ভুয়া ওষুধে সয়লাব আফ্রিকা|193691|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
ভুয়া ওষুধে সয়লাব আফ্রিকা
প্রতিদিন ডেস্ক

ভুয়া ওষুধে সয়লাব আফ্রিকা

টোঙ্গার দর্জি আয়ায়ো হেইভি একই সঙ্গে টাইফয়েড ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। ডাক্তার তাকে কিছু ওষুধ খেতে বলেন, যা খেলে হেইভি সুস্থ হয়ে যাবেন এমনটাই বলেছিলেন ডাক্তার। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পর হেইভির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। নতুন করে তার কিডনিতে সমস্যা শুরু হয়। কারণ তিনি যে ওষুধ খেয়েছিলেন, তা ছিল ভুয়া।

দুই সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর রাজধানী লোমের হাসপাতালে পাঠানো হয় হেইভিকে। তত দিনে সে চলচ্ছশক্তি হারিয়েছে। তার ভাষ্যে, ‘ডাক্তার বলেছে, আমার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কুইনাইন ও অ্যান্টিবায়োটিক আমি খেয়েছিলাম, তা ছিল ভুয়া।’ হেইভি এখন আর হাঁটতে পারেন না। নিয়মিত তাকে কিডনি ডায়ালিসিসের ওপর নির্ভর করতে হয় বেঁচে থাকার জন্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, প্রতি বছর আফ্রিকায় এক লাখের বেশি মানুষ মারা যায় ভুয়া ওষুধ খেয়ে। আর দ্য আমেরিকান সোসাইটি অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিনের মতে, ২০১৫ সালে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী ভুয়া ওষুধ খেয়ে আফ্রিকায় পাঁচ বছরের নিচের বয়সী ১ লাখ ২২ হাজার শিশু মারা গেছে।

দুর্বল ব্যবস্থাপনা, মানহীন স্বাস্থ্যসেবা ও দারিদ্র্যের কারণে আফ্রিকায় ভুয়া ওষুধ বাণিজ্য গেড়ে বসেছে। ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বে বাজেয়াপ্ত ভুয়া ওষুধের ৪২ শতাংশই ধরা পড়ে আফ্রিকায়। এই ভুয়া ওষুধের তালিকায় ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী কুইনাইন ও অ্যান্টিবায়োটিক অন্যতম।

রিপাবলিক অব কঙ্গো, গাম্বিয়া, ঘানা, নাইজার, সেনেগাল, টোগো ও উগান্ডার প্রেসিডেন্টরা ১০ জানুয়ারি লোমে মিলিত হয়েছিলেন ভুয়া ওষুধ পাচার ও ব্যবসা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। কিন্তু এএফপি বলছে, আফ্রিকার সরকারগুলো কাগজে-কলমে পদক্ষেপ নিলেও ভুয়া ওষুদের প্রবাহ কমানো যাচ্ছে না। প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে দোকানে দোকানে পৌঁছে যাচ্ছে ভুয়া ওষুধ। ওই ওষুধই পরে প্যাকেট করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি হয়।

টোগোর ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডা. ইন্নোসেন্ট কোন্ডে পেটো বলেন, ‘ভুয়া ওষুধ কোথা থেকে আসে তা বের করা খুব কঠিন। প্যাকেটের গায়ে যে দেশের নাম থাকে, খোঁজ নিলে দেখা যায় ওই দেশে ওই ওষুধই তৈরি হয় না। ভুয়া ওষুধের উৎপাদকরা তাদের পরিচয় লুকিয়ে ফেলে।’ আফ্রিকায় বিক্রি হওয়া ওষুধের মধ্যে ৩০ থেকে ৬০ শতাংশই ভুয়া, আর এসব ওষুধ চীন ও ভারত থেকে আসে বলেও জানান পেটো। যদিও চীন ও ভারতের ওষুধ ব্যবসায়ীরা এ নিয়ে এএফপির সঙ্গে কোন কথা বলেননি।