আন্দোলনকে খারাপ সিদ্ধান্ত মনে করেছিলেন গ্রেটার বাবা|190169|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:০২
আন্দোলনকে খারাপ সিদ্ধান্ত মনে করেছিলেন গ্রেটার বাবা
অনলাইন ডেস্ক

আন্দোলনকে খারাপ সিদ্ধান্ত মনে করেছিলেন গ্রেটার বাবা

বাবার সঙ্গে গ্রেটা থুনবার্গ

পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ১৬ বছরের গ্রেটা থুনবার্গের লড়াই দেখে লাখ লাখ মানুষ অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।  কিন্তু তার বাবা স্ভ্যান্টে থুনবার্গ মনে করতেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই একটি খারাপ সিদ্ধান্ত।

বিবিসিকে তিনি জানান, স্কুল বাদ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে মেয়ের আন্দোলন করাকে প্রথমে সমর্থন করতে পারছিলেন না।

আরও বলেন, গ্রেটা একজন অধিকারকর্মী হয়ে অনেক বেশি খুশি- কিন্তু এ কারণে সে যে বিদ্বেষের শিকার হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ বোধ করেন।

এই ১৬ বছরের কিশোরী হচ্ছে একমাত্র কারণ যে যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ নির্বাচনে জলবায়ু পরিবর্তন একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে বিশ্ব নেতাদের একত্রে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে তার ভূমিকার কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল গ্রেটা থুনবার্গ। তার সেই আন্দোলনের সময় এই দাবিতে বিশ্বজুড়ে সমন্বিত স্কুল ধর্মঘট করা হয়।

বিমান চলাচলে কার্বন নিঃসরণ হয় বলে সেটা এড়াতে সুইডেন থেকে সেইলিং বোটে করে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে গিয়েছিলেন গ্রেটা থুনবার্গ।

বিবিসির পক্ষ থেকে উপস্থাপক মিশাল হুসেইনকে সুইডেনে এই কিশোরী এবং তার বাবার সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়। তখন বিমানে করে সংবাদকর্মীদের পাঠানোর ব্যাপারে বিবিসির টুডে প্রোগ্রামের এডিটর সারাহ স্যান্ডস বলেন, “আমাদের সামনে অন্য কোন পরিবহন ব্যবহার করার উপায় ছিল না।”

মিশাল হুসেইনের সঙ্গে কথা বলার সময় স্ভ্যান্টে থুনবার্গ বলেন, স্কুল ধর্মঘট শুরুর তিন-চার বছর আগে তিন-চার বছরের জন্য তার মেয়েকে বিষণ্নতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। তখন গ্রেটা কথা বলা ও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, যখন গ্রেটা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিতে শুরু করে, অভিভাবক হিসেবে সেটা ছিল তাদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো।

মেয়েকে সুস্থ করে তোলার জন্য গ্রেটা ও তার ছোট বোন বেটার সঙ্গে সুইডেনের বাড়িতে বেশি করে সময় কাটাতে শুরু করেন স্ভ্যান্টে। গ্রেটার মা অপেরা শিল্পী মালেনা ইরম্যান একের পর এক কনসার্টের চুক্তি বাতিল করে দিতে শুরু করেন, যাতে পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারেন।

বারো বছর বয়সে গ্রেটার অটিজমের একটি ধরন- অ্যাসপারজার নামে একটি রোগ ধরা পড়ে। সেই সময় বলতো, সে এমন অনেক কিছু দেখতে পাচ্ছে, যা অন্যরা দেখতে পায় না। পরের কয়েক বছর ধরে তারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করতে শুরু করে। তখন গ্রেটা ক্রমেই এই বিষয়ে আলোচনা করতে উৎসাহিত হয়ে উঠতে থাকে।

স্ভ্যান্টে বলেন, মানবাধিকার ইস্যুতে তারা বরাবর আন্দোলন করে আসায় গ্রেটা তার অভিভাবকদের বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের প্রতারণার’ অভিযোগ করেন। “গ্রেটা বলতো- কার মানবাধিকারের জন্য তোমরা কথা বলো? যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কথা বলতাম না”, ব্যাখ্যা করে বলেন স্ভ্যান্টে।

অভিভাবকদের আরও বেশি পরিবেশবান্ধব হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে গ্রেটা যেন আরও শক্তি সঞ্চয় করে। যেমন তার মা বিমানে করে চলাচল না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তার বাবা নিরামিষভোজী হয়ে ওঠেন।

নিউইয়র্ক ও মাদ্রিদে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে পালের নৌকায় করে গ্রেটার যাত্রায় সঙ্গী হয়েছিল বাবা। পরিবেশের ক্ষতির কারণে বিমানে করে চলাচল করতে রাজি নয় গ্রেটা।

স্ভ্যান্টে বলছেন, “আমি যা কিছু করেছি, সেগুলো করেছি কারণ আমি জানতাম যে, আমি ঠিক কাজটি করছি...কিন্তু পরিবেশ রক্ষার কথা ভেবে সেগুলো করিনি, আমি করেছি আমার সন্তানকে রক্ষা করার জন্য।'”

“আমার দুইটি মেয়ে রয়েছে আর সত্যি কথা বলতে, তারাই আমার কাছে সবকিছু। আমি শুধুমাত্র তাদের সুখী দেখতে চাই।”

তিনি বলেন, গ্রেটার খুব তাড়াতাড়ি ১৭ বছর বয়স হবে। তখন আর তার ভ্রমণের সময় কাউকে সঙ্গে যেতে হবে না। “তখনো যদি সে আমাকে চায়, আমি তার সঙ্গে থাকার চেষ্টা করবো”, বলেন স্ভ্যান্টে।

আরও জানান, পরিবেশ নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে গ্রেটা বদলে গেছে এবং সে খুব সুখী।