা জিনিস পড়ে আছে। আরও ভালো করে বোঝার জন্য ট্রাকটিকে যখন জিনিসটার কাছে পাঠানো হলো, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি ভয়ংকর শব্দে বিস্ফোরিত হলো। সেটি ছিল ৫০০ পাউন্ডের একটি বোমা। ট্রাকটি সেই বিস্ফোরণে চুরমার হয়ে গেলেও বেঁচে গেলেন ছয়জন সৈন্য।

খেলনা ট্রাকের মাধ্যমে জীবন বাঁচানোর এ ঘটনা পরদিন সকালে ক্রিস্টোফার তার ভাই এরনিকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানান। এরনি এ সংবাদ দিতে ছুটে যান কেভিনের কাছে। এরনি বারবার বলছিলেন, খেলনার জায়গায় তার ভাই ক্রিস্টোফারও থাকতে পারতেন। এরনি চেয়েছিলেন ভাই যেন যুদ্ধময়দানেও নিরাপদ থাকে। তিনি সেটা পেরেছেন। ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে এরনি যদি সে সময় ট্রাকটি না বানাতেন, তাহলে সেদিন হয়তো ভাইসহ জীবন হারাতে হতো অনেক সৈন্যকে।

ভেসে থাকা কচ্ছপ জীবন বাঁচায় ১৩ জনের

চোখের সামনে যখন দেখতে পাবেন মানুষ ভেসে যাচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ে সাহায্য পাওয়ারও সম্ভাবনা নেই, তখন কী করবেন আপনি? নিশ্চয়ই চেষ্টা করবেন আশপাশে যা আছে তাই দিয়ে মানুষগুলোকে সাহায্য করার? ঠিক এমনভাবেই খেলনার দোকান থেকে একটি খেলনা নিয়ে ১৩ জন মানুষের জীবন বাঁচিয়েছিলেন একজন পুলিশ সদস্য। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে চীনের হুনান রাজ্যের লিউইয়াং শহরে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা শুরু হয়। সে সময় একটি বাড়িতে আটকা পড়েন ১৩ জন মানুষ। পানির পরিমাণ এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল, মানুষগুলোর জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে গিয়েছিল। হুনান রাজ্যের চাংসার এলাকা থেকে তৎক্ষণাৎ পুলিশ আসে পানিতে আটকে থাকা মানুষদের জীবন বাঁচাতে। তারা জানতেন তাদের দ্রুত কাজ করতে হবে। সে মুহূর্তে তারা কোনো নৌকা পাচ্ছিলেন না, যার সাহায্যে মানুষদের বাড়ি থেকে তারা উদ্ধার করবেন। এলাকাতেই তারা তখন পেয়ে গেলেন একটি খেলনার দোকান আর নিয়ে নিলেন পানিতে ভাসমান সবুজ রঙের একটি কচ্ছপ। যদিও এতে বসার জায়গা নিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছিল, তবু দুই ঘণ্টার মধ্যেই তারা ১৩ জন পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করলেন। খেলনার মাধ্যমে এতগুলো মানুষের জীবন বাঁচানোর ঘটনা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে পরে পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, কচ্ছপটা আসলেই অনেক সুন্দর। কিন্তু সেই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি ছিল মানুষগুলোর জীবন বাঁচানো। আমরা আনন্দিত যে, একটি খেলনার মাধ্যমে এতগুলো মানুষের জীবন আমরা বাঁচাতে পেরেছি।

বোমার হাত থেকে জীবন বাঁচায় পুতুল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে বোমাবর্ষণ করে জার্মানি। লন্ডনের মতো অনেক বড় ক্ষতি না হলেও এ হামলায় ওয়েলসের ৯৮৪ জন মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন প্রায় ১ হাজার ২২১ জন মানুষ।

১৯৪০ সালের সেপ্টেম্বরের এক সকালে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের হেভারফোর্ডওয়েস্ট শহরে একটি জার্মান বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বোমায় মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক হলেও সে ঘটনায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যায় দুই বছর বয়সী ডরোথি ওয়েন। যখন আকাশ থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হয়, তখন বেশ কিছু বাড়ির মতো ডরোথির ঘরের ছাদও ভেঙে পড়েছিল। এ ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ডরোথির মা দৌড়ে ওপরে আসেন। তিনি ভেবেছিলেন মেয়েকে আর জীবিত অবস্থায় পাবেন না। কিন্তু ঘরে ঢzকেই তিনি দেখলেন ছোট্ট ডরোথি দিব্যি বেঁচে আছে। শুধু গাল আর ঘাড়ের কিছু অংশ কেটে যাওয়া ছাড়া ডরোথির তেমন কিছুই হয়নি। কিন্তু কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেল সে? এ ঘটনার পেছনেও আছে এক পুতুল। ঠিক যে সময় বোমা নিক্ষেপ করা হয়, ঠিক সেই সময়টিতেই ডরোথি তার খেলতে থাকা পুতুলটি নিজের মাথার ওপর নিয়ে রেখেছিল। আর পুতুলটির মাথার ওপরই ছাদের খানিক অংশ ভেঙে পড়ে। পুতুলটির মাথাটি শক্ত থাকায় সেটির কিছুটা ক্ষতি হয় কিন্তু বেঁচে যায় ডরোথি। সেই বয়সে মৃত্যুকে এত কাছ থেকে দেখে তার হয়তো তেমন একটা ভাবান্তর হয়নি কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন বাবা-মা।

হেভারফোর্ডওয়েস্টের শিক্ষা বিভাগে কাজ করতেন ডরোথির বাবা। কিন্তু সে সময় তিনি ছিলেন নারবার্থে। বাড়ি ফিরে আসার সময় তিনি জানতে পারেন তার বাড়িতে যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ। কারণ সেখানে সবেমাত্রই একটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি পরিবারের চিন্তায় ভীষণ অস্থির হয়ে পড়েন। ভিন্ন পথ ধরে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে তিনি দেখতে পান তার বাড়ির গ্যারেজ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর সেখানে তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি গর্ত।

পরিবারের চিন্তায় বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ডরোথির বাবা। নিশ্চিন্ত হন যখন জানতে পারেন সবাই সুস্থ আছেন। সে রাতে অনেকের সাহায্যে বাড়ি থেকে নিরাপদে বের হয়েছিলেন ডরোথি এবং তার মা। দুই বছর বয়সে আশ্চর্যজনকভাবে পুতুলের সাহায্যে বেঁচে যাওয়া ডরোথি কয়েক বছর আগে এ ঘটনা নিয়ে একটি ইন্টারভিউ দেন। সেখানে তিনি জানান, নিশ্চিত মৃত্যু কী জিনিস সেটা সেই বয়সে না বুঝলেও বড় হওয়ার পর ঠিকই বুঝতে পেরেছেন। জীবন বাঁচানো সেই পুতুল তিনি আজও তার কাছে স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন। তার শরীরে বিস্ফোরিত বোমার আঘাতে সেই ক্ষতচিহ্নগুলোও সবাইকে দেখিয়েছিলেন তিনি।

জীবন বাঁচিয়েছে মিনিয়ন

কার্টুন ভালোবাসে এমন মানুষের মধ্যে মিনিয়ন খুব পরিচিত একটি নাম। ছোট্ট শিশুরা তো বটেই বড়দের মধ্যেও পছন্দের তালিকায় শীর্ষে আছে মিনিয়নের নাম। হলুদ রঙের দারুণ সুন্দর এই ক্যারেক্টারটি জয় করে নিয়েছিল অনেক মানুষের মন। মিনিয়ন নিয়ে প্রথম কার্টুন ‘ডেসপিকেবল মি’ শুরু হয়েছিল দারুণভাবে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই ক্যারেক্টার দিয়ে তৈরি করা সিনেমার আয় ছিল ১ দশমিক ১৫৯ বিলিয়ন ডলার। মিনিয়নের উপস্থিতি তখন আর শুধু সিনেমার পর্দাতেই থাকেনি, উঠে এসেছিল শিশুদের খেলনা, স্কুল এক্সেসরিজের মতো বিভিন্ন জিনিসের মধ্যে। পরে এই চরিত্র নিয়ে তৈরি হয়েছিল আরও সিনেমা। কিন্তু সিনেমায় আনন্দ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে জীবনও বাঁচাবে মিনিয়ন, সেটা কি কেউ জানত?

২০১৫ সালের ১৬ জুলাই রাতে কলোরডোতে পাঁচ বছর বয়সী একটি ছোট্ট মেয়ে পরিবারের সবার সঙ্গে বসে খেলছিল। মেয়েটি ছিল ভবনের তিনতলায়। খেলার একপর্যায়ে সবার চোখের আড়াল হয়ে যায় সে। আর তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। মেয়েটি তিনতলার জানালা দিয়ে নিচে পড়ে যায়। এত উঁচু থেকে পড়ে গিয়েও শুধু মিনিয়নের কারণে বেঁচে যায় শিশুটি। পড়ে যাওয়ার আগে তার হাতে ছিল প্রিয় খেলনা মিনিয়নের পুতুল। সে যখন নিচে পড়ে যায় তখন তার হাত থেকে পুতুলটি আগে নিচে পড়ে এবং মেয়েটি ঠিক পুতুলের ওপরই পড়ে। দুর্ঘটনায় তার এক হাত ভেঙে গেলেও নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যায় সে। ফোম দিয়ে তৈরি হওয়ার কারণে পুতুলটি কাজ করেছিল কুশন হিসেবে। সিনেমায় মিনিয়ন সুপারভিলেনের হয়ে কাজ করলেও বাস্তব জীবনে সে কাজ করেছিল সুপারহিরোর মতো।

গাড়ির ধাক্কায়ও জীবন বাঁচায় ওয়াগন

২০১৯ সালের জুলাই মাসের এক সকালে ১৫ মাস বয়সী ছেলে আর দুই বছর বয়সী মেয়েকে লাল রঙের একটি প্লাস্টিক ওয়াগনে বসিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন বাবা। ঠিক সে মুহূর্তেই রাস্তায় কোনোদিকে ভালোভাবে খেয়াল না করে দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছিলেন ২৯ বছর বয়সী নারী লেটোয়া পালমো। ওয়াগনে বসা দুই শিশুকে মুহূর্তেই ধাক্কা দিয়ে প্রায় ৫০ ফুট দূরত্বে নিয়ে যায় গাড়িটি। এমন অবস্থায় তাদের জীবন্ত ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে শিশু দুটি বেঁচে গেলেও শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ওয়াগনটি এক ধরনের খেলনার মতো। তবে সেটি বানানো হয়েছিল মজবুত প্লাস্টিক দিয়ে, যার কারণে তারা বেঁচে যায়। শিশু দুটি একদম ছোট হওয়ায় তারা একই সঙ্গে ওয়াগনে বসতে পেরেছিল। পরে সেই নারীকে পুলিশ আটক করে এবং শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বাঁচিয়েছিল ভিডিও গেমের ড্রাইভিং

ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিশুরা ভিডিও গেম খেলছে– এ দৃশ্য খুব পরিচিত। বাড়ির অভিভাবকদের এ নিয়ে যেন অভিযোগের শেষ নেই। অবশ্য ভিডিও গেম শুধু শিশুরাই খেলে এমন নয়। বড়রাও অনেক ড়্গেত্রে ভিডিও গেম খেলার প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্ত থাকেন। আর ভিডিও গেমের মধ্যে ড্রাইভিংটা অনেকেরই পছন্দ।

এ কথা কেউই অস্বীকার করেন না যে, ভিডিও গেম মানেই চোখের ক্ষতি, শরীরের ক্ষতি, মানসিক ক্ষতি। কিন্তু সব সময় ক্ষতির হিসাব না করে মানুষের জীবনও যে বাঁচে ভিডিও গেমের সাহায্যে, সেটিও অস্বীকার করার উপায় নেই।

কলোরডোর গোল্ডেনের ১০ বছর বয়সী ছেলে গ্রিফিন স্যান্ডার। এক দিন সে তার ছোট ভাই আর দাদিকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে যাচ্ছিল। গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন গ্রিফিনের দাদি। হঠাৎ মাঝপথে অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে যান দাদি। চলন্ত গাড়িতে তার জ্ঞান ফেরাতে না পেরে দিশেহারা হয়ে যায় দুই ভাই। কিন্তু মুহূর্তেই গ্রিফিন একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। সামনে সে ট্রাফিক দেখতে পায় আর বুঝে ফেলে এখনই গাড়ি থামাতে না পারলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে সে চালকের আসনে বসে যায়।

দ্রুত গতিতে চলতে থাকা সেই গাড়িকে ধীরে সে রাস্তার একপাশে সাইড করে রাখে। মুহূর্তের মধ্যে নেওয়া এমন সিদ্ধান্তে কারও কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতি ছাড়া অনেক বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায় তারা। সেখান থেকে তার দাদিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু সবাই বিস্মিত হয়েছিলেন দশ বছর বয়সী এক বালকের এমন সিদ্ধান্তে। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সে কী করে গাড়ি চালিয়ে সেটাকে রাস্তার পাশে সাইড করল, সবাইকে অবাক করে দিয়ে গ্রিফিন একটি মজার তথ্য দেয়। সে জানায়, বাসায় সে নিয়মিত ভিডিও গেম খেলে। আর সেখানে ড্রাইভিংটাই তার বেশি পছন্দের। ভিডিও গেম খেলতে গিয়েই সে শিখেছে কী করে গাড়ি চালানোর সময় মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হয় এবং নিরাপদ থাকতে হয়। হুট করে যখন এমন একটি বিপদ আসল তখন সে ভিডিও গেম থেকে শেখা সেই শিক্ষাই কাজে লাগিয়েছে।