অমিত শাহর বক্তব্যে সত্যতা দেখছেন ওবায়দুল কাদের|188649|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:১৬
অমিত শাহর বক্তব্যে সত্যতা দেখছেন ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক

অমিত শাহর বক্তব্যে সত্যতা দেখছেন ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছেন বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটা কি অসত্য?'

সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, '২০০১ সাল থেকে যে মাইনরিটি পারসিউকিউশন এদেশে হয়েছে, এটা কেবলমাত্র একাত্তরের বর্বরতার সাথেই তুলনীয়। কাজেই এখানে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কোনো উপায় নেই'।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি যতই সত্যকে চাপা দিতে চাক, আপনারা জানেন, সাংবাদিকরাও জানেন, তখন কীভাবে মাইনরিটির ওপর অত্যাচার হয়েছে, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়। ওই অবস্থায় মাইনরিটিরা দেশ থেকে পলায়ন করাই ছিলো স্বাভাবিক। অনেকেই জীবনের, জানমালের নিরাপত্তার জন্য সেদিন পালিয়েছিল। মির্জা ফখরুল যতই সাফাই গান না কেন, যে সত্য দিবালোকের মতো সত্য, তা চাপা দিয়ে কারও কোনো লাভ নেই। সত্যের বন্যা অপ্রতিরোধ্য। এটা প্রকাশ হবেই।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মাইনরিটি পারসিউকিশনের মতো ঘটনা ঘটেনি। বিচ্ছিন্নভাবে, বিক্ষিপ্তভাবে অঞ্চলভিত্তিক দু-চার জায়গায় কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেটা মাইনরিটিদের দেশ থেকে পলায়নের মতো, নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভারতের যাওয়ার কোনো কারণ সৃষ্টি হয়নি। এ ধরণের ঘটনাও হয়নি।

তিনি বলেন, রংপুর, গোবিন্দগঞ্জ, রামু, নাসিরবাদে ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। এগুলো তাদের দেশ থেকে চলে যাওয়ার কোনো কারণ সৃষ্টি করেনি বলে আমরা মনে করি।

তিনি আরো বলেন, তখন কিছু কিছু লোক যাওয়া স্বাভাবিক। সে অবস্থায় যাওয়া ছিলো স্বাভাবিক। আমরা ছিলাম বিরোধী দলে। আমরা অনেক জায়গায় লঙ্গরখানাও করেছি। গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া মোটামুটি সেইফ জোন, আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকা। সেখানে লঙ্গরখানা খুলেছি। ঢাকায়ও আশ্রয় দিয়েছি। তখন ভয়ভীতির কারণে অনেকে চলে যেতে পারেন।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেয়া ব্যক্তিরা চাইলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানা মন্ত্রী।

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল লোকসভায় পেশ করতে গিয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশসহ তিনটি প্রতিবেশী দেশের সংবিধানকে উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, এই দেশগুলোর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বলেই সেখানে অন্য ধর্মের মানুষরা নিপীড়িত হচ্ছেন।

তিনি ভারতের সংসদে বলেন, এই বিলটি আনতে তার সরকার বাধ্য হয়েছে এবং এর অন্যতম কারণ 'বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশেই হিন্দু-বৌদ্ধরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন'।

তিনি জানান যে বাংলাদেশ থেকে আসা লোকরাও এই বিলের সুবিধা পাবেন।

অমিত শাহ বলেন, 'মাননীয় স্পিকার, সে দেশে কিন্তু নরসংহার থামেনি - একাত্তরের পরও বেছে বেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে।'

বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপিসহ কয়েকটি দল অমিত শাহ'র দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ করে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরল ইসলাম আলমগীর রোববার এক বিবৃতিতে তাদের সরকারের আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বরং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখলসহ যে ধরণের আক্রমণ হয়েছে, সে ব্যাপারে অমিত শাহ কিছু বলেননি।

খবর বিবিসি বাংলা।