আবার পেঁয়াজ সঙ্গে ময়দাও|182349|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
আবার পেঁয়াজ সঙ্গে ময়দাও
কেজিতে বেড়েছে ৩০ ও ৮ টাকা
আরিফুর রহমান তুহিন

আবার পেঁয়াজ সঙ্গে ময়দাও

লাগামহীন বাজারে খাদ্যপণ্যের দামও চড়ছে যথেচ্ছভাবে। রাজধানীর বাজারে গত এক মাসে চাল, ময়দা, আলু, পেঁয়াজ, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য অযৌক্তিক দামে বিক্রি হয়েছে। অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হয়েছে সবজি ও মাছও। শসা, টমেটো ও গাজর তিন মাস ধরে ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ২০০ টাকার নিচে মিলছে কেবল তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ। বিক্রেতারা যে যার মতো পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। সরকারের অনুরোধ কানে তুলছেন না ব্যবসায়ীরা। পণ্য মজুদ থাকলেও বলছেন সরবরাহ নেই, সবজির উৎপাদন উদ্বৃত্ত হলেও বলছেন পরিবহন খরচ বেশি। অজুহাতের শেষ নেই বিক্রেতাদের। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ করা ছাড়া করার কিছু থাকছে না। এ পরিস্থিতিতে আগামীকাল রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ভবনে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বাজার-সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে করবেন বলে জানা গেছে।

দেশ রূপান্তর গত এক মাস রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পর্যবেক্ষণ করেছে। দেখা গেছে, মাসব্যাপী অস্থিতিশীল বাজারে চালের দাম কেজিতে ৬-৭ টাকা বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম বেড়ে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে কয়েক দিন, এ সময়ে পণ্যটির সর্বোচ্চ দাম ছিল ২৬০ টাকা। সয়াবিনসহ ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩-৫ টাকা। আলুর দাম কেজিতে এক লাফে বেড়েছে ৮-১০ টাকা। শীতকালীন আগাম সবজি শিমের দাম কিছুটা কমলেও এখনো চড়া। অন্যান্য শাক-সবজির দরও বেড়ে পৌঁছেছে অযৌক্তিক পর্যায়ে। এক দিন দাম কমলে, পরের দিন বাড়ছে।

মা ইলিশ রক্ষায় গত মাসে ২২ দিন (৯-৩০ অক্টোবর) ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময় বাজারে মাছের সরবরাহ কমার অজুহাতে সব ধরনের মাছের দাম বাড়ে। চলতি মাসের শুরু থেকে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম সেইভাবে কমেনি। ১০ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আগাতে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিঘ্ন ঘটে। এতে সরবরাহ-সংকটের কথা বলে বিক্রেতারা আরেক দফা মাছের দাম বাড়ান। আর কমেনি মাছের দাম।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে গতকাল চালের মধ্যে মিনিকেট প্রতি কেজি ৫২-৫৪, ব্রি ২৮ ৪২-৪৬, নাজিরশাইল ৬২-৬৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সয়াবিন তেলের লিটার ৯০-১১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। দেশি পেঁয়াজের দাম ফের বেড়ে প্রতি কেজি ২০০-২১০, মিয়ানমারের ১৮০-২০০ ও মিসরের ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এদিন বাজারে রসুন (দেশি) ১৬০, রসুন (আমদানি) ১৯০, আলু (পুরাতন) ২৮-৩২, আলু (নতুন) ১০০-১২০, টমেটো, শসা, গাজর ১১০-১২০, শিম ৭০-৮০, ফুলকপি, বাঁধাকপি ৩৫-৪৫, শালগম ৫০-৬০, মুলা, পেঁপে, বেগুন, কাঁচামরিচ ৪০-৫০, করলা, বরবটি ৬০-৮০ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে। এদিন পুঁইশাক ২৫-৩০, ডাঁটা শাক (বড়) ২০-৩০, ডাঁটা শাক (ছোট) ১০-১৫, পালং শাক ১০-১৫, লাউ শাক ২৫-৩৫, লাল শাক ১০-১৫ টাকা দামে প্রতি অঁাটি বিক্রি হয়েছে। বাজারে কই, রুই, কাতল, মৃগেল (ছোট) ২০০-২২০, রুই, কাতল, মৃগেল (বড়) ৩৫০-৪২০, পাঙ্গাশ ১৩০ ও তেলাপিয়া ১৩০-১৬০ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে। অপরিবর্তিত ছিল মাংস ও ডিমের দাম।

বাজারে ময়দা ও আটার দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দোষ দিচ্ছেন বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। আর বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বিশ্ববাজারে সংকটের পাশাপাশি দামও বেড়েছে। তবে প্যাকেট ময়দার দাম বাড়েনি। এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, কানাডার গমের দাম টনপ্রতি ২৫০ ডলার থেকে ৩৫ ডলার বেড়ে ২৮৫ ডলার হয়েছে। আবার ডলারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।’

বাজারে এমন অস্বাভাবিক দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী সুজন বলেন, ‘এখন পরিবহন খরচ অনেক বেশি। আবার বছর জুড়েই বৃষ্টি, বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ লেগেই থাকে। এতে ফলন আগের চেয়ে অনেক কমেছে। এজন্য কৃষকরাও একটু বাড়তি দাম নিচ্ছেন। তাই দাম একটু বেশি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে আগে যেভাবে সবজির, বিশেষ করে শীতকালীন সবজির দাম কমত এবার সেটা হবে না। কৃষকরা চালাক হয়ে গেছে। তারাও এখন কম দামে মাল দিতে চায় না।’

মহাখালী কাঁচাবাজারের ক্রেতা বাজারের এমন অস্বাভাবিক দামের বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘দোকানদারদের একই কথা সরবরাহ কম। কিন্তু বাস্তবে কখনই পণ্যের সংকট দেখা যায় না। মূলত প্রশাসনের তদারকির অভাবে দেশের প্রতিটি ড়্গেত্রে এমন নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে।’

আগামীকাল বাজার ইস্যুতে তিন মন্ত্রীর বৈঠক : নিত্যপণ্যের বাজারে চলমান অস্থিরতা নিয়ে আগামীকাল রবিবার বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ভবনে দুপুর ১২টায় শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বৈঠকে বসবেন। সেখানে চাল, ডাল, তেল ও পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, মজুদ পরিস্থিতি ও বাজারজাত নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এফবিসিসিআই থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (বিটিসি), প্রতিযোগিতা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।