বাংলাদেশকে কার্যকর ভূমিকা রাখার দাবি ৮ সংগঠনের|183177|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
বাংলাদেশকে কার্যকর ভূমিকা রাখার দাবি ৮ সংগঠনের
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশকে কার্যকর ভূমিকা রাখার দাবি ৮ সংগঠনের

আসন্ন জাতিসংঘের কপ-২৫ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনে (ইউএনএফসিসিসি) বাংলাদেশের সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখার দাবি জানিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা ৮ সংগঠন। সম্মেলনে ইউএনএফসিসিসির অধীনে বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসনের জন্য আলাদা  মেকানিজম প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে তারা। আগামী ২ থেকে ১৩ ডিসেম্বর স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের কপ-২৫ জলবায়ু সম্মেলন।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মাদ্রিদ জলবায়ু সম্মেলন ও নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরা হয়। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা ৮টি সংগঠন যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এরমধ্যে রয়েছে ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি), কোস্টাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন (কোস্ট) ট্রাস্ট, কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (সিডিপি), সেন্টার ফর পারটিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), ক্যাম্পেইন ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুড (সিএসআরএল), বাংলাদেশ জলবায়ু সাংবাদিক ফোরাম (বিসিজেএফ)।

সংবাদ সম্মেলনে ইক্যুইটিবিডির সৈয়দ আমিনুল হক চারটি মূল দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো– উন্নত ও ধনী দেশগুলোকে অবশ্যই বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসের জন্য তাদের প্রশমন কার্যক্রমের লক্ষ¨মাত্রা বাড়াতে হবে, বিনাশর্তে এবং সহ-অর্থায়ন ছাড়া অধিক সংকটাপন্ন দেশগুলোর জন্য সবুজ জলবায়ু তহবিলপ্রাপ্তি সহজ ও নিশ্চিত করা, প্যারিস চুক্তির ‘ধারা-৬’ অর্থাৎ গ্রিন হাউস গ্যাস হ্রাসকরণ লক্ষ¨ অর্জনে বাজারভিত্তিক বাস্তবায়ন কাঠামো ইউএনএফসিসিসির অধীনে হতে হবে এবং ‘ওয়ারশ ইন্টারন্যাশনাল মেকানিজম’-এর পর্যালোচনা করে বাস্তুচ্যুত এবং অভিবাসনের জন্য ইউএনএফসিসিসির অধীনে পৃথক কাঠামো তৈরি করতে হবে যাতে প্রকৃত বিপদাপন্ন দেশগুলো সহযোগিতা পায়।

তিনি বলেন, ‘আসন্ন কপ-২৫ জলবায়ু সম্মেলন আমাদের সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি প্যারিস চুক্তির ধারা-৬ বাস্তবায়ন করার উদ্দেশে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে চলেছে, যা গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসে সব দেশ তাদের প্রতিশ্রুত জাতীয়ভিত্তিক অবদানের ও বাজারভিত্তিক প্রশমন কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নের ড়্গেত্রে অনুসরণ করবে। এছাড়াও ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ ইস্যুটি পর্যালোচনাসহ পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হতে পারে যেখানে জলবায়ু বিপদাপন্ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়াও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে আরও কিছু মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। তবে তারা অভিযোগ করেন, জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে সরকারের কার্যক্রম এখন পর্যন্ত অপষ্ট এবং নাগরিক সমাজ কিংবা অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা মতামত বিনিময় করা হয়নি। দেশের অবস্থানকে জোরালো করতে এই সম্মেলনের সব ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজকে অন্তর্ভzক্ত করার জোর দাবি জানান তারা।

ইক্যুইটিবিডির মোস্তফা কামাল আকন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিএসআরএল-এর নির্বাহী পরিচালক জিয়াউল হক মুক্তা। আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী শামসুদ্দোহা, বিসিজেএফ-এর সভাপতি কাওসার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, ইক্যুইটিবিডির সৈয়দ আমিনুল হক, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, সিডিপির প্রধান সমন্বয়কারী আতিকুর রহমান টিপু প্রমুখ।