ঢাবিতে হলের রিডিং রুমে প্রবেশে ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা|194401|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ২২:১২
ঢাবিতে হলের রিডিং রুমে প্রবেশে ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা
ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাবিতে হলের রিডিং রুমে প্রবেশে ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের রিডিং রুমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

হল ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের অনুমতি ছাড়া রিডিং রুমে প্রবেশ করা যাবে না বলে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে। যদি কেউ এই নির্দেশনা অমান্য করে রিডিং রুমে প্রবেশ করে তাদের মারধর করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে হলটির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান রনির অনুসারীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের আরিফ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অয়ন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের হাসান, সমাজ কল্যাণ বিভাগের পলাশ, পালি ও বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের মাহবুব, সমাজ কল্যাণ বিভাগের জাবেদ, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের তানভীর, পালি ও বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের আকির।

জানা গেছে, রনির অনুসারী দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে তিন দিন গেস্টরুমে নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়। গেস্টরুমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা যাতে হলের ক্যানটিনে না খায়, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এমনকি তাদেরকে রিডিং রুমে যেতেও নিষেধ করা হয়। গেলে পরবর্তী গেস্টরুমে তাদেরকে মারধর করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, গেস্টরুমে যখন রিডিং রুমে যাওয়ার জন্য নিষেধ করা হয় তখন পাশ থেকে আমার এক বন্ধু সিনিয়রদের কাছে জানতে চায় গণরুমে পড়া যায় না, তাহলে কোথায় গিয়ে পড়ব? জবাবে সিনিয়ররা বলেন, প্রথম বর্ষে কোনো পড়াশোনা নেই। ঘুরবি, বেড়াবি এবং রাজনীতি করবি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রনি বলেন, তাদেরকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমি খোঁজ নিচ্ছি, আসল ঘটনা জানার চেষ্টা করছি।।

অভিযোগের বিষয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি দেখব। এ রকম হয়ে থাকলে আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক কে এম সাইফুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ হলের অথোরিটি নয়, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারির কোন এখতিয়ার তাদের নেই। এ ব্যাপারে এখনো আমি কোন ধরনের অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।