সাজা নির্ধারণের ৩ ধারা কেন অসাংবিধানিক নয় : হাইকোর্ট|186228|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন
সাজা নির্ধারণের ৩ ধারা কেন অসাংবিধানিক নয় : হাইকোর্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাজা নির্ধারণের ৩ ধারা কেন অসাংবিধানিক নয় : হাইকোর্ট

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একমাত্র সাজা নির্ধারণের ৯(১), ৯ (৪) (ক) ও ১১(ক) এই তিনটি ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। ওই তিনটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিব, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত কুমার তালুকদার। সংশ্লিষ্ট আইনের ওই তিনটি ধারা অসাংবিধানিক উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার অ্যাডভোকেট শিশির মনির, অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জোবায়েদুর রহমানসহ সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী আবেদনটি করেন।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের অপরাধে এবং ৯(৪) (ক) ধারায় ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটনোর চেষ্টা বা আহত করার চেষ্টার সর্বোচ্চ এবং একমাত্র সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া একই আইনের ১১ (ক) ধারায় যৌতুকের জন্য কোনো নারীর মৃত্যু ঘটালে সেখানে সর্বোচ্চ এবং একমাত্র সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। 

আইনজীবী শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেহেতু এই ধারাগুলোতে একমাত্র সাজা যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড বিদ্যমান, তাই বিচারকালে বিচারক মূল আসামিকে যে সাজা দেন তার সহযোগীকেও একই সাজা দেন। এখানে ভিন্ন কোনো বিষয় চিন্তা করার সুযোগ নেই। আমাদের কথা হলো, এ ধরনের ধারার মামলায় যারা আসামি হন তারা কিন্তু সমান অপরাধ করেন না। প্রচলিত অনেক আইনের ধারাতেই সর্বোচ্চ এবং সর্বনিমœ সাজার কথা বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যখন একমাত্র সাজা নির্ধারণ করা হয়, তখন এটি সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিচারিক এখতিয়ারকে খর্ব করে, যা সংবিধান পরিপন্থী। এছাড়া এটি ক্ষমতা পৃথককরণের নীতিরও পরিপন্থী। এসব যুক্তিতে রিট আবেদনটি করা হয়। আদালত চার সপ্তাহের রুল দিয়েছে।’