রাজাকার তালিকা নিয়ে সংসদে তোপের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী|193463|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:৩৩
রাজাকার তালিকা নিয়ে সংসদে তোপের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজাকার তালিকা নিয়ে সংসদে তোপের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

ফাইল ফটো

রাজাকারের তালিকা নিয়ে দায় এড়াতে গিয়ে সংসদে নিজ দলের সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

রাজাকারের তালিকা প্রণয়নে গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ বিষয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন জামালপুরের সাংসদ ফরিদুল হক।

তিনি সংসদে অনুপস্থিত থাকায় প্রশ্নটি সংসদে তোলেন সুনামগঞ্জের মোয়াজ্জেম হোসেন রতন।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, রাজাকারের তালিকা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রণয়ন করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ হতে ১০ হাজার ৭৮৫ জন রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং স্বাধীনতাবিরোধীর একটি তালিকা এ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। প্রাপ্ত তালিকা হুবহু মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় উক্ত তালিকা প্রস্তুত করেনি, সেহেতু প্রশ্নে উত্থাপিত বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

মন্ত্রীর জবাবের পর মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তালিকা দিয়েছে এ কথা বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এড়ানো যায় না। কারণ যার কাছ থেকেই আপনি তথ্য নেন, সেটা সঠিক আছে কি না, এটা দেখার দায়িত্ব এই মন্ত্রণালয়ের ওপর বর্তায়। আজকে কিছু কিছু জায়গায় অসংগতির কারণে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি। এই বিষয়ে আমরা আহত হয়েছি। প্রকৃত রাজাকারের নামও এ তালিকায় আসেনি। এই বিষয়ে এই মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সকলের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃত রাজাকারদের তালিকা আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে আপনারা প্রকাশ করবেন কি না, জানতে চাই।

জবাবে মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, আগেই দুঃখ প্রকাশ করে সেই তালিকা আমরা প্রত্যাহার করে নিয়েছি ভুল ত্রুটি ছিল বলেই। ভবিষ্যতে যাতে ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সবার সহযোগিতা নিয়ে সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রকাশ করব।

এরপর সম্পূরক প্রশ্নে চাঁদপুরের রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি যেহেতু মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য, তাই এমন কিছু বলব না যাতে মন্ত্রী অপ্রস্তুত হন। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল আমরা কোনো তালিকা তৈরি করব না। জিনিসটা গুরুতর। সারা জাতি এটা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তাদের যে বিদ্যমান তালিকা আছে, সেটা প্রকাশ করা হবে।

মন্ত্রী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তালিকা প্রস্তুত করেনি। উত্থাপিত প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিতে পারে। আমি বিনয়ের সাথে এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি। কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী দিয়েছে তাকে, সেটা আমরা জানি না এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেহেতু এটার মালিক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ছিল তারাই তো প্রকাশ করতে পারত। মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী কেন সেটা প্রকাশ করলেন? তিনি যেহেতু এটা প্রকাশ করেছেন, দায়-দায়িত্ব তাকে নিতে হবে।

সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নটি হচ্ছে, তিনি তো এখন পর্যন্ত সঠিক রাজাকারের তালিকা সংগ্রহ করতে পারেননি। আমার ধারণা তিনি পারবেন না। কারণ গত পাঁচ বছর ধরে আমরা একই কথা শুনে আসছি। আমি বলব, তিনি এখন আর এটা পারবেন বলে মনে হয় না। ৯০৭ বা কিছু একটা সংখ্যা বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে রাজাকারের তালিকা, সে তালিকাটি প্রকাশ করা হয়নি। এটা একটা সঠিক তালিকা।

জবাবে মন্ত্রী মোজাম্মেল বলেন, আমরা সংসদে বলেছিলাম কোনো তালিকা প্রণয়ন করব না। প্রকাশ করব। ঘটনাও তাই হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তালিকা প্রণয়ন করেনি। তাদের কাছে যে তালিকা সংরক্ষিত ছিল, আমাদের সরবরাহ করেছে, সেটাই আমরা প্রকাশ করেছি। কোনো প্রশ্নে যাচ্ছি না। শুধু এটুকু বলতে চাই, তালিকায় যাদের নাম গেছে তাদের নাম, সক্রিয় ছিল কি না, সেটা যাচাই করার ব্যাপার। যে তালিকা তখনকার মেম্বার-চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে, তাদের অজ্ঞাতে অনেকের নাম দিয়ে দিয়েছে হয়তবা। এ কারণেই এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সম্পূরক প্রশ্নে গণফোরামের সুলতান মো. মনসুর বলেন, বিভক্তি সৃষ্টি না করলেই ভালো হতো। অনেক রাজাকার মুক্তিযোদ্ধাদের পথ দেখিয়েছিল। পিস কমিটিতে সম্মানিত অনেক ব্যক্তি ছিলেন। মুজিববর্ষ পালনের এই শুভ লগ্নে এমন কিছু করতে যাবেন না, যার মধ্য দিয়ে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। গত বিজয় দিবসের আগের দিন সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী মোজাম্মেল হক ১০ হাজার ৭৮৯ জন স্বাধীনতাবিরোধীর তালিকা প্রকাশ করেন। ওই তালিকায় গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নাম আসায় ক্ষোভ আর সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সংশোধনের জন্য ওই তালিকা স্থগিত করা হয়।