দুই বছরেই বন্ধ আইসিইউ|186796|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
দুই বছরেই বন্ধ আইসিইউ
সাইফুর রহমান মিরণ, বরিশাল

দুই বছরেই বন্ধ আইসিইউ

প্রায় দুই বছর আগে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ১০ বেডের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু হয়। শুরু থেকেই ১০টি বড় আকারের ভেন্টিলেটর মেশিন (কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস দেওয়ার যন্ত্র) ও মনিটর সরবরাহ করা হয়। আগেই ৯টি ভেন্টিলেটর মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। এরপর একটি দিয়ে কোনো রকমে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। গত বুধবার সেটিও নষ্ট হয়ে গেছে। এরপর আইসিইউ ইউনিটের সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মুমূর্ষু রোগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্বজনরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইসিইউতে ভেন্টিলেটর মেশিন পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে টেকনিক্যাল ব্যক্তি প্রয়োজন। শুরু থেকেই এখানে এ সুবিধা নেই। ফলে সাধারণ মানুষ দিয়ে পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাজনিত জটিলতা থাকায় সেটির মেরামত হয়নি। একপর্যায়ে পুরো অকেজো হয়ে গেছে। এভাবে একে একে ১০টি ভেন্টিলেটর নষ্ট হয়ে এখন পুরো ইউনিটের সেবা বন্ধ হয়ে গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে ত্রুটি মেরামত ও নতুন ভেন্টিলেটর মেশিন কেনার চাহিদা একাধিকবার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি। দ্রুত ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা না হলে, আইসিইউ চালু করা সম্ভব নয়।

হাসপাতালের পূর্বদিকের নতুন দ্বিতল ভবনের নিচতলায় ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়। শুরু থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ১০টি বেডের সেবা পেয়ে আসছে। এরই মধ্যে সম্পূর্ণ আইসিইউ বাস্তবায়নে বিভিন্ন সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইলেকট্রিক ভেন্টিলেশন মেশিন ও উন্নত মনিটরের (হার্টবিট, ব্লাড পেসার, ফুসফুস-লিভারের কার্যকারিতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব) চাহিদা দিয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সমৃদ্ধ আইসিইউর জন্য এজিবি মেশিন, ইলেকট্রলাইট পর্যবেক্ষণ মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, আল্টªাসনোগ্রাম ও ভেন্টিলেটর মেশিন প্রয়োজন।

আইসিইউ কক্ষের কাছাকাছি ডায়ালাইসিস সুবিধার রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং মেশিন, সিটি স্ক্যান, ইকোকার্ডিওগ্রাাফি মেশিন থাকা দরকার। কিন্তু শেবাচিমে এসবের কিছুই নেই। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। এর মধ্যেই সীমিত সামর্থ্য নিয়ে যে সেবা দেওয়া হচ্ছিল, সেটিও গত বুধবার বন্ধ হয়ে গেছে।

ওই দিনই সকালে হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসক মারুফ হোসেন নয়ন (৩০) অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে তাৎক্ষণিক আইসিইউতে আনার পর ফেরত দেওয়া হয়। সেখানেই ৪১তম ব্যাচের এ ছাত্রের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মেডিকেলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

আইসিইউ ইউনিটের দায়িত্বে থাকা ডা. নাজমুল হুদা (অ্যানেসথেসিস্ট) জানান, ভেন্টিলেটর মেশিন নষ্ট ছাড়াও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এসব বিষয়ে সমাধানের আশ্বাস দিলেও, কখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ওয়ার্ডের নার্সরা জানান, সামর্থ্য না থাকায় দুই মাসে তারা ভেন্টিলেশন দেওয়া প্রয়োজন এমন ৬-৭ জন রোগীকে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। বুধবার থেকে সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেওয়ায়, বর্তমানে ভর্তি হতে আসা রোগীদের আইসিইউ বন্ধের বিষয়টি শুরুতেই জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, আইসিইউ সেবা দিতে পারলে হয়তো ডা. নয়নকে আমরা বাঁচাতে পারতাম। ওর মৃত্যুতে আমি নিজেও ব্যথিত। তিনি জানান, নিরুপায় হয়েই তারা সাধারণ মানুষ দিয়ে আইসিইউ পরিচালনা করেছেন। শুরু থেকে যন্ত্রপ্রকৌশলী চেয়েও পাননি। এক প্রশ্নের জবাবে ডা. বাকির বলেন, ‘প্রতিটি ভেন্টিলেটর নষ্টের পরই আমরা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে অবহিত করেছি। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

হাসপাতালের জেনারেল বিভাগের যন্ত্রপাতি কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ এনে বরাদ্দও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভেন্টিলেটর মেশিন সচল কিংবা নতুন ভেন্টিলেটর কেনা সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। বরাদ্দ পেলে পুনরায় আইসিইউ সচল করা হবে। এর বাইরে তেমন কিছু করার নেই।’