কাশ্মীরে হিন্দু বসতি স্থাপনে ইসরায়েলি মডেল অনুসরণ: ভারতীয় কূটনীতিক|183306|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০১৯ ১৯:০৫
কাশ্মীরে হিন্দু বসতি স্থাপনে ইসরায়েলি মডেল অনুসরণ: ভারতীয় কূটনীতিক
অনলাইন ডেস্ক

কাশ্মীরে হিন্দু বসতি স্থাপনে ইসরায়েলি মডেল অনুসরণ: ভারতীয় কূটনীতিক

ফিলিস্তিনে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের অনুকরণে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও হিন্দুদের জন্য স্থায়ী আবাস গড়ে তোলা হবে বলে দেশটির এক কূটনীতিক জানিয়েছেন।

মিডল ইস্ট আই ও এনডিটিভি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক সিটিতে ভারতীয় দূতাবাসের একটি অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল সন্দীপ চক্রবর্তীর এমন বক্তব্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া অনুষ্ঠানটির একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জম্মু ও কাশ্মীর বিষয়ে বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুর সঙ্গে তুলনা করছেন সন্দীপ চক্রবর্তী।

নব্বই দশকে স্বাধীনতাকামীদের হামলার শিকার হয় কাশ্মীরে পণ্ডিত গোষ্ঠী। সেই ঘটনায় সম্প্রদায়টির প্রায় লাখও মানুষ কাশ্মীর ছাড়তে বাধ্য হয়।

গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে অঞ্চলটির বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি সরকার। ভারত নিয়ন্ত্রিত এই অঞ্চলকে দুই ভাগ করে কেন্দ্রশাসিত রাজ্য করা হলে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা ফের উপত্যকায় ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।

তাদের কাশ্মীরে ফিরিয়ে আনতে ইসরায়েলের মডেল অনুসরণ করা হবে বলে নিউইয়র্কে নিযুক্ত এই ভারতীয় কূটনীতিক জানান।

সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, জম্মু-কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। এর মাধ্যমে কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের শরণার্থীরা সেখানে ফিরে যাবে এবং আজীবনের জন্য বসবাস করতে পারবে।’

কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ফিরে যেতে পারবেন, সেখানে আপনারা নিরাপত্তা পাবেন। এ রকম একটি মডেলের উদাহরণ ইতিমধ্যে পৃথিবীতে আছে। যেটি মধ্যপ্রাচ্যে ঘটেছে। আমরা কেন সেটি অনুসরণ করছি না। যদি ইসরায়েল করতে পারে আমরাও সেটি করতে সক্ষম হব।’

এই কূটনীতিক আরও বলেন, ‘ইহুদিরা তাদের দেশের বাইরেও ২ হাজার বছর ধরে নিজেদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। আমি মনে করি আমাদেরও কাশ্মীরি সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কাশ্মীরি সংস্কৃতি হলো ভারতীয় সংস্কৃতি, এটি হিন্দু সংস্কৃতি। আমরা কেউ কাশ্মীর ছাড়া ভারতকে কল্পনাও করতে পারি না।’

এই বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে নিউইয়র্কের ভারতীয় কনসাল জেনারেলের এমন বক্তব্য দেশে বিদেশে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক মোনা ভান বলেন, ‘আমি মনে করি, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগকে অঞ্চলটিতে ভারতের ঔপনিবেশিক বসতি স্থাপন প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত ৮০ দশকের শেষের দিকে জম্মু-কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামীদের ওপর ভারতীয় সেনার দমন-নিপীড়নে ৭০ হাজারো বেশি কাশ্মীরি নিহত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ১৯৮৯-৯৪ সালের মধ্যে ২১৯ জন কাশ্মীরি পণ্ডিত নিহত হয়। এর জন্য স্বাধীনতাকামীদের দায়ী করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগ আনা হয়।