লিবিয়া নিয়ে কাড়াকাড়ি|193686|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
লিবিয়া নিয়ে কাড়াকাড়ি
প্রতিদিন ডেস্ক

লিবিয়া নিয়ে কাড়াকাড়ি

উত্তর আফ্রিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ লিবিয়া। ন্যাটো সমর্থিত বাহিনীর অভিযানে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন ও নিহত হওয়ার পর প্রায় এক দশক ধরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে। এ গৃহযুদ্ধের সঙ্গে শুধু দেশটির বিবদমান পক্ষগুলোই জড়িত নয়, আন্তর্জাতিক শক্তিও বিভিন্ন দিক দিয়ে জড়িত।

সম্প্রতি জাতিসংঘ সমর্থিত ত্রিপোলির সরকার ও লিবিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাফতার বাহিনীর মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তির উদ্দেশ্যে মস্কোয় এক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের আয়োজন করে তুরস্ক ও রাশিয়া। মূলত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের উদ্যোগেই লিবিয়ার বিবদমান দুই পক্ষ আলোচনায় বসে। কিন্তু আলোচনা অসম্পূর্ণ রেখেই মস্কো ত্যাগ করেন জেনারেল হাফতার।

লিবিয়া ইতিমধ্যেই এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্র। মস্কোতে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুদ্ধের উত্তাপ আরও বেড়েছে। আরও নতুন নতুন দেশ লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে তুরস্ক, মিসর, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফ্রান্স। এদের মধ্যে তুরস্ক ইতিমধ্যেই লিবিয়াতে সেনা পাঠাতে শুরু করেছে। তুরস্কের সঙ্গে সিরিয়ায় লড়াইরত বিদ্রোহীদের একাংশও লিবিয়াতে গেছে হাফতারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে।

আঙ্কারা বলছে, তারা লিবিয়ায় জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারকে সাহায্য করতেই সেনা পাঠাচ্ছে। পশ্চিমা শক্তিগুলো সমর্থন দিচ্ছে ত্রিপোলির প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল সেরাজশাসিত সরকারকে। অন্যদিকে রাশিয়া সমর্থন দিচ্ছে জেনারেল হাফতারের বাহিনীকে, যাদের হাতে লিবিয়ার পূর্বাংশের দখল রয়েছে। উল্লেখ্য যে, লিবিয়া ইস্যুতে তুরস্ক ও রাশিয়া পরস্পরবিরোধী হলেও এ দেশ দুটির মধ্যে অতীতের সবসময়ের চেয়ে বর্তমানে সুসম্পর্ক বিরাজ করছে।

বিদেশি শক্তিগুলোর প্রত্যেকেরই নিজস্ব এজেন্ডা রয়েছে লিবিয়ায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও জর্ডান জেনারেল হাফতারের বাহিনীকে অস্ত্র ও অন্য সামরিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আর কাতার সহায়তা দিচ্ছে সেরাজ সরকারকে। লিবিয়া ইস্যুতে বিভিন্ন দেশগুলো স্বতন্ত্র অবস্থান গোটা অঞ্চলের অন্য সংঘাতগুলোকেও অস্থিতিশীল করে তুলছে। মিসরের কাছে লিবিয়া তাদের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ফ্রান্স হাফতারের দলে। আর ফ্রান্সের কারণে ইতালি সমর্থন দিচ্ছে সেরাজ সরকারকে। লিবিয়া ইস্যুতে কেন এতগুলো দেশের আগ্রহ? এর কারণ হলো; আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি তেলের খনি লিবিয়ার। এছাড়া প্রাকৃতির গ্যাসের অন্যতম বাজারও দেশটি। আফ্রিকার শরণার্থীদের ইউরোপে প্রবেশের দুয়ারও এই দেশ। ফলে বিদেশি দেশগুলো যার যার স্বার্থ নিয়ে লিবিয়ায় ভূমিকা পালন করতে চাইছে।