ফের বেপরোয়া কিশোর গ্যাং|185779|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
ফের বেপরোয়া কিশোর গ্যাং
কমল খান, নারায়ণগঞ্জ

ফের বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

২০-২৫ জনের একদল কিশোর গ্রুপ। হঠাৎ করেই শুরু হয় তাদের বেপরোয়া আচরণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গ্রুপটি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার বৃহত্তর মাসদাইরে কয়েকটি অলিগলিতে মহড়া দিচ্ছে। তাদের ভয়ে বন্ধ করা হচ্ছে দোকানপাট। লোকজন ভয়ে দ্রুত ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। শুধু মাসদাইর নয়, নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলির অনেক এলাকায় এমন একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব চলে প্রায়ই।

জানা গেছে, এসব গ্যাং সদস্যের বয়স ১৩ থেকে ২৪ বছর। তবে তাদের পেছনে যারা রয়েছে তারা মধ্যবয়স্ক। রাজনৈতিক নেতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ছাড়াও আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য অনেকেই এসব গ্যাং পালে। তবে কিছুদিন ধরে দেওভোগ মাদ্রাসা এলাকা, ভোলাইল, মাসদাইর গুদারাঘাট, মিস্ত্রীবাগ, ঘোষেরবাগ, বাড়ৈভোগ, পশ্চিম মাসদাইরসহ বিভিন্ন এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গ্যাং। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরেও রয়েছে একাধিক কিশোর গ্যাং।

গত ২ ডিসেম্বর রাতে প্রায় ১০০ সন্ত্রাসী নিয়ে মাসদাইর ঘোষেরবাগে তাণ্ডব চালিয়েছে ফেরদৌস গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। পুলিশ এ মামলার তিন নম্বর আসামি সম্রাটকে গ্রেপ্তার করলেও হোতা ফেরদৌসকে এখনো ধরতে পারেনি। জাহাঙ্গীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ঘোষেরবাগে একটি দোকান ও একটি গ্যারেজের ব্যবসা করি। আসামি নুরনবী ওরফে লেবু মিয়ার ছেলে ফেরদৌস (২২) সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। সে আমার কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছে। দিতে অস্বীকার করায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফেরদৌস ও তার সহযোগীরা আমার গ্যারেজে হামলা, ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় গত ১০ মে ফতুল্লা থানায় মামলা করি। পরে ২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে মামলায় বিবাদীরা ও ১৫-২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে আমার কাছে চাঁদা চায়। দিতে অস্বীকার করায় তারা আমাকে মারতে উদ্যত হয়। আমি ও গ্যারেজ ম্যানেজার রানা অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচি। পরে তারা দোকান ও গ্যারেজে ভাঙচুর করে। যাওয়ার সময়ে ফেরদৌস মার্কেটের ম্যানেজার রফিককে হুমকি দিয়ে বলে, তোরে আজকের পর আর যেন না দেখি। দেখলে মেরে ফেলব। আর তোর মালিক ও মালিকের পরিবারের লোকজনকেও মেরে ফেলব।’

৩ সেপ্টেম্বর রাতে দেওভোগ এলাকায় মেয়র আইভীর বাড়ির পাশের বালুর মাঠ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ আসিফ গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। প্রাথমিক জবানবন্দিতে হোতা আসিফ জানায়, তাদের গ্রুপে ৩০-৩৫ জন সদস্য। রাজনৈতিক বড়ভাইদের শেল্টারে তারা বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়। এর আগে ইসদাইর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ৫০-৬০ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এ সময় শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করে তারা। ওই ঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা হলে পুলিশ আলাদা অভিযানে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ঘোষেরবাগের ঘটনায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, ‘যেসব কিশোরকে আমরা গ্যাং হিসেবে মনে করছি তারা ১২-১৮ বছর বয়সের মধ্যে। পারিবারিক অসচেতনতা এবং উদাসীনতার কারণেই এরা বিপথে যাচ্ছে বেশি। এজন্য শুধু পুলিশ নয়, সামাজিক এবং পারিবারিক ভূমিকাও থাকতে হবে।’ পঞ্চায়েত ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং আগের মতো কঠোরতা থাকলে কিশোররা বিপথে যাওয়ার সাহস পেত না বলেও মন্তব্য তার।