মঞ্চে বাতিঘরের ‘ঊর্ণাজাল’|185781|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
মঞ্চে বাতিঘরের ‘ঊর্ণাজাল’

মঞ্চে বাতিঘরের ‘ঊর্ণাজাল’

রাজধানীর সেগুনবাগিচার জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে গতকাল সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয়েছে বাতিঘর নাট্যদলের নাটক ‘ঊর্ণাজাল’। বাকার বকুলের রচনা ও নির্দেশনায় এদিন নাটকটির ২৪তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাটকের গল্পে দেখা যায়, বিদেশ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে গ্রামে ফিরে আসে খালেদ। স্কুলের জন্য রেখে যাওয়া পিতার একখণ্ড জমিতে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে সে।

এদিকে খালিদের বাল্যবন্ধু সয়ফুল সাঁইজির আখড়ায় বেড়ে উঠতে উঠতে একসময় গায়েন হয়ে ওঠে। ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হতে গিয়ে শিল্পে মনোনিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সে। অন্যদিকে চক্ষুদান করে যাওয়া বাউল জয়নালের জানাজা পড়ানোর দায়ে ইমামের জিহ্বা কেটে নেয় সমাজপতিরা।

এই গায়কের কবরে গোখরো সাপ দেখে ভীত হয় গ্রামবাসী। এই সুযোগে ধর্মীয় মতবাদে কৌশলে ঢzকে পড়ে অপকৌশল ও কূটনীতি। কাফের মুরতাদ হত্যার প্রশিক্ষণ চলতে থাকে দূরের জঙ্গলের জঙ্গি ক্যাম্পে। সমাবেশে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়ে হতাহতের দৃশ্যে বিহ্বল মুজাহিদের মৃত্যু হয় নিজের হাতে থাকা অন্য একটি গ্রেনেডে। গোপনে বাঁশঝাড়ে দাফন হয় লাশটির। মধ্যরাতে শহিদের লাশ খায় একদল শিয়াল। মুরতাদের চোখ নিয়ে বেঁচে থাকা মুজাহিদ বিভ্রান্ত হয় জিহাদি কর্মে। আমির কৌশলে তার চোখ দুটো উপড়ে ফেলে। তৃতীয় নয়ন উন্মোচিত হয় মুজাহিদের। এভাবেই এগিয়ে যায় ঊর্ণাজাল নাটকের কাহিনী।

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই নাটকটি লেখা বলে জানান নাট্যকার বাকার বকুল। তিনি বলেন, ‘কৈশোরে লালনগীতি শুনতাম এক বন্ধুর কাছে। আখড়া ঢংয়ে বাদ্যযন্ত্রহীন কণ্ঠে অসাধারণ গাইত সে। লালন দর্শনতত্ত্ব নিয়ে আড্ডাবাজি হতো।

বন্ধুটি আমাদের শিক্ষক হয়ে উঠেছিল। তারপর হঠাৎ তার পরিবর্তন। সংগীতকে সে পাপ হিসেবে দেখতে শুরু করে। এই নাটকে সয়ফুল চরিত্রটি কৈশোরের বন্ধুটিকে ঘিরে নির্মিত। মানুষের সুশিক্ষায় স্থির থাকতে না পারা, অশিক্ষাকে শিক্ষা বলে গ্রহণ করা এবং নিজস্ব সংস্কৃতিকে চিনতে না পারার দৃষ্টিহীনতা এই নাটকে ঘুরেফিরে এসেছে।’