বিএনপিকে র‌্যালি করতে বাধা|186210|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
বিএনপিকে র‌্যালি করতে বাধা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপিকে র‌্যালি করতে বাধা

অনুমতি না থাকার কারণ দেখিয়ে বিশ^ মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বিএনপিকে পূর্বঘোষিত র‌্যালি করতে দেয়নি পুলিশ। এর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নাগরিকদের মানবাধিকার, সাংবিধানিক অধিকারসহ সব ধরনের অধিকার লঙ্ঘন করছে। বিএনপি শািন্তপূর্ণভাবে র‌্যালি করে বিশ্বমানবাধিকার দিবস পালন করতে চাইলেও সরকার তা দেয়নি। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে পূর্বঘোষিত র‌্যালি পুলিশ করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি সামনে রেখে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার আগেই সেখানে হাজির হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা জলকামান, প্রিজন ভ্যান নিয়ে কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেন। সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যালয়ের দুইপাশে অবস্থান নেয়। কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেয় পোশাকধারী পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপির কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীদের বের হতে বারবার নিষেধ করতে দেখা গেছে।

মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এনামুল হক উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আজ (গতকাল) সরকারি অফিস-আদালত খোলা। ঢাকা শহরে অনেক যানজট। এর মধ্যে র‌্যালি করলে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হবে। যেহেতু বিএনপির র‌্যালি করার অনুমতিও নেই, তাই র‌্যালি করতে দেওয়া হবে না। তারপরও যদি করতে চায় তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে কার্যালয়ের সামনে থেকে একটা র‌্যালি বের হওয়ার কথা ছিল। সেভাবে প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নেতাকর্মীরা কার্যালয় থেকে যেন নিচে না নামে। তিনি বলেন, বিএনপি এই মুহূর্তে কোনো সংঘাতে যেতে চায় না। আমরা আমাদের অধিকারগুলোর কথা বলছি। আপনার দেখেছেন, সভা-সমাবেশ করতে হলে অনুমতি নিতে হয়। এমনকি সাংগঠনিক কার্যক্রম করতেও অনুমতি নিতে হয়। দলীয় রাজনীতি ঊর্ধ্বে সারা বিশ্বে স্বীকৃত মানবাধিকার। সেই মানবাধিকার রক্ষা করতে আজ র‌্যালি করার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ তা করতে দেয়নি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী গত ১০ বছরে ১ হাজার ৫৯৯ জনকে বিচার বহিভূ©তভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা এর নাম দিয়েছে বন্দুকযুদ্ধ। বিএনপির হিসাবে এ সংখ্যা দুই হাজারও বেশি। এক লাখের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মামলা দেওয়া হয়েছে। আজ দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে যে ব্যক্তি ভিন্ন মত পোষণ করে তাকে হয় গ্রেপ্তার করা হয়, না হয় গুম করা হয়।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে গলদ আছে : বাংলাদেশে বিএনপির আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে বলে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহা যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি নয়, বরং আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশে এখানে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হয়েছে। বিএনপি সরকারে থাকাকালে সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষা হয়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

ভারতের নাগরিকত্ব আইন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের সংসদের খুব পরিষ্কার করে বলা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে মুসলিম সম্পªদায়ের লোকজন অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। এটা নাকি বিএনপির আমলে হয়েছে। নতুন নাগরিকত্ব বিলে বলা হয়েছে, অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু মুসলিমদের দেওয়া হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।