ধর্ষণ মামলার সাক্ষীকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে|194384|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:২৯
ধর্ষণ মামলার সাক্ষীকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
পাবনা প্রতিনিধি

ধর্ষণ মামলার সাক্ষীকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

পাবনায় ধর্ষণ মামলার এক সাক্ষীকে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত আসামির সহযোগী সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসীরা এ সময় মামলার সাক্ষী ওই যুবককে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার মালিগাছা ইউনিয়নের গাছপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ফাঁস হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাস্থলে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম ও একজন সিপাহিকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

আহত যুবকের নাম আব্দুল আলীম (৩৫)। সে পৌর এলাকার নুরপুর মহল্লার মৃত আয়নুল হকের ছেলে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। উদ্বেগ জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরাও।

আহত আব্দুল আলীম জানান, মালিগাছা ইউনিয়নের একটি ধর্ষণ মামলার তদন্তের বিষয়ে কথা বলতে ওই দিন সন্ধ্যায় মোবাইলে ফোন করে ডেকে নেন সদর থানার ওসি (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম। কিছুক্ষণ কথা বলার পরপরই সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা ওই ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মালিগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফের ছোট ভাই আরিফুলের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। পুলিশের সামনেই সন্ত্রাসীরা আমাকে এলোপাতাড়িভাবে লোহার রড, হকি স্টিক দিয়ে পেটাতে শুরু করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

সন্ত্রাসীরা চলে গেলে স্থানীয়রা আলিমকে উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শুক্রবার রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সোমবার রাতে তাকে পুনরায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে আহত আব্দুল আলীম সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে মারপিটের সময় আলীমকে নিরাপত্তা না দিয়ে ও উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা না নিয়ে ওসি (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম ও একজন সিপাহিকে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায়।

আব্দুল আলীমের মা আলেয়া খাতুন বলেন, আমার ছেলেকে পুলিশ ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়। সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে জখম করে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি।

আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, অপরাধীদের হাত থেকে যদি নিরাপত্তাই না দিতে পারে তবে, পুলিশ কেন আলীমকে ডেকে নিয়ে বিপদে ফেলল। পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের নিশ্চয়ই যোগসাজশ ছিল।

মানবাধিকারকর্মী মুজতবা আব্দুল আহাদ বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির হামলার শিকার হওয়া অপ্রত্যাশিত। এ ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে।

এ ব্যাপারে ওসি তদন্ত খাইরুলের বক্তব্য নিতে তার কার্যালয়ে গেলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস হামলার ঘটনাকে আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত দাবি করে বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোয়েন্দা) শামিমা আকতারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, গত সোমবার রাতে আহত আব্দুল আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন বাদী হয়ে দশ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসে ওই এলাকার এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। গত ২২ ডিসেম্বর মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে মালিগাছা ইউপির চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলামসহ আটজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করছিলেন সদর থানার পরিদর্শক তদন্ত খাইরুল ইসলাম। তিনি এই মামলায় সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য আহত আবদুল আলীমসহ চারজনকে ওই চায়ের দোকানে ডেকেছিলেন।