কারাগারে সংশোধন হচ্ছে না জঙ্গিরা|186212|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলনে আইজিপি
কারাগারে সংশোধন হচ্ছে না জঙ্গিরা

কারাগারে সংশোধন হচ্ছে না জঙ্গিরা

জঙ্গিরা কারাগারে সংশোধন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলন-২০১৯’-এর শেষ দিনে এ কথা জানিয়ে তিনি বেসরকারি সংস্থাসহ (এনজিও) সব পক্ষকে কাজ করার আহ্বান জানান।

আইজিপি বলেন, ২০১৬ সালের পর আমাদের দেশে বেশ কিছু অভিযান হয়েছে। আমরা জঙ্গিদের এনকাউন্টার করেছি, ধ্বংস করেছি বলেই এখন এর সুফল ভোগ করছি। কিন্তু বাইরে থেকে আমরা উগ্রবাদীদের চিহ্নিত করি, মামলা দেই, গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা সংশোধন হচ্ছে না। এই জায়গায় আমাদের আরও কাজ করতে হবে। আমি এখানে (সম্মেলন) এ ধরনের কোনো এনজিও দেখলাম না যারা কারাগারে আসামিদের সংশোধন বা ডি-রেডিক্যালাইজেশনের কাজ করে। কারাগারে জঙ্গিদের ডি-রেডিক্যালাইজড করার জন্য আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রিভেনশন ইজ অলওয়েজ বেটার দ্যান কিওর’। এই লক্ষ্য সামনে নিয়ে জঙ্গিবাদের বিস্তার বন্ধে আমাদের এন্টি টেররিজম ইউনিট, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি) জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে কাজ করছে। আইজিপি বলেন, যারা জঙ্গিবাদের অভিযোগে কারাগারে যাচ্ছে এবং মুক্ত হয়ে ফিরে আসছে তাদের পুনর্বাসনে একটি পরিকল্পনা করতে হবে। তারা আমাদেরই সমাজের সন্তান। তাদের মূল সমাজে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা থাকতে হবে। জঙ্গিবাদ নির্মূলে মোটিভেশনাল কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই কাজটি সবচেয়ে বেশি কার্যকরভাবে করতে পারেন ধর্মীয় নেতারা। তাদের বাণী মানুষ খুব সহজে গ্রহণ করে। আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রচার করতে বলেছি।

সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি যখন এন্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান ছিলাম তখন দেখেছি উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িত ৯০ ভাগ জঙ্গি  আহলে হাদিস সম্প্রদায়ের। আমরা এদের সঙ্গে কথা বলেছি। এদের অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা বলেছে, তারা শুধুমাত্র তাদের সম্প্রদায়ের বড় হুজুরের কথা শুনবে ও মানবে। আলেমদের একাংশকে তারা ‘কাফের’ বলে মনে করে। তাই উগ্রবাদ রুখতে ধর্মীয় এসব নেতার মাধ্যমে ডি-রেডিক্যালাইজেশনের কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা একটা জায়গায় ব্যর্থ হয়েছি। আমরা জঙ্গিদের ডি-রেডিক্যালাইজেশন করতে পারিনি। তারা জেলে গিয়েও সংশোধন হতে পারছে না। তবে এটাও সত্য, জেলের সুযোগ সীমিত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ নিমূ©লে রোল মডেল। এটি দমনে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন, দমনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সেই কাজটি আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সুন্দরভাবে করেছে। তিনি বলেন, শান্তিপ্রিয় এই দেশে জঙ্গি, সন্ত্রাস আসবে এটা কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ হয়েছে কিন্তু জঙ্গি-সন্ত্রাসের কাহিনী ছিল না। হঠাৎ করেই দেশে টার্গেট কিলিং শুরু হলো। প্রথমে ইতালির নাগরিক, তারপর জাপানের নাগরিককে টার্গেট কিলিং করল। শিয়া মসজিদের ইমামকে হত্যা করার দৃশ্য দেখলাম। খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের হত্যার দৃশ্য দেখলাম।  পঞ্চগড়ে দেখলাম। এসবের প্রত্যেকটি দেশি সন্ত্রাসীদের কাজ। তারপর হলি আর্টিজানের আরেক দৃশ্য দেখলাম। ২২ জনকে মারা হলো। একটি ওয়েবসাইট থেকে দেখলাম এটি একটি বিশেষ জায়গার সন্ত্রাস। তখন প্রধানমন্ত্রী ডাক দিলেন মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার ছাত্র, কিশোর-তরুণ-বৃদ্ধ সবাইকে। সারা দেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়ালেন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসায় কোনো জঙ্গি হতে পারে না। কারণ ইসলামে জঙ্গি বা হত্যাকাণ্ডের কোনো ধরনের স্থান নেই।

সমাপনী বক্তব্যে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন,  উগ্রবাদের বীজ সমাজ থেকে নির্মূল করতে হলে এগুলো তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। সিটিটিসির উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম তার একটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, দেশে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলেও জঙ্গি হওয়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তিনি আনসার আল ইসলামের অনলাইন ফোরাম দাওয়াই লিল্লাহ নামে একটি সংগঠনের উদাহরণ টেনে বলেন, ২০১৬ সালে এই ফোরামের জঙ্গি ছিলেন ৫৫০ জন। বর্তমানে তা বেড়ে তিন হাজারের ওপরে গেছে। এছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন জঙ্গির আইডির সংখ্যা বেড়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউএসএইডের ডেপুটি মিশন ডিরেক্টর জন অ্যাল্লেলো ও স্টপ ভায়োলেন্স কোয়ালিশনের (এসভিসি) সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খোকন। জঙ্গিবাদ দমন ও জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণের জন্য ইউএসএইডের আর্থিক সহযোগিতায় সিটিটিসি ও বিভিন্ন এনজিও এবং পেশাজীবীদের সমন্বয়ে কৌশলপত্র প্রণয়নের জন্য গত সোমবার দুই দিনের সম্মেলন শুরু হয়।