স্মৃতিসৌধে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি|186718|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২০:৪৯
স্মৃতিসৌধে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
ওমর ফারুক, সাভার

স্মৃতিসৌধে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। জাতির গৌরব আর অহংকারের এ-দিনটিতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে নামবে লাখো মানুষের ঢল। তাদের হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে উঠবে স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদি।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিবসটি উদ্‌যাপন উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণকে ধুয়ে মুছে রং তুলির আঁচরে সাজানো হচ্ছে। সৌধ এলাকাটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও মেরামতের সুবিধার্থে সব ধরনের দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি উল্লেখ করে স্মৃতিসৌধের প্রবেশ দ্বারগুলোতে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিও টানানো হয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও মেরামত কাজের জন্য ১২ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের কর্মীরা মাস ব্যাপী অক্লান্ত পরিশ্রম করে সৌধ প্রাঙ্গণকে নতুন রূপে সাজিয়ে তুলছেন। নানা রঙ্গের বাহারী ফুলের চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে স্মৃতিসৌধের সবুজ চত্বর। চত্বরের সিঁড়ি ও নানা স্থাপনায় পড়েছে রং-তুলির আঁচড়।

তিনি আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও বিদেশি কূটনীতিকসহ লাখো মানুষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যাবতীয় গার্ড অব অনার প্রদানের জন্য একটি সুসজ্জিত দল তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ওই দিন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

ঢাকার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দু’পাশ ও ব্রিজসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বসানো হয়েছে বাড়তি পুলিশ-চেকপোস্ট। এ ছাড়া বাড়ানো হয়েছে সর্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি।

তিনি জানান, সাভারের আমিনবাজার থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত কয়েকটি স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সৌধ এলাকায় নিরাপত্তা চৌকি, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বসানোর পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে আমিন বাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে জাতির শ্রদ্ধা নিবেদনের চিরন্তন প্রতীক জাতীয় স্মৃতিসৌধ। রাজধানী ঢাকা থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে সাভার উপজেলায় ৪৪ হেক্টর জায়গা নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে স্মৃতিসৌধ।