নাম ধরে ডাকলেই পানি থেকে উঠে আসছে কচ্ছপ!|190192|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৫:৪০
নাম ধরে ডাকলেই পানি থেকে উঠে আসছে কচ্ছপ!
অনলাইন ডেস্ক

নাম ধরে ডাকলেই পানি থেকে উঠে আসছে কচ্ছপ!

বাড়ির লোকজন আদর করে তার নাম রেখেছে কালী। ছেলের মতোই যত্ন করা হয় তাকে। দুপুরবেলা পুকুরপাড়ে কালীকে ভাত দেওয়া হয়। পাড়ে গিয়ে নাম ধরে ডাকলেই ঘাটের কাছে এসে ভাত খেয়ে যায় কালী। এভাবেই কেটে গেছে চল্লিশ বছর।

কালী কোনো মানুষ নয়, একটি কচ্ছপের নাম।

প্রায় চল্লিশ বছর আগের কথা। জমিতে চাষ করতে গিয়ে আলের ধারে ছোট্ট একটা কচ্ছপের ছানা পান ভারতের হাসনাবাদের মহিষপুকুরের বাসিন্দা দিলীপ দাস।

দেশলাই বাক্সে ভরে কচ্ছপটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। তারপর থেকে এখনও দিলীপের পরিবারেই রয়েছে কচ্ছপটি।

বাড়ির পাশের পুকুরে একটু একটু করে বড় হয়ে উঠেছে। পরিবারের লোকজন তাকে আদর করে ‘কালী’ বলে ডাকেন। কালীর জন্যই এলাকাটি পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘কাটা কচ্ছপ পুকুরপাড়’ নামে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির ছেলের মতোই যত্ন করা হয় কালীকে। এক সময় প্রায়ই কালীকে পানি থেকে তুলে আনা হত। এখন তার ওজন প্রায় তিরিশ কেজি ছুঁই ছুঁই।

‘বাচ্চা বড় হয়ে গেলে যেমন আর কোলে নেওয়া যায় না, আমাদের কালীও এখন সে রকম বড় হয়ে গেছে। পানি থেকে তুলতে কষ্ট হয়।’ বলেন পরিবারের এক সদস্য।  

ভাত ছাড়াও কলাপাতা, সজনে গাছের পাতা পুকুরে দেওয়া হয় কালীর জন্য। অসুস্থ হলে রয়েছে চিকিৎসক, ওষুধের ব্যবস্থা।

বাড়ির সদস্য  ঝর্না দাস বলেন, ‘সম্প্রতি কালির গালে ঘা হয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। এখন কিছু দিন শক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না।’

কুরটিকে ঘিরে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু তবুও কালী এই পুকুর ছেড়ে অন্যত্র যায় না। পাড়াপড়শিরাও তাকে ভালোবেসে ফেলেছেন।

কালীকে দেখতে দূরদূরান্ত থেকে অনেকে ভিড় করেন। বাড়ির ছেলে নিপুল দাস বললেন,  ‘‘হাসনাবাদ, খুলনা, বসিরহাটের বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসেন আমাদের কালীকে দেখতে।’’

কয়েক বছর আগে বন দপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কয়েক জন ব্যক্তি কচ্ছপটিকে নিয়ে যেতে এসেছিল। তবে তাদের ভুয়া পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় পাটলি খানপুর পঞ্চায়েতের প্রধান পারুল গাজি বলেন, ‘বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে কী আছে জানি না, তবে ওরা সন্তান-স্নেহে কচ্ছপটিকে বড় করে তুলছেন।’

বাড়ির কর্তা মধু দাস বলেন, ‘কচ্ছপটির প্রতি আমাদের মায়ায় জড়িয়ে গেছে। ওকে খুব ছোট্ট অবস্থায় পেয়েছিলাম। শুনেছি কচ্ছপ অনেক দিন বাঁচে। একদিন আমরা থাকব না। কিন্তু আমার ছেলেপুলে-নাতি-নাতনিরা ওর দেখভাল করবে।’