মাদক পাচারের নিরাপদ রুট|194436|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর
মাদক পাচারের নিরাপদ রুট
জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী

মাদক পাচারের নিরাপদ রুট

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নৌরুটে কড়াকড়ি আরোপের ফলে এখন মাদকসহ চোরাচালানের নিরাপদ রুট হয়ে উঠছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। গত এক বছরে মাদকের বেশ কয়েকটি বড় চালান আটকের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এখনই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে উপকূলীয় এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের মতো মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে বলে মনে করেছেন তারা।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সাগরপথে পটুয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা কলাপাড়া, মহিপুর ও রাঙ্গাবালীর রয়েছে সহজ যোগাযোগ। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে টেকনাফ-কক্সবাজার এলাকার মাদক কারবারিরা পরিবহনের নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটা ও মৎস্যবন্দর মহিপুর, আলীপুর এবং কলাপাড়াকে। গভীর সাগরে মাছ শিকারি একশ্রেণির ট্রলারের মাঝি, জেলে এবং মালিকদের মাদক পাচারের কাজে কারবারিসহ ভাগীদার বানাচ্ছে ওইসব গডফাদার। এ রুটে ইয়াবার বেশ কয়েকটি বড় চালান আটকে জনমনে স্বস্তি ফিরে এলেও স্থানীয়সহ মূল গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে না পারায় উৎকণ্ঠাও রয়ে গেছে জনমনে। অল্প সময়ে বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়ার লোভে দখিনের এ জনপদে দিনদিন বাড়ছে ইয়াবা কারবারিসহ গডফাদারদের সংখ্যা।

পটুয়াখালী পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে জেলায় মাদকসংক্রান্ত মামলা হয়েছে ১ হাজার ৯৪টি, এতে আসামি হয়েছে ১ হাজার ৪২৬ জন নারী-পুরুষ। এ সময় উদ্ধার হয়েছে সাড়ে সাত লাখের বেশি ইয়াবা, ১২৮ কেজি গাঁজা, ৭৪১ লিটার মদ এবং ২ দুই সহস্রাধিক বোতল ফেনসিডিল। অন্যদিকে ২০১৯ সালে শুধু উপকূলীয় রুটের মহিপুর ও কলাপাড়া থানায় বিভিন্ন বাহিনীর অভিযানে ২৪১টি মাদকের চালান আটক হয়েছে। এতে ৫৭ লাখ ২ হাজার ১৬৬ পিস ইয়াবা, ৫৮৫ লিটার মদ, ২৪ কেজি গাঁজা আটক করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ২৪৫টি মামলায় নারীসহ ২৯৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৯৪ জনকে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মোতালেব শরীফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাদক কারবারিরা এ রুটটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে সদ্য বিকশিত পর্যটনভিত্তিক কুয়াকাটার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। মহিপুর ট্রলার ও আড়তদার মালিক সমিতির সহসভাপতি আব্বাস মোল্লা বলেন, চাপে পড়ে কয়েকজন জেলে বিপথগামী হয়েছে। তবে সমুদ্রগামী জেলেদের নিয়ে নিয়মিত কাউন্সিল করা হচ্ছে।

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সিনিয়র এএসপি জহিরুল ইসলাম বলেন, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর দিয়ে এ অঞ্চলে কিছু মাদক প্রবেশ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে পর্যটন নগরীতে আসা পর্যটকদের সামাল দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাজিউর রহমান বলেন, স্থায়ী রুট হিসেবে পরিণত হওয়ার আগেই এর শেকড় তুলে ফেলতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি কুয়াকাটায় মাদকবিরোধী ম্যারাথন দৌড়ের উদ্বোধনকালে র‌্যাবের মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ বলেছিলেন, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এবং এ অঞ্চলের মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদেরসহ মাদক কারবারে অর্থের জোগানদাতা এবং হুন্ডি ব্যবসায়ীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।