মস্তিষ্কের বার্ধক্যজনিত রোগ পারকিনসন্স|182313|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
মস্তিষ্কের বার্ধক্যজনিত রোগ পারকিনসন্স

মস্তিষ্কের বার্ধক্যজনিত রোগ পারকিনসন্স

পারকিনসন্স হলো মস্তিষ্কের এক ধরনের ক্ষয়জনিত রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশের কার্যক্ষমতা কমে যায়। ১৮১৭ সালে এই রোগের প্রথম বর্ণনা দেন ডা. জেমস পারকিনসন্স।

সাধারণত ৫৫ বছর বয়সের পর মানুষ পারকিনসন্স রোগে বেশি আক্রান্ত হন। কিন্তু তরুণরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এই রোগকে সাধারণত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি পারকিনসন্স– দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

প্রাইমারি পারকিনসন্সের সাধারণত কারণ জানা যায় না। সেকেন্ডারি পারকিনসন্স সাধারণত মস্তিষ্কের প্রদাহ-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন টক্সিন (এমপিটিপি, ম্যাংগানিজ, কার্বন-মনক্সাইড), কিছু ওষুধ (রেসারপিন, আলফামিথাইল ডোপা), মস্তিষ্কের টিউমার কিংবা আঘাত, স্ট্রোক ইত্যাদি কারণে হতে পার। এই রোগ মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিকারী বিশেষ কোষকে ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের আনুপাতিক ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয় এবং চলাচলে অসুবিধা হয়।

উপসর্গ

 সাধারণত বয়স্ক (৫০-এর ঊর্ধ্বে) লোকদের এ রোগের লক্ষণসমূহ দেখা দেয়। লক্ষণসমূহ আস্তে আস্তে প্রকাশিত হয়।

 বিশ্রামরত অবস্থায় হাত-পায়ের কম্পন।

 হাত-পায়ের মাংসপেশি শক্ত বা দৃঢ় হয়ে যাওয়া।

 হাত-পায়ের সঞ্চালন বা নড়াচড়া কমে যাওয়া বা ধীরগতি হয়ে যাওয়া।

 হাঁটা-চলাফেরার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।

 স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, অনিদ্রা, মানসিক দুশ্চিন্তা হওয়া এবং যৌনশক্তি হ্রাস পাওয়া।

অন্য লক্ষণসমূহ

 ভাবলেশহীন মুখ-অবয়ব।

 মুখ দিয়ে লালা পড়া।

 হাঁটা বা চলাচল শুরু করতে দেরি হওয়া।

 ছোট পদক্ষেপে, হাঁটার সময় হাত না নড়া।

 হাঁটতে হাঁটতে ঘুরতে গেলে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।

 সব সময় হাত-পা কাঁপা, মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া।

 সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা হারানো।

ইত্যাদি নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকে পারকিনসন্স রোগীদের জীবন।

চিকিৎসা

ওষুধ ও পুনর্বাসন হচ্ছে পারকিনসন্সের প্রাথমিক চিকিৎসা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগের তীব্রতা অনুযায়ী ওষুধের ডোজ ঠিক করেন এবং ডোজের কম-বেশি করে থাকেন। আর পুনর্বাসন চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে ফিজিওথেরাপি যা চলাফেরা, ভারসাম্যহীনতা, কথা বলা, কোনো কিছু গিলতে সাহায্য করবে এবং দৈনন্দিন কাজগুলো করতে সাহায্য করবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু রোগীর ড়্গেত্রে সার্জারি অথবা ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন ইত্যাদির প্রয়োজন হতে পারে।