ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বিজিবি: ডিজি|190622|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ জানুয়ারি, ২০২০ ২০:১৩
ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বিজিবি: ডিজি
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বিজিবি: ডিজি

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘ভারতে নাগরিক আইন সংকট নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, অবৈধভাবে কেউ যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে। আমরা এটা সফলভাবেই করে যাচ্ছি। এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস) বা সিএএ (সিটিজেন শিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়’।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

২৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শেষে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ডিজি বলেন, সম্মেলনে এনআরসি নিয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি। দুই দেশের সীমান্ত নিয়ে কোনো টেনশন নেই।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতে নাগরিক আইন নিয়ে সংকট তৈরির পর গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৪৪৫ জন অনুপ্রবেশ করেছে। গত এক বছরে এ সংখ্যা প্রায় এক হাজার। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তারা সবাই বাংলাদেশি। যেসব বাংলাদেশি ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে তারা বিভিন্ন সময়ে দালালের মাধ্যমে কাজের সন্ধানে ভারতে পাড়ি দিয়েছেন বা পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ঝিনাইদহ, মহেশপুর এবং সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে বেশির ভাগ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ২৫৩টি মামলা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন দালালও আছেন’।

সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের হিসেবে বিদায়ী সালে সীমান্তে ৩৫ জন মারা গেছেন। ভারতের হিসেবে আরও কম। এ বিষয়ে ভারতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সম্মেলনে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুই দেশ এক হয়েছে।

বিজিবি প্রধান বলেন, ভারতের কোনো সীমান্তে আমরা কাঁটাতারের কোনো বেড়া দিইনি। তবে মিয়ানমারের সঙ্গে ৬৭০ কিলোমিটার বর্ডারে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এর কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, ‘দেশের পশ্চিমাংশের সীমান্ত খুবই পিকিউলিয়ার। কারও রান্নাঘর বাংলাদেশে, আবার থাকার ঘর ভারতে। ভারতের অনেক প্রতিবেশীর বাড়ি বাংলাদেশে। আরার বাংলাদেশের অনেক প্রতিবেশী বা নিকটাত্মীয়ের বাড়ি ভারতে। এসব নাগরিকরা জরুরি প্রয়োজনে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে এক সঙ্গে অংশ নিতে চায়। এ ভিসার পরিবর্তে তাদের জন্য অল্প সময়ের জন্য তাৎক্ষণিক পাস দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে।‘

সাফিনুল ইসলাম জানান, বিজিবিকে আধুনিকায়নের কাজ চলছে। চোরাকারবারিদের নিত্যনতুন কৌশলের কারণেই এটা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষা এবং সীমান্তে অপরাধ দমন এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিগগিরই দুইটি হেলিকপ্টার কিনছে বিজিবি। একটি হেলিকপ্টার ১৭ জানুয়ারিই আসবে। মিয়ানমার সীমান্ত এবং সেন্ট মার্টিনের নিরাপত্তায় রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে’।

এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি ডিজি বলেন, ‘অস্ত্রের দিক দিয়ে আমরা মিয়ানমারের চেয়ে দুর্বল নই।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছাড়া বিজিবি কখনো গুলি ছুড়ে না’।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘কোনো বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আমাদের অ্যাপস ‘রিপোর্ট টু বিজিবি’ এর মাধ্যমে অবহিত করুন। অভিযোগকারীর নাম-ঠিকানা গোপন রেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’

বিজিবির ডিজি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২৭৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গত সম্মেলনে ভারতকে জানানো হয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়নে বিএসএফের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।’