মাঘের শীতে বিপর্যস্ত নীলফামারীর জনজীবন|194356|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ১৪:২৯
মাঘের শীতে বিপর্যস্ত নীলফামারীর জনজীবন
নীলফামারী প্রতিনিধি

মাঘের শীতে বিপর্যস্ত  নীলফামারীর জনজীবন

উত্তরাঞ্চলে প্রবাদ রয়েছে ‘মাঘের জাঁরে বাঘ কাঁন্দে’ (মাঘ মাসের শীতে বাঘও কাঁদে)। তবে এখন বাঘ না কাঁদলেও এই মাঘের তীব্র শীতে কাঁপছে হিমালয়ের পাদদেশে থাকা উত্তরের জেলা নীলফামারী।

মাঘ মাসের শুরুর দিন থেকেই তীব্র শীত জেঁকে বসেছে নীলফামারীতে।

গত তিন দিন ধরে ঘন কুয়াশা আর হিমশীতল বাতাসে শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

মঙ্গলবার সকাল ৬টায় নীলফামারী জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া দপ্তর।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছেন সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়া সহকারী লোকমান হাকিম।

তিনি বলেন, টানা কয়েক দিন বিরতি থাকার পর গত শনিবার থেকে জেলায় তাপমাত্রা কমতে থাকে। ওই দিন জেলা জুড়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হয়।

রবিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। তবে তাপমাত্রা আরো কমে মঙ্গলবার সকাল ৬টা ও ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসায় বর্তমানে জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইয়ে যাচ্ছে।

২৬ জানুয়ারির থেকে তাপমাত্রা আরও কমে ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

টানা তিন দিন থেকে বইয়ে যাওয়া হিমশীতল বাতাস আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশ ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় ঘড়ির কাঁটায় দুপুর একটা বাজলেও দেখা মেলেনি সূর্যের। সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে ভারী ও মাঝারি যানবাহনগুলো চলাচল করতে দেখা গেছে।

মৃদু শৈত্য প্রবাহ আর হিমশীতল বাতাস বইয়ে যাওয়া তীব্র শীতে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। ফলে অধিকাংশ সময় জনশূন্য থাকছে শহরের রাস্তাঘাট। তীব্র শীতে ঘর থেকে বের হতে না পারায় চমর বেকায়দায় পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষগুলো।

নীলফামারী পৌর শহরের থানাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রিকশা চালক দুলাল হোসেন বলেন, ‘অন্যান্য দিন সকাল ৮টার মধ্যে রিকশা নিয়ে শহরে বের হয়। কিন্তু গত তিন দিন থেকে প্রচণ্ড শীত পড়ায় এখন সকাল ১০টা থেকে ১১টার দিকে বের হতে হচ্ছে। আজ সকাল ১০টায় রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি, এখন বেলা একটা বাজে মাত্র ৫০ টাকা আয় হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শীতের কারণে মানুষ তেমন একটা বের হচ্ছে না, যে দু একজন বের হচ্ছেন তারাও রিকশাই চরছে না।’

নীলফামারী শহরের বাবুপাড়া মহল্লার বাসীন্দা রিপন রায় বলেন, ‘মাঘ মাস পড়ায় গত তিন দিন থেকে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায় মাঝে মধ্যে সূর্যের তাপ ছড়ানোর কারণে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সন্ধ্যার পর থেকে বেশি শীত অনুভূত হয়। প্রচণ্ড শীতে হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।’

নীলফামারী জেলা সদরের ইটাখোরা ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষি শ্রমিক নজরুল ইসলাম (৬০) বলেন, ‘মাঘ মাসের জাঁরোত বাঘ কান্দে বাহে। মাঘ মাস যে দিন থেকে পড়িছে ওই দিন থেকি হামার কাঁপানি শুরু হইছে। অ্যাইত (রাত) দিন সমানে ক্ষীব শীত। হাত পা শিক নাগি যাইছে। সকাল বেলাও সূর্য দেখা পাওয়া যাইছে না। শির শির বাতাসত মাঠোত কাম করির পাওছো না।’

নীলফামারী ডিমলা উপজেলা শহরের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। হিমশীতল বাতাসের কারণে শরীরর কাঁপুনি শুরু হয়েছে। ভারী গরম কাপড় শরীরে থাকার পরেও শীত নিবারণ কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

নীলফামারী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস.এ হায়াত বলেন, এবারের শীতে জেলায় সরকারিভাবে ৫৫ হাজার কম্বল, ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং শীতবস্ত্র ক্রয়ের  জন্য নগদ ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার ছয় উপজেলায় ৫২ হাজার কম্বল ও দুই হাজার ৫৭৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়াও উপজেলায় আরো শীতবস্ত্র ক্রয় করে তা বিতরণের জন্য নগদ ১২ লাখ টাকা বিভাজন করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে প্রদান করা হয়েছে।