বরিশাল মহানগর আ.লীগের সম্মেলন রবিবার|185469|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২০:৩১
বরিশাল মহানগর আ.লীগের সম্মেলন রবিবার
সাইফুর রহমান মিরণ, বরিশাল

বরিশাল মহানগর আ.লীগের সম্মেলন রবিবার

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন রবিবার। সম্মেলন ঘিরে নগরে সাজ সাজ অবস্থা বিরাজ করছে। সারা দেশেই আওয়ামী লীগের কমিটিতে নতুনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সেই হিসেবে বরিশাল মহানগর কমিটিতেও চমক থাকবে বলে আশা দলের নেতাকর্মীদের।

সম্মেলন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন চমক আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল ও বরিশাল সদর আসনের সাংসদ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীমের নাম আলোচনায় আছে।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নাম জোরেশোরে উঠে আসছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, সারা দেশেই আওয়ামী লীগের কমিটিতে নতুনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সেই হিসেবে বরিশাল মহানগর কমিটিতেও চমক থাকছে।

সভাপতি হিসেবে জাহিদ ফারুক শামীমের নাম এলেও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে পারেন সেরনিয়াবত পরিবারের অন্য সদস্য খোকন সেরনিয়াবাত। সে ক্ষেত্রে বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সাধারণ সম্পাদক না-ও হতে পারেন। আর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীরকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি করা হতে পারে। এ ছাড়া বিদায়ী কমিটির বিতর্কিতদেরও নতুন কমিটিতে না রাখার পক্ষে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা।  

মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু জানান, ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবসে নগরীর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু উদ্যানে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সম্মেলন উদ্বোধন করবেন দলের উপদেষ্টমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। প্রধান বক্তা থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

এ ছাড়া দলের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সম্মেলনে বিশেষ অতিথি থাকবেন।

এবারের সম্মেলন কেন্দ্র করে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে কেউ আগাম প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। কিন্তু তারপরও সম্মেলনে নতুন কমিটি গঠনে চমকের আভাস দিয়েছেন দায়িত্বশীল নেতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তার ছাপ নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড কমিটিতে পড়েছে। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হয়েছে। মহানগর কমিটিতেও নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও ত্যাগী নেতারা মূল্যায়ন পাবেন বলে তারা আশা করছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, তিনি সদর আসনের সাংসদ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। অতীতের ঘাটতি পূরণ করে দলকে গতিশীল করে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী হবেন। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী যদি তার কাঁধে এই দায়িত্ব তুলে দেন তাহলে তিনি সাদরে গ্রহণ করবেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, আমিও নতুন নেতৃত্ব চাই। কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক জেলার রাজনীতি করেন। তার অভিপ্রায় থাকতে পারে। তবে ওয়ার্ডের নেতারা তাকে চাইবেন কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি নিজে থেকে প্রার্থিতার বিষয়ে কিছু বলবেন না। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যদি তাকে চায় তাহলে তিনি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত রয়েছেন।