মৃত ঘোষণার পর দাফনের আগে মায়ের কোলে নড়ে উঠল সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু|194251|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:২৭
মৃত ঘোষণার পর দাফনের আগে মায়ের কোলে নড়ে উঠল সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

মৃত ঘোষণার পর দাফনের আগে মায়ের কোলে নড়ে উঠল সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু

চুয়াডাঙ্গায় সদ্য ভূমিষ্ঠ এক কন্যা শিশুকে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে শহরজুড়ে। সোমবার সকালে শহরের হাসপাতাল সড়কের উপশম নার্সিং হোমে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ক্লিনিকের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটিকে মৃত ভেবে দাফনের প্রস্তুতিও নেয়া হয়। শেষবার শিশুর মা তাকে কোলে নেন। আর তখনই সে নড়ে ওঠে।

এরপর তড়িঘড়ি করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে শহরজুড়ে শুরু হয় চাঞ্চল্য। শিশুটিকে দেখতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের আবদুল হালিম ও জিনিয়া খাতুনের বিয়ে হয় কয়েক বছর আগে। এরই মধ্যে জিনিয়ার গর্ভে সন্তান আসে। তাকে নিয়মিত চেকআপ করতেন জেলা শহরের উপশম নার্সিং হোমের স্বত্বাধিকারী ডা. জিন্নাতুল আরা।

রোববার বিকেলে জিনিয়ার প্রসববেদনা শুরু হলে তাকে নেয়া হয় ডা. জিন্নাতুল আরার কাছে। সেখানে তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন জিনিয়া। ভোর ৪টার দিকে কন্যা সন্তান প্রসব করেন জিনিয়া খাতুন।

জিনিয়া খাতুন জানান, রোববার বিকেলে প্রসববেদনা উঠলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডা. জিন্নাতুল আরার মালিকানাধীন উপশম নার্সিং হোমে ভর্তি করে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিজার করার কথা জানান হলেও সোমবার ভোরে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে আমার কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ক্লিনিকের আয়া ও চিকিৎসকরা আমার মৃত কন্যা শিশু হয়েছে বলে জানায়। এরপর তাকে ক্লিনিকের মেঝেতে অযত্নে-অবহেলায় রেখে দেওয়া হয়।

প্রসূতির মা কুলসুম বেগমের অভিযোগ, মৃত কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার খবরে আমরা দাফন-কাফনের জন্যও প্রস্তুতি নিতে থাকি। তখনই আমার মেয়ে তার কন্যাকে শেষ বারের মতো দেখতে চায়। এরপর শিশুকে কোলে নিতেই নড়ে ওঠে সে। এ সময় আমাদের স্বজনদের চিৎকারে ডা. জিন্নাতুল আরা শিশুকে অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে গোপনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন।

বর্তমানে শিশুটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।

শিশুটির নানা সজীত মন্ডলের অভিযোগ, শিশুটি যে বেঁচে আছে এই বিষয়টি ওই ক্লিনিকের চিকিৎসকরা কোনোভাবেই মানতে চাচ্ছিল না, উল্টো তারা শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এ সময় আমরা ডাক্তারের কথা বিশ্বাস করলে পলিথিনের মধ্যেই মারা যেত সদ্য ভূমিষ্ঠ জান্নাতুল।

শিশুর বাবা আব্দুল হালিম  জানান, ‘ও সাত মাসে জন্ম নিয়েছে। আমি ওর নাম রেখেছি জান্নাতুল। সে এখন ভালোই আছে। হাত-পা নেড়ে খেলছে। পিটপিট করে তাকাচ্ছে। আমার বিশ্বাস জান্নাতুল বেঁচে থাকবে।’

এ ব্যাপারে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন বলেন, ‘সময় হওয়ার আগেই শিশুটি জন্ম নিয়েছে। তাকে ইনকিউবেটরের মধ্যে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আপাতত সে সুস্থ আছে। তবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না’।

এ ব্যাপারে উপশম নার্সিং হোমের ডা. জিন্নাতুল আরা বলেন, শিশুটি যখন হয় একেবারেই শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল না। নাভির কাছে কেবল ঢিপঢিপ শব্দ ছিল। চার ঘণ্টা অক্সিজেন দেওয়ার পর সে কিছুটা সুস্থ হলে আমরা আজ (সোমবার) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই।