৭০ মুক্তিযোদ্ধার কবর ভিনদেশে|186938|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
৭০ মুক্তিযোদ্ধার কবর ভিনদেশে
জালাল হোসেন মামুন, আখাউড়া

৭০ মুক্তিযোদ্ধার কবর ভিনদেশে

স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য অস্ত্র হাতে নেন, শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করে শহীদ হন। দেশ স্বাধীন হলেও এমন ৭০ মুক্তিযোদ্ধার কবর দেশে হয়নি। সীমানাপ্রাচীর তাদের ভিনদেশি বানিয়ে রেখেছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত এবং ত্রিপুরার জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃতদের পরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার দক্ষিণ রামনগরে কবর দেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার সেনারবাদী সীমান্ত থেকে শূন্যরেখার কবরগুলো দেখা যায়। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়ার কারণে গাছগাছালি আর লতাপাতায় ঘেরা কবরগুলো ছুঁয়ে দেখতে পারেন না স্বজনরা। এসব কবর দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। তারা বলছেন, কবরগুলো শূন্যরেখায় ভারতের অভ্যন্তরে হওয়ায় পরিচর্যা করা সম্ভব হয় না।

আখাউড়ার বাউতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক জানান, তার বাড়ির পাশেই সীমান্তের ওপারে অন্তত ৭০ মুক্তিযোদ্ধাকে গণকবর দেওয়া হয়। এত কাছে থেকেও সহযোদ্ধাদের জন্য কিছুই করতে পারছেন না তিনি। দক্ষিণ রামনগরে একটি ইটভাটার পশ্চিমে সম্মুখযুদ্ধে বাংলাদেশের অনেক মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে পরে তাদের সেখানে কবর দেওয়া হয়। এছাড়া গুলি ও গ্রেনেডে অনেকে মারা গেলেও যাদের লাশ ভয়ে দেশে আনা সম্ভব হয়নি, তাদের রামনগরে সমাহিত করা হয়। আবদুর রাজ্জাক মুক্তিযোদ্ধাদের কবর দেশে আনা অথবা সেগুলোকে পরিচর্যা করে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে সরকারের কাছে দাবি জানান।

এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার রেইনা জানান, ৭০ মুক্তিযোদ্ধার কবরের বিষয়ে তারা জানেন। দু’দেশের সীমান্তে হওয়ায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।