‘ভালো মানের ক্রিকেটই আসল, গোলাপি বল নয়’|182322|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
‘ভালো মানের ক্রিকেটই আসল, গোলাপি বল নয়’

‘ভালো মানের ক্রিকেটই আসল, গোলাপি বল নয়’

প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট এবং পিঙ্ক বল নিয়ে ভারতজুড়ে অনেক কথাবার্তাই হচ্ছে। সাবেকরা ব্যস্ত তাদের মতপ্রকাশে। এই মিছিলে শামিল ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান শচিন টেন্ডুলকার। দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিবা-রাত্রির এবং গোলাপি বল নিয়ে কথা বলেছেন মাস্টার ব্যাটসম্যান। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটকে আরও চমকপ্রদ করে তুলবে দিবা-রাত্রির টেস্ট। বলের রং বদলটা তার কাছে মুখ্য নয়। ইডেনে ভারত-বাংলাদেশ দিবা-রাত্রির টেস্টের আগের দিন দেওয়া টেন্ডুলকারের সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো দেশ রূপান্তরের পাঠকদের জন্য–

প্রশ্ন : দিবা-রাত্রির টেস্ট নিশ্চয় টেস্ট ক্রিকেটকে দর্শকদের কাছে চমকপ্রদ করে তুলবে?

শচিন টেন্ডুলকার : দিবা-রাত্রির টেস্ট অবশ্যই সমর্থকদের গ্যালারিতে টানবে। এটা নতুন ব্যাপার এবং নতুন সব কিছুই সবসময় আগ্রহ তৈরি করে। মানুষ অপেক্ষায় আছে পার্থক্যটা বোঝার জন্য। সবার দৃষ্টি কাড়তে নতুন সব কিছুই বড় ভূমিকা রাখে। সেটা ক্রিকেটের ড়্গেত্রেও প্রযোজ্য। একটা বিষয় নিয়ে চিন্তিত, সেটা হলো শিশির কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না।

প্রশ্ন : তবে পিঙ্ক বল খানিকটা সমস্যা তৈরি করতেই পারে। বিশেষ করে সিম বল সামলানো কঠিন হওয়ার কথা। কী মনে করেন?

টেন্ডুলকার : পড়ন্ত বেলাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়টা এমন যখন আপনার বলটা ভালোভাবে দেখতে সমস্যা হবে। একজন ভালো ব্যাটসম্যান সবসময় সিম পরখ করে খেলেন, এটা সাধারণ নাকি রিভার্স সুইং সেটা দেখেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন। আমি আসলে বুঝতে পারছি না কতটা কঠিন হবে। তাই আপনাকে অবশ্যই বোলারের কবজির দিকে ভালো করে লক্ষ রাখতে হবে, দেখতে হবে আঙzলগুলো কোনদিকে ঘুরছে।

প্রশ্ন : বাড়তি মুভমেন্ট ব্যাটসম্যানরা কীভাবে সামলাবে?

টেন্ডুলকার : আমি নিজে যেহেতু কখনো গোলাপি বলে খেলিনি, তাই এটা বলা মুশকিল। আদর্শ হবে যদি ব্যাট আর বলের ব্যালেন্সটা ঠিক রাখা যায়। সেটা কেন যেন এই বলের খেলাগুলোতে খানিকটা অনুপস্থিত। ব্যাটসম্যান ও বোলারদের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকলে খেলাটা আরও বেশি উপভোগ্য হবে। তাছাড়া কোন উইকেটে আপনি খেলছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। আর সবচেয়ে আগে প্রয়োজন ভালো ক্রিকেট খেলা।

প্রশ্ন : ভালো ক্রিকেটের ব্যাখ্যা দেবেন খানিকটা?

টেন্ডুলকার : ইংল্যান্ডে টেস্ট ক্রিকেটের কদর কিন্তু এখনো অটুট আছে; কারণ তারা খেলাটা খেলে আদর্শ উইকেটে, যেখানে থাকে গতি আর বাউন্স। ম্যানচেস্টারে সর্বশেষ অ্যাশেজে উইকেট খানিকটা শ্লথ ছিল এবং টেস্টও এগিয়েছে শ্লথগতিতে। কিন্তু লর্ডস কিংবা হেডিংলিতে উইকেট ছিল গতিময়। তাই ম্যাচগুলোও ছিল উপভোগ্য। আমি বলছি না যে আমাদের কেবল পেসবান্ধব উইকেটে অভ্যস্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বরাবরের মতো স্পিনিং উইকেটেও খেলা প্রয়োজন। টেনিসেও আলাদা আলাদা কোর্টে খেলা হয়। উইম্বলডন যেমন ঘাসের কোর্টে হয়; তেমনি ফ্রেঞ্চ, ইউএস, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন হয় কৃত্রিম কোর্টে। ক্রিকেটেও তাই। আপনাকে যেকোনো উইকেটেই অভ্যস্ত হতে হবে। সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাপার হচ্ছে ব্যাটে-বলে সামঞ্জস্য, যা অনেক বেশি আকর্ষণ বাড়াবে। বলের রং কিন্তু সেটা করতে পারবে না।

প্রশ্ন : টেস্ট শুরু হবে বেলা ১টায়। শিশিরের সমস্যাটা থাকবে কেবল শেষ সেশনে...

টেন্ডুলকার : আমি আগেই বলেছি গোধূলি লগ্নটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়টায় প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটে এবং শিশির পড়তে শুরু করে। এ সময়টায় সিমারদের বল করা কঠিন হবে। সিমও অন্যরকম ব্যবহার শুরু করবে। দেখতে হবে আপনি কীভাবে বলটা খেলছেন কিংবা ডিফেন্স করছেন। ম্যাচটা শুরু হবে দুপুর ১টায়। শেষ রাত ৮টায়। অর্থাৎ শিশিরের প্রভাব থাকবে সাড়ে ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত। এ সময় উইকেট অন্যরকম আচরণ করার কথা। উইকেট এ সময় ঠাণ্ডা হতে শুরু করবে। ফলে অনেক কিছুই হতে পারে। তাই আপনাকে রান করার জন্য সঠিক কৌশলটাই বের করতে হবে। এখানে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন ইনিংস ঘোষণা করে ওই সময়ে প্রতিপক্ষ দলকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর। কারণ, এ সময় ব্যাট করা সত্যিই কঠিন হবে।

প্রশ্ন : আরেকটা ইতিহাসের সাড়্গী হচ্ছে ইডেন গার্ডেনস। আপনার অনুভূতি কী?

টেন্ডুলকার : ইডেনে যখনই টেস্ট হয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এটা হয়ে যায় বড় কিছু। কীভাবে একটা দিনকে বিশেষ রূপ দিতে হয় তা কলকাতার মানুষ জানে। কলকাতা আমার কাছেও দারুণ সুখময় স্মৃতি। কারণ, এখানে সবসময় আমি দারুণ সমর্থন পেয়েছি, যা আমাকে এখনো শিহরণ জাগায়।

প্রশ্ন : আপনার কি মনে হয় গোলাপি বলে টেস্ট ম্যাচ ভারতীয় ক্রিকেটের বর্ষপঞ্জিতে হওয়া উচিত?

টেন্ডুলকার : আমার মনে হয় না গোলাবর্ষণের আগেই বুলেট কামড়ে ধরার কোনো কারণ আছে। দেখা উচিত এই অভিজ্ঞতাটা সবার কাছে কেমন হয়। যদি এখানে অনেক বেশি শিশির থাকে, তাহলে ব্যাপারটা অন্যরকম হবে।

প্রশ্ন : সৌরভ গাঙ্গুলি এখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি। ক্রিকেটারদের প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়াটা কোন চোখে দেখছেন?

টেন্ডুলকার : ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ড়্গেত্রে ক্রিকেটার প্রশাসকরা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। তাদের মাঠ ও মাঠের বাইরের অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগে। সৌরভ বেশ কয়েক বছর ধরেই পশ্চিমবঙ্গ ক্রিকেটের দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাকে বিসিসিআই সভাপতি হওয়ার ড়্গেত্রে সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে মাঠের বাইরের কিছু মানুষও ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম জগমোহন ডালমিয়া, ইন্দরজিৎ সিং বিন্দ্রা, শ্রীনিবাসন, শারদ পাওয়ার। হয়তো অন্য কারও কারও নাম এখন আমি মনে করতে পারছি না।

প্রশ্ন : এম এস ধোনির অবসর নিয়েও অনেক কথা হচ্ছে। আপনি কী বলবেন?

টেন্ডুলকার : একটা বিষয় পরিষ্কার যে, তার হাত ধরে অনেক সাফল্য এসেছে। সুতরাং সে নিজেই নিজের ভালোমন্দ সম্পর্কে অবগত। দেশ এবং দলের স্বার্থেই আমি মনে করি তার পরিকল্পনাটা তিনি বোর্ড সভাপতি অথবা নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধানকে জানাবেন। এটা আসলে ব্যক্তিগত নয়। এটা ভারতের ভবিষ্যতের জন্যই জানাটা জরুরি। সিদ্ধান্তটা একান্তই তার। এবং এটা সবাইকে এক এক করে জানানোরও কিছু নেই। আমি মনে করি তাকে একা থাকতে দেওয়া উচিত।