সু চিতেই মিয়ানমার দুষ্ট |186933|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
সু চিতেই মিয়ানমার দুষ্ট
রূপান্তর ডেস্ক

সু চিতেই মিয়ানমার দুষ্ট

গণতন্ত্রের আপসহীন চরিত্র অং সান সু চিকে শান্তির নোবেল পুরস্কার এনে দেয়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, এখন তারই বিরুদ্ধে নিজ নাগরিক সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে। গোটা বিশ্ব বিচারে সোচ্চার। আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার আবেদনে ইতিমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) সু চির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। মিয়ানমারের যে সেনাবাহিনী সু চিকে দীর্ঘ ১৫ বছর গৃহবন্দি করল; তাদেরই গণহত্যার পক্ষ নিয়েছেন তিনি। সেনাবাহিনীকে রক্ষায় এ মামলা জিততে সু চি ১৭ জনকে বিচারকও নিয়োগ করেছেন।

বিবিসি বলছে, আইসিজেতে সু চির চেহারায় ফুটে ওঠে রাজ্যের বিষণœতা। অদ্ভুতুড়ে চোখেমুখে ২০১০ সালে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তির পর যেখানে গেছেন প্রিন্স, প্রেসিডেন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রীদের উষ্ণ অভ্যর্থনার ভেসেছেন; এখন সেই ছাপ উধাও। যেন বর্ণ-গন্ধ হারিয়ে ঐশ্বর্যহীন সু চি। গণতন্ত্রই এখন তার হাতে সবচেয়ে বেমানান। সিএনএন বলছে, অং সান সু চিকে পশ্চিমারা ঋষি বানিয়েছিল। গৃহবন্দিত্ব শেষ হওয়ার মাধ্যমে মিয়ানমারের সামরিক সরকার উদারনীতির কথা বললেও, নানা আন্তর্জাতিক অবরোধের মুখে পড়ছে। সু চিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ‘দেশের বিবেক’ ও ‘মানবতার নেত্রী’ বলেছিল। মুক্তির পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে মিয়ানমারে জয় পায় তার ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)। গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে তাকে ‘এশিয়ার নেলসন ম্যান্ডেলা’ অভিধাও দেওয়া হয়। কিন্তু চলতি সপ্তাহে মানবতার নেত্রীর বিরুদ্ধে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের সময় হাজারো মুসলিম রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১৫ সালের নির্বাচন দিয়ে সু চিকে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। পশ্চিমারা ঋষি করে তুললেও, বাস্তবে তিনি সামরিক তন্ত্রের ক্রীড়ানক। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে জাতিগত কলহ ও গৃহযুদ্ধ হলেও, বন্ধে তার অবদান দেখা যায় শূন্য। ফলে দীর্ঘদিনেও স্বাধীনতা অর্থবহ পথ পায়নি। সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে পার্থক্য অস্পষ্ট। সামরিকদের করা ড্রাফটের সংবিধান সু চির হাতেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখন এনএলডি জনসমর্থন হারাচ্ছে। নানা জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ ও মুসলিম বিদ্বেষ বেড়েছে। জাতিগত বিভক্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। খ্রিস্টান কারেন জাতির সঙ্গে অন্যান্য বৌদ্ধ সংখ্যালঘু গ্রুপের বিরোধ বেড়েছে। একই অবস্থা শান, চিন ও কাচিন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে। অথচ সু চির বাবা স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা জেনারেল অং সান সব জাতিগোষ্ঠীকে বার্মিজ জাতিসত্তার ভিত্তিতে এক করেছিলেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে বাবার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তার পরিবর্তে ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরতে গিয়ে সু চি বিচ্যুত হয়েছেন। গণতান্ত্রিক অবস্থান হারিয়ে পশ্চিমা এ ঋষি এখন তাদের কাছেই দস্যু বনে গেছেন। মিয়ানমারের ইতিহাসবিদ থান্ট মিন্ট ইউ তার নতুন ‘দি হিডেন হিস্টোরি অব বার্মা’ বইতে লিখেছেন, ‘বার্মার অগ্রগতির ধারণা বাতিল হয়ে গেছে। এখন ক্ষমতাসীনরা অবশ্যম্ভাবী উন্নয়নে ঝুঁকছেন। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং জনতাকে সেনাবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে উন্নয়নের গান গাওয়া হচ্ছে। আরব বসন্তের মতো উগ্রপন্থা উসকে দেওয়াকে প্রয়োজনীয় মনে করা হচ্ছে। বার্মা তার নৈতিক অবস্থানের ইতি টানতে চলেছে।’