‘মজনু নিখোঁজ বারো বছর’|192572|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ জানুয়ারি, ২০২০ ১৫:১২
‘মজনু নিখোঁজ বারো বছর’
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

 ‘মজনু নিখোঁজ বারো বছর’

‘আঁর (আমার) বড় হোলা (ছেলে) মজনু নিখোঁজ বারো বছর। দুই হোলার (ছেলে) মধ্যে ছোট বিপুল তিন বছর বয়সে মারা যায়। মজনুর বাবা মাহফুজুর রহমানও আট বছর আগে মারা যান।’

রবিবার সকালে মুঠোফোনে আলাপকালে দৈনিক দেশ রূপান্তরকে এ কথাগুলো বলেন নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ২ নং চরবাটা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চরবাটা গ্রামের (সেন্টার বাজারের পশ্চিম পাশে) বাসিন্দা ছখিনা খাতুন (৫০)।

তিনি ঢাবির ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মজনুর মা।

ছখিনা খাতুন আরও বলেন, ‘আঙ্গো (আমাদের) বাড়ি ছিলো নোয়াখালীর হাতিয়ার ১০নং জাহাজমারা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর জাহাজমারা গ্রামে (জাহাজমারা বাজারের উত্তর পাশে)। হাঁছ (পাঁচ) মাস আগে আঁই (আমি) হাতিয়া থেকে সুবর্ণচরে আসি। এখানে নুরেরজ্জমা নামে এক যক্ষ্মা রোগীর সাথে আঁর (আমার) বিয়া (বিয়ে) হয়। আঁর (আমার) বর্তমান স্বামীর চাইর (চার) ছেলে ও দুই মেয়ে। তাদের মা নাই (নেই)। ছেলেরা কাজকর্ম করে সংসার চালায়’।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও ফেসবুকে মজনুর বাড়ি হাতিয়ায় এ খবর প্রকাশের পর দৈনিক দেশ রূপান্তর প্রতিনিধিসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা মজনুর জন্ম ঠিকানার সন্ধানে অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও কেউ তার কোনো হদিস পায়নি।

জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহজাহান বাবুল বলেন, জাহাজমারা ইউনিয়নের বাসিন্দা, সকল ওয়ার্ডের চৌকিদার ও ইউপি সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও মজনুর জন্ম স্থানের তথ্য পায়নি।

হাতিয়া নদীভাঙনকবলিত এলাকা হওয়ায় মজনুদের পরিবার হাতিয়া থেকে অন্যত্র স্থানান্তরিত হতেও পারে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধর্ষণে অভিযুক্ত মজনুর জন্মস্থানের খোঁজ নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের কাছে ওপরের নির্দেশ নেই, এ দায়িত্ব মজনুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার। তবুও আমরা খোঁজ নিয়েছি। জাহাজমারাসহ হাতিয়ার কোথায়ও  মজনুর জন্মস্থানের খবর পাইনি। মজনুর পরিবার হাতিয়া থেকে অন্যত্র স্থানান্তর হতেও পারে।’

তবে অনুসন্ধানের একপর্যায়ে গোপন সূত্রে মজনুর মায়ের মুঠোফোনের নম্বর পেয়ে তার সঙ্গে কথা বললে মজনুর জন্মস্থান ও পারিবারিক তথ্য সম্পর্কে জানা যায়।

গত রবিবার সন্ধ্যায় কুর্মিটোলায় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস থেকে নেমে ধর্ষণের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। পরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মজনু নামের এক ভবঘুরেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।