দুই সেনাপ্রধানের বৈঠক|186213|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
দুই সেনাপ্রধানের বৈঠক
রূপান্তর ডেস্ক

দুই সেনাপ্রধানের বৈঠক

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীপ্রধানের সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীপ্রধান ও তাদের প্রতিনিধিদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দেশটির বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীপ্রধানসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গত ৯ ডিসেম্বর দেশটির রাজধানী নেইপিদোতে এ বৈঠক হয়।

এতে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি বিষয়ে আলোচনা ও সময়সাপেক্ষে বিষয়গুলো কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দেয় উভয়পক্ষ।

আলোচনার প্রথমেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গারা কেন মিয়ামনমারে ফেরত যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আশিয়ান হিউম্যানিটারিয়ান ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ও রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিকে শিগগিরই সেটেলমেন্ট এলাকা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাবে বলে জানায় মিয়ানমার। এছাড়া বাংলাদেশ কর্তৃক বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পরিকল্পিত বর্ডার রোড নির্মাণে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিজিপি সর্বাত্মক সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেয়। সীমান্তে স্থলমাইন ও আইইডির উপস্থিতিতে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি জানানো হয়। বৈঠকে মিয়ানমারের সামরিক হেলিকপ্টার ও ড্রোন বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিষয় তুলে ধরা হয়। সেন্টমার্টিন দ্বীপেও তাদের ড্রোন পাঠানোর বিষয় তুলে ধরে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হলে এ বিষয়ে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানায়।

সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাদক কারখানার উপস্থিতি এবং সেই মাদক বাংলাদেশে প্রবেশে উদ্বেগ জানানো হয়। এ সময় মাদক পাচারের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় যেকোনো পরিস্থিতিতে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি নিরসনে কাজ করতে সম্মত হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনী কেবল কাউন্টার ইনসার্জেন্সি অপারেশনের জন্য সীমান্ত এলাকায় তাদের সৈন্য সমাবেশ ঘটায় বলে জানায়। তারা কখনো দুই দেশের সীমানা অতিক্রম না করার বিষয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে।

যেহেতু সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কাউন্টার ইনসার্জেন্সি অপারেশন পরিচালনা করছে, তাই তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছে যে, যখন তারা এই অপারেশন চালাবে তখন বাংলাদেশ যেন তাদের সহায়তা করে, যাতে তাদের ইনসার্জেন্ট গ্রুপ তাড়া খেয়ে এদেশে আশ্রয় নিতে না পারে– সে বিষয়েও আলোচনা হয়। এছাড়াও দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণের ড়্গেত্রে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও বিভিন্ন পর্যায়ের সৌজন্যমূলক পরিদর্শন বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। বিজ্ঞপ্তি।