দুই বিমানবন্দরে চীন ফেরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা|194486|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
দুই বিমানবন্দরে চীন ফেরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা
বিশেষ প্রতিনিধি

দুই বিমানবন্দরে চীন ফেরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

চীনে দেখা দেওয়া করোনা ভাইরাস যাতে বাংলাদেশে সংক্রমিত হতে না পারে সে লক্ষ্যে দেশের সব বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে সতর্কতা জারি করেছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে চীন থেকে   আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এজন্য এই দুই বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছে। কারও শরীরে তাপমাত্রা সন্দেহজনক মনে হলে হ্যান্ড হেলড ইনফেরারেড থার্মোমিটার দিয়ে তার তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এই দুই বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে কোনো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাত দেশ রূপান্তরকে জানান, সরাসরি চীন থেকে আসা তিনটি ফ্লাইট ও চীন থেকে হংকং হয়ে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। গতকাল রাত পর্যন্ত চীন থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। কারও শরীরেই সন্দেহজনক তাপমাত্রা ছিল না। এই কর্মকর্তা আরও জানান, কারও শরীরের তাপমাত্রা বেশি হলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এজন্য কুর্মিটোল জেনারেল হাসপাতাল ও মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইম সেন্টার খোলা হয়েছে। এরকম রোগী পেলে আমরা সরাসরি এই দুই হাসপাতালে পাঠাব। তাদের টেলিফোন নাম্বার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) দেওয়া হবে। তারা তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। দেখভাল করবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রোগতত্ত্ব ও রোগনিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ভয়েস অব আমেরিকাকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৪ দিনের মধ্যে চীন থেকে আসা যাত্রীদের এ সংক্রান্ত কোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাদের সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বলা হচ্ছে।

একইভাবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীন থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং (পরীক্ষা) করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে চীনে সরাসরি ফ্লাইট না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য, দুবাই, ভারত হয়ে কানেকটিং ফ্লাইটে চীন থেকে অনেকে আসেন।

এ ব্যাপারে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সরওয়ার-ই-জামান সাংবাদিকদের জানান, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ চীন থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং করছে। কানেকটিং ফ্লাইটের কোনো যাত্রীর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ রয়েছে কি না সেটির ওপরও নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। চীন থেকে আসা যাত্রীদের বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জানাতে ইমিগ্রেশনে বলা হয়েছে।

এ কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে সতর্কতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বিমানবন্দর এলাকায়। পালাক্রমে চিকিৎসক ও মেডিকেল টিম কাজ করছে। এখনো পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ আছে এমন যাত্রী পাওয়া যায়নি।

আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা ভাইরাস যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে আমরা সতর্ক থাকছি। যদি কোনোভাবে বাংলাদেশে এই রোগ ঢুকেও পড়ে তাতে শুরুতেই যেন আমরা রোগ শনাক্ত করতে পারি সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রোগটি যাতে বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে সেদিকেও লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। এই রোগতত্ত্ববিদ বলেন, একেবারেই নতুন ভাইরাস। ধারণা করা হচ্ছে অ্যানিমেল সোর্স থেকেই আসছে। মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর এখনো প্রমাণ মেলেনি। কোন অ্যানিমেল এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে চীন এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, বেশিরভাগ কেসই মাইল্ড, এখনো গুরুতর কিছু হয়নি। তবুও আমরা কঠোর নজরদারি করে যাচ্ছি।

ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা সব স্থলবন্দরকেও সতর্ক করেছি। বিমানবন্দরে থাকা চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষ ও সিভিল অ্যাভিয়েশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। কীভাবে কী করা যায় তা নিয়েও আমরা একটি মিটিং করেছি। সেখানে কী কী করতে হবে তা নিয়েও পরামর্শ দিয়েছি। এই করোনা ভাইরাসের মূল উপসর্গই হচ্ছে জ্বর। জ্বরের সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ থাকতে পারে। আমরা ফ্লাইটের মধ্যেই স্ক্রিনিং একটি ফরম দিচ্ছি। কারও কোনো রোগ থাকলে সেখানে তা পূরণ করবে যাতে পরবর্তী সময়ে কোনো প্রয়োজনে আমরা সেই তথ্য পেতে পারি। কারও জ্বর ছিল বা ছিল না সেটিও আমরা দেখতে পারব। এছাড়াও আমরা আরেকটি হেলথ কার্ড দিচ্ছি মেসেজসহ; যাতে বাসায় যাওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে কারও জ্বর এলে তিনি যেন হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন।’

করোনা ভাইরাস শনাক্তে আইইডিসিআর চারটি হটলাইন খুলেছে। কারও মধ্যে ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে এই হটলাইনে ফোন করে জানাতে বলা হয়েছে। নম্বরগুলো হলো- ০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪ ও ০১৯২৭৭১১৭৮৫।