‘অহেতুক বিদেশ সফর চান না প্রধানমন্ত্রী’|186146|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৮
‘অহেতুক বিদেশ সফর চান না প্রধানমন্ত্রী’
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘অহেতুক বিদেশ সফর চান না প্রধানমন্ত্রী’

জিডিপি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী ও সচিব। ছবি: বাসস

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বিদেশ সফর নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ বিরক্তি প্রকাশ করেন বলে সভা শেষে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রকল্পের আওতায় বারবার বিদেশ সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। অনেক প্রকল্পে বিদেশ সফর প্রয়োজন না হলেও যাচ্ছেন। অনেক ড়্গেত্রে একই কাজে একাধিকবার বিদেশ যাচ্ছেন কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী এমন বারবার বিদেশ সফরের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি অহেতুক বিদেশ সফর চান না।

এম এ মান্নান বলেন, একনেক সভায় পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদনকালে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানান, ২০০৭ সালে ২৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। একে একে বয়ে গেছে ১২টি বছর। এত বছর পর একই ভবন নির্মাণে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৭৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ফলে মূল প্রকল্প  থেকে ব্যয় বাড়ছে ৫০ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা ও তা শক্তিশালী করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানে নিজস্ব ভবনে মিশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এক যুগ পর প্রকল্পটি সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধিত ব্যয় ও সময় বাড়ানো হয়েছে একনেক সভায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজের জন্য সাধারণ তিনবার বিদেশ সফর করেন পররাষ্ট« মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আলাদা আলাদা টিম করে বিদেশ সফরে যান তারা। প্রথম টিম প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বিদেশ সফর করেন।

দ্বিতীয় টিম চুক্তি সই ও তৃতীয় টিম বাস্তবায়ন কাজ তথা টাকা-পয়সা পরিশোধ সংক্রান্ত বিষয়ে বিদেশ সফর করে থাকেন। বিষয়টি নজরে এনে প্রধানমন্ত্রী সভায় জানান, একই কাজে তিনবার পৃথক পৃথক টিম বিদেশ সফর না করে সমন্বিত একটি টিম যেন বিদেশ সফর করে। একনেক সভায় এমন নির্দেশনা দিয়ে বিদেশ সফরের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর বরাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পটি আমার কার্যালয়ের (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়)। এটি বাস্তবায়নে অভিজ্ঞতা নিতে বিদেশ সফরের আর্জি করা হয়েছিল। পরে আমি বিদেশ সফরের কম্পোনেন্টটি বাতিল করি। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি প্রকল্প আর পাস হচ্ছে না। কারণ জেনে অবাক হলাম। বিদেশ সফর নেই বলে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গতি নেই। কাজ আটকে গেছে। শেখ হাসিনা আরও বলেন, এমন অনেক ড়্গেত্রে অহেতুক বিদেশ সফর করতে চান কর্মকর্তারা। এটা আজকাল এক ধরনের ইয়ে হয়ে গেছে। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।