মা হারা মেছো বিড়ালের বাচ্চাগুলো বড় হচ্ছে মানুষের স্নেহে|185545|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫৭
মা হারা মেছো বিড়ালের বাচ্চাগুলো বড় হচ্ছে মানুষের স্নেহে
রিপন দে, মৌলভীবাজার

মা হারা মেছো বিড়ালের বাচ্চাগুলো বড় হচ্ছে মানুষের স্নেহে

মা হারা সদ্য ভূমিষ্ঠ ৬ টি মেছো বিড়ালের বাচ্চা বড় হচ্ছে মানুষের স্নেহতে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের উপজেলার সবুজবাগের নিজ বাসায় প্রাণীগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন সোহেল শ্যাম।

প্রাণীগুলো বিড়াল প্রজাতির। এদেরকে গত ২৩ নভেম্বর মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

উদ্ধারের সময় এদের আনুমানিক বয়স ছিল ২০ দিন। এই সময় অন্যান্য প্রাণীদের বেলায় যথেষ্ট হলেও মেছো বিড়ালের বেলায় চোখ ফুটতেই আরও বেশ কিছু দিনের প্রয়োজন। এদের জন্মের পর স্বাবলম্বী হতে ৪/৫ মাস সময় লাগে।  

সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া ছোট ছোট ৬টি মেছো বিড়ালকে উদ্ধার করে প্রাণী প্রেমী সোহেল শ্যামের কাছে যত্ন করে বড় করে তোলার জন্য দায়িত্ব দেয় মৌলভীবাজার বন বিভাগ।  সেই থেকে সোহেল শ্যামের বাসায় তিনি নিজে ও ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার খোকন সিংহ পরম মাতৃস্নেহে এদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং বড় করে তুলতে দিন রাত সেবা করে যাচ্ছেন। 

সরেজমিনে শনিবার শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের সবুজবাগ এলাকায় সোহেল শ্যামের বাসার গিয়ে দেখা যায়, বাচ্চাগুলোকে ফিডার দিয়ে দুধ খাওয়াচ্ছেন তিনি এবং খোকন সিংহ ।

এই দুধ বিশেষ ভাবে শুধু বিড়াল জাতীয় প্রাণীর জন্য, যা তারা ঢাকা থেকে আনিয়েছেন । একটি প্যাকেটে মাত্র ৩ দিন যায়। যদিও বর্তমানে বাচ্চাদের খাবারের সময় এবং পরিমাণ বেড়েছে ফলে এক প্যাকেটে দুই দিন যাচ্ছে। একেকটি প্যাকেটের মূল্য ৬৫০ টাকা, যা তারা নিজেরাই বহন করছেন।  তার ওপর বাসায় বড় একটা জায়গা দখল করে আছে বাচ্চাগুলো এবং এদের পরিচর্চায় সর্বক্ষণ পাশে থাকতে হচ্ছে। তবুও বিরক্তি নেই বরং তারা আনন্দিত।

সোহেল শ্যাম জানান, প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ এই বন্যপ্রাণী। হয়তো এই ৬টি বাচ্চার মাকে আমাদের মতো কোন এক মানুষ মেরে ফেলেছে বা ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে।  মানুষের বেঁচে থাকার জন্য বন্যপ্রাণী রক্ষা করা কতটা যে প্রয়োজন তা যদি মানুষ বুঝত হয়তো এমন করত না ।

তিনি আরও জানা, ছোট বেলা থেকেই তিনি বন্যপ্রাণী রক্ষায় সোচ্চার, যখনই সুযোগ পেয়েছেন সেবা করেছেন। অসুস্থ হলে সুস্থ করে তা অবমুক্ত করে দিয়েছেন।  গত ১৬ বছর ধরে প্রাণীর সেবায় তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।  

একই অনুভূতি অপর যুবক খোকন সিংহের। তিনি জানান, এত ছোট বাচ্চাদের বাঁচিয়ে রাখাই সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ।  আমরা আমাদের সাধ্যমতো সেবা করে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন প্রকৃতিতে তারা তাদের মায়ের থেকে যে সেবা পেত তাতো আমরা দিতে পারব না। তবে আমরা আনন্দিত এদের জীবন রক্ষায় সামান্য হলেও অবদান রাখতে পারছি ।

তিনি জানান, আমরা যতটা পারছি খরচ মেটাচ্ছি। এত ছোট বাচ্চাদের খাওয়ানোর মতো কিছুই নেই।  গরুর দুধ বা প্যাকেট দুধ খাওয়ালে হয়তো পেট খারাপ করে এরা মারা যেতো।  বিশেষ কিছু দুধ দিয়ে ঢাকা থেকে সাহায্য করেছেন আমাদের কিছু প্রিয়জন, যারা প্রাণী ভালোবাসেন। 

তাদের সঙ্গে আলাপ করে আরও জানা যায়, এদেরকে বড় করে বনে টিকে থাকার লড়াই এবং খাবার শিকার করে খাবার কৌশল রপ্ত করানোটাই আমাদের কাছে বিশেষ চ্যালেঞ্জ। আমরা এদেরকে বড় একটা শেডে স্থানান্তর করব এবং বড় হয়ে ওটার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে শিকার ধরা শেখানোর চেষ্টা করব।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান জানান, মেছো বিড়ালের বাচ্চাদের জন্য সাধারণ বিড়ালের বাচ্চাদের মতো যত্ন নিতে হবে।  এদেরকে দুধের পাশাপাশি মাছ এবং মাংস সিদ্ধ করে খেতে দেওয়া যায়।