মানুষ যন্ত্র হয়ে যাচ্ছে, অনুভূতিও লোপ পাচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী|189188|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:২৫
মানুষ যন্ত্র হয়ে যাচ্ছে, অনুভূতিও লোপ পাচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক

মানুষ যন্ত্র হয়ে যাচ্ছে, অনুভূতিও লোপ পাচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: বাসস

যন্ত্রের ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মানুষগুলোও যন্ত্র হয়ে যাচ্ছে, অনুভূতিও লোপ পাচ্ছে। মানুষের মমত্ববোধ লোপ পাচ্ছে- বললেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

আরও বলেন, “আকাশ সংস্কৃতির থাবায় সমাজ দেশ এমনকি পরিবারকেও ভুলতে বসেছে মানুষ। প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রিকতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।”

চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্স (টিআইসি) প্রাঙ্গণে বুধবার সন্ধ্যায় পাঁচ দিনব্যাপী তির্যক নাট্যমেলা উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সব কথা বলেন। খবর বাসস।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “উন্নত রাষ্ট্র গঠন করার পাশাপাশি উন্নত জাতিও গঠন করা প্রয়োজন। ভৌত অবকাঠামো বা বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত রাষ্ট্র গঠন করা যায়, কিন্তু উন্নত জাতি গঠন করা যায় না। উন্নত জাতি গঠন করতে হলে আত্মিক উন্নয়ন প্রয়োজন।”

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “সার্বক্ষণিক নিজের ভাবনায় থাকা মানুষের পক্ষে দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর কোনো কিছু করা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন উন্নত জাতি গঠনে নাটক অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের নাট্য সংগঠনগুলো অনেক ক্ষেত্রে এ ভূমিকা রাখছে।”

যন্ত্রের ব্যবহারে মানুষও যেন যন্ত্র হয়ে না যায় সে কথা উল্লেখ করে বলেন, “মানবিকতা যেন থাকে, মূল্যবোধ যেন মানুষের মনের গভীরে প্রোথিত হয় সে জন্য নাটক ভূমিকা রাখতে পারে।”

তিনি বলেন, “প্রতিটি নাটকের মাধ্যমে সমাজের প্রতি বার্তা দেওয়া যেতে পারে। সমাজকে পরিশুদ্ধ করতে, সঠিক ধারায় প্রবাহিত হতে, সমাজের অসংগতি ও অনাচার দূর করার ক্ষেত্রে এবং মানবিকতা ও মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটানোর ক্ষেত্রে নাটক বড় অবদান রাখতে পারে। তির্যক নাট্যদল সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।”

ছাত্রজীবনে তির্যকের সদস্য ছিলেন উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, “তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর সাহিত্য-সংস্কৃতির মানুষগুলোর সঙ্গেই আমার কাজ বেশি। সম্ভবত এক সময় নাট্যদলে যুক্ত ছিলাম বলে এ অঙ্গন আমাকে অত্যন্ত সহজে আপন করে নিয়েছে।”

আরও বলেন, “আকাশ সংস্কৃতির হিংস্র থাবায় মঞ্চ নাটক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঝে একেবারে ঝিমিয়ে পড়েছিল গ্রুপ থিয়েটারগুলোর কার্যক্রম। আশার কথা, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে আবার নাট্য চর্চা শুরু হয়েছে। এখনো ১৮টি নাট্যদল চট্টগ্রামে সক্রিয় আছে। এ জন্য তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের ধন্যবাদ পাওয়ার দাবি রাখে।”

তির্যক নাট্যদলের দলনেতা আহমেদ ইকবাল হায়দারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কায়কাউস আহমেদ।

এর আগে পশ্চিম বাংলার নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী নাট্যমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন টিআইসি’র মুক্তমঞ্চ, লেকচার থিয়েটার ও গ্যালারিতে নাটক, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, নাট্য সংলাপ ও নাট্য ভাবনা আদান-প্রদান, শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও শিশুতোষ গল্প বলা অনুষ্ঠান, লেকচার ওয়ার্কশপ, উচ্চাঙ্গ যন্ত্র সংগীত পরিবেশনা, ছন্দ নাটক, মূকাভিনয়, আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা থাকবে।

‘শেকড় থাকবে মাটিতে, ডালপালা ছড়াবে আকাশে’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।