বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে ভারতে দুইশ মুসলিমের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল পুলিশ|194574|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:৪৭
বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে ভারতে দুইশ মুসলিমের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল পুলিশ
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে ভারতে দুইশ মুসলিমের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল পুলিশ

ভারতে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে একটি বস্তির প্রায় দুইশ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরু শহরে পুলিশ ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়।

তবে অধিকারকর্মীদের দাবি, পুলিশ এই উচ্ছেদ অভিযানে যাদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে তারা সকলেই ভারতের নাগরিক এবং তাদের কাছে দেশটির বৈধ পরিচয়পত্রও আছে।

তাদের অভিযোগ, শহরের বিজেপি বিধায়ক অরবিন্দ লিম্বাভালির লাগাতার উসকানিতে পুলিশ বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে এই অভিযান শুরু করেছে

বিবিসি বাংলা জানায়, শনিবার রাতে বেঙ্গালুরুর বেলান্ডার শহরতলিসহ আরও কয়েকটি জায়গায় বাংলাভাষীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু হয়। ২৪ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চালায় পুলিশ।

স্থানীয় এনজিও কর্মী আর কলিমুল্লাহ বলেন, ‘কুন্দনহাল্লি, মোনেকালাসহ মোট চারটি জায়গায় একসঙ্গে বুলডোজার নিয়ে পুলিশ হানা দেয়। তারা বলে, বাংলাদেশিদের দুই ঘণ্টার মধ্যে ঘর খালি করে দিতে হবে। আমি ও আমাদের টিম তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ ঘরে ঢুকে খাবার পানির পাত্রও লাথি মেরে উল্টে দেয়, কেটে দেয় বিদ্যুৎ সংযোগ। সঙ্গে চলতে থাকে বাংলাদেশিদের নামে গালাগালি।’

এদিকে বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার ভাস্কর রাও দাবি করেন, নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতেই তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে আইনজীবী ও সমাজকর্মী দর্শনা মিত্র বললেন ভিন্ন কথা।

দর্শনা মিত্র বলেন, ‘আসলে বেঙ্গালুরুর অর্থনীতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারাথাল্লিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর নতুন ফ্ল্যাট তৈরি হয়, অনেক অফিসও গড়ে উঠে। এর ফলে ইনফর্মাল সেক্টরে গৃহকর্মী, আবাসন খাতের শ্রমিক, স্বুলবাসের চালক - এরকম অসংখ্য কাজের সুযোগও সৃষ্টি হয়। এসবের কারণে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশা থেকে দলে দলে লোকজন সেখানে যাচ্ছেনও।’

তিনি বলেন, ‘এদের মধ্যে প্রচুর লোকই বাঙালি, আর মাইগ্রেশন প্যাটার্নটা স্টাডি করলেই দেখা যাবে এরা বেশির ভাগই গেছেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদের মতো মুসলিম-অধ্যুষিত জেলাগুলো থেকে। এখন বাঙালি মুসলিমদের মধ্যে কে পশ্চিমবঙ্গের বা কে বাংলাদেশি, কর্ণাটকের পুলিশ বা একজন কান্নাডিগা আপাতদৃষ্টিতে সেই ফারাক যেহেতু করতে পারছে না, তাই তাদের অ্যাপ্রোচাটাই হলো মুসলিম হলেই তাদের বাংলাদেশি বলে চালিয়ে দাও।’

দর্শনা আরও বলেন, ‘এখানে কোনো বাছবিচারের ব্যাপারই নেই- এবারের ঘটনায় লোকজন তো তাদের পরিচয়পত্র বা আইডি প্রুফ দেখাতেও চেয়েছিল, কিন্তু বেঙ্গালুরুর পুলিশ তা চেক করারও প্রয়োজন মনে করেনি।’

এদিকে শনি ও রবিবারের এই বস্তি ভাঙচুরের পেছনে অনেকেই তুলে ধরছেন গত সপ্তাহে টুইটারে শাসক দল বিজেপির অত্যন্ত প্রভাবশালী বিধায়ক ও কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা অরবিন্দ লিম্বাভালির একাধিক পোস্টকে।

লিম্বাভালির পোস্ট করা একটি ভিডিওতে শহরের একটি বস্তিকে দেখিয়ে দাবি করা হয়, সেটিই না কি ব্যাঙ্গালোরে ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের মূল কেন্দ্র’। ভিডিওটিতে বলা হয়, ‘রোজই সেখানে নতুন লোকজনও আসছে, বাংলাদেশিদের রমরমা বেড়েই চলেছে।’

এই পোস্টের পর সাত দিন যেতে না-যেতেই সেই বস্তিটিই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।

এদিকে এক প্রতিক্রিয়ায় অধিকারকর্মী জকি সোমান জানান, ভারতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি তৈরির নামে মুসলিমরা যে হয়রানি ও ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন, বেঙ্গালুরুতে এরই মধ্যে তা শুরু হয়ে গেছে

তিনি বলেন, ‘ভারতের বৈধ নাগরিকদের এভাবে অপমান করার জন্য লিম্বাভালির বিরুদ্ধে আমরা এখন মানহানির মামলা করতে যাচ্ছি।’