পুষ্টিগুণে ভরপুর লাল শাক|190560|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ জানুয়ারি, ২০২০ ০৯:৩২
পুষ্টিগুণে ভরপুর লাল শাক
ফারহানা ফজল নিশি

পুষ্টিগুণে ভরপুর লাল শাক

শীতে লাল শাক বেশি পাওয়া যায়। লাল শাকের পুষ্টিগুণ অতুলনীয়।

পুষ্টিমান: ১০০ গ্রাম লাল শাকে রয়েছে ১০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১ গ্রাম ডায়াটারি ফাইবার, ৪. ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৪২ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৩৪০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১১ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ৩৬৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২ মিলিগ্রাম আয়রন, ১. ৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন-এ এবং ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি।

এই সবকটি উপাদান শরীরের গঠনে ভীষণ ভাবে কাজে লাগে। বিশেষত ক্যানসারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখতে, ওজন কমাতে, কিডনির ক্ষমতা বাড়াতে এবং আরও নানাবিধ রোগের খপ্পর থেকে শরীরকে বাঁচাতে লাল শাকের উপদানগুলো নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।

১. লাল শাকে উপস্থিত বিটা-ক্যারোটিন শরীরের অ্যাজমার প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে রেসপিরেটরি সিস্টেমের উন্নতিও ঘটায়।

২. হাড়ের নানা রোগ প্রতিকার করতে সহায়তা করে। লাল শাকে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-কে , যা হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার হাড় শক্তপোক্ত হয়ে উঠলে অস্টিওপরোসিস-এর মতো হাড়ের রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।

৩. লাল শাকে উপস্থিত "ফাইটোস্টেরল” নামক উপাদান থাকায় একদিকে যেমন ব্লাড প্রেশারকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে, তেমনি নানাবিধ হার্টের রোগের অ্যান্টিডোট হিসেবেও কাজ করে।

৪. অ্যানিমিয়ার মতো রোগের  হিসেবে লাল শাক খুবই উপকারী। এমনকি লাল শাক শরীরে লোহিত রক্তকণিকার মাত্রা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো অ্যানিমিয়া রোগীদের এই শাকটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

৫. ২ আঁটি লাল শাককে ব্লেন্ড করে রস সংগ্রহ করে তার সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস এবং ১ চামচ মধু মিশিয়ে যদি নিয়মিত খেতে পারেন, তাহলে শরীরে কখনো হিমোগ্লোবিনের অভাব তৈরি হবে না।

৬. লাল শাকে উপস্থিত ভিটামিন সি রেটিনার ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। তাই যারা চোখে কম দেখেন বা পরিবারে গ্লুকোমার মতো রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা সময় নষ্ট না করে নিয়মিত লাল শাক খেতে পারেন।

৭. লাল শাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দূর হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনো রোগই ধারেকাছে ঘেঁষতে পারে না।

৮. শীতের এই সময়টাতে অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই জ্বর কমাতে ওষুধের বিকল্প হিসেবে পাত্রে পানি ফুটিয়ে তাতে একমুঠো লাল শাক ফেলে দিন। তারপর পানিটা ফোটাতে শুরু করুন। যখন দেখবেন ফুটতে ফুটতে পানির পরিমাণ অর্ধেক হয়ে গেছে, তখন পানি ঠাণ্ডা করে পান করুন। দুই দিন পান করার পর দেখবেন জ্বর চলে গেছে।

৯. লাল শাকে উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন-ই, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন-সি শরীরে উপস্থিত একাধিক টক্সিন উপাদানের ক্ষতি করার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ক্যানসার সেল যাতে জন্ম নিতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ে লাল শাক খেলে।

১০. লাল শাকের মূল দিয়ে দাঁত মাজার পর নুন জল দিয়ে কুলকুচি করলে দাঁতের হলুদ ভাব কেটে যায়। সেই সঙ্গে পোকা লাগা-সহ মাড়ি এবং দাঁত সম্পর্কিত নানা রোগ ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারে না।

ফারহানা ফজল নিশি

পুষ্টিবিদ, আইসিডিআরবি