কীভাবে পাওয়া যাবে ই-পাসপোর্ট|194612|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩১
কীভাবে পাওয়া যাবে ই-পাসপোর্ট
আশরাফুজ্জামান মণ্ডল

কীভাবে পাওয়া যাবে ই-পাসপোর্ট

চালু হয়েছে ই-পাসপোর্ট বিতরণ কর্মসূচী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন।

এর মধ্য দিয়ে ই-পাসপোর্ট বাস্তবায়নকারী বিশ্বের ১১৯তম দেশের মর্যাদা লাভ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু করল।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক চলাচলের ক্ষেত্রে অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ভ্রমণ আরও সহজ, ঝামেলামুক্ত ও সময় সাশ্রয়ী করতে ই-পাসপোর্ট অধিক কার্যকরী। কীভাবে এই ই-পাসপোর্ট পাওয়া যাবে, তা নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহল। 

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সূত্র বলছে, বর্তমানে প্রচলিত এমআরপি পাসপোর্টের মতো ই-পাসপোর্টের বইও একই রকমের থাকবে। তবে এমআরপি পাসপোর্ট বইয়ে প্রথমে তথ্য সংবলিত যে দুটি পাতা থাকে, ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না। সেখানে একটি কার্ড ও অ্যানটেনা থাকবে। সেই কার্ডের ভেতরে চিপ থাকবে, যেখানে পাসপোর্ট বাহকের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ডাটাবেজে থাকবে পাসপোর্টধারীর তিন ধরনের ছবি, ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ। ফলে যেকোনো দেশের কর্তৃপক্ষ সহজেই ভ্রমণকারী সম্পর্কে সব তথ্য জানতে পারবেন।

এমআরপি পাসপোর্টের সঙ্গে ই-পাসপোর্টের পার্থক্য অনেকটা ব্যাংকের চেক বই ও এটিএম কার্ডের মতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চেকবই স্বাক্ষর যাচাইবাছাই করে ব্যাংক কর্মকর্তারা অনুমোদন করে টাকা প্রদান করেন। কিন্তু এটিএম কার্ড দিয়ে যে কেউ নিজে থেকেই টাকা তুলতে পারেন। তেমনি এমআরপি পাসপোর্টে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তথ্য যাচাই বাছাই করে পাসপোর্টে সিল দিয়ে থাকেন। কিন্তু ই-পাসপোর্টধারী যন্ত্রের মাধ্যমে নিজে থেকেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা যায়। তবে পরবর্তী ধাপে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারাই পাসপোর্টে আগমন অথবা বহির্গমন সিল দিয়ে থাকেন।

ই-পাসপোর্ট করার পদ্ধতি, ফি ও সুবিধা

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুরুতে রাজধানীর উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও আগারগাঁও এই তিনটি আঞ্চলিক অফিস ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু করছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় ৬৯টি পাসপোর্ট অফিস, ৩৩টি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, বিদেশে অবস্থিত ৭৫টি বাংলাদেশ মিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হবে।

ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইনে পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করে পূরণ করা যাবে। এতে কোনো ছবির প্রয়োজন হবে না। কোনো ধরনের কাগজপত্রও সত্যায়িত করতে হবে না। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদসহ মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে।

ই-পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আন্তর্জাতিক চলাচলে বিড়ম্বনা ছাড়াই স্বল্প সময়ে যাতায়াত করতে পারবেন ভ্রমণকারীরা। এতে বিমানবন্দরগুলোতে ভ্রমণকারীদের ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ফলে দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পূর্ণ হবে। এই প্রক্রিয়ায় একজন ভ্রমণকারী যখন ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে যাতায়াত করবেন, সঙ্গে সঙ্গে সেটি কেন্দ্রীয় তথ্যাগারের (পাবলিক কি ডাইরেক্টরি-পিকেডি) সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবে। ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে তিনি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন। তবে গরমিল থাকলে লালবাতি জ্বলে উঠবে। এ সময় বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কর্মকর্তা বিষয়টি দেখবেন।  কারও বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, সেটিও সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাভিয়েশন সংস্থা (আইসিএও) এটি পরিচালনা করে। ফলে ইন্টারপোলসহ বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য যাচাই করতে পারে। এখানে ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকায় এ ধরনের পাসপোর্ট জাল করা সহজ নয় বলে জানান কর্মকর্তারা।

জানা যায়, আপাতত পাঁচ ও দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে সরকার। বয়স ভেদে পাসপোর্টের এই মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে। অনলাইন আবেদনের সময় এর ফি পরিশোধ করা যাবে। পাসপোর্ট ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করা হবে। বাংলাদেশে থাকা পাসপোর্ট অফিসের আবেদন জমা দেয়ার ক্ষেত্রে অনলাইনে পেমেন্ট করা যাবে। এছাড়াও নির্ধারিত কিছু ব্যাংকের মাধ্যমেও পাসপোর্ট ফি জমা দেয়া যাবে।

৫ বছর মেয়াদি ৪৮ পাতার পাসপোর্ট স্বাভাবিক সময়ে অর্থাৎ ২১ কার্যদিবসে পেতে হলে ফি দিতে হবে ৪,০২৫ টাকা। একই পাসপোর্ট এক্সপ্রেস ডেলিভারি অর্থাৎ ১০ কর্মদিবসে পেতে লাগবে ৬,৩২৫ টাকা এবং দুই কর্ম দিবসে পেতে হলে ৮,৬২৫ টাকা জমা দিতে হবে।

১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পাতার পাসপোর্ট ২১ কর্ম দিবসে পেতে হলে ৫,৭৫০ টাকা, ১০ কর্মদিবসে পেতে ৮,০৫০ টাকা এবং দুই কর্মদিবসে পেতে ১০,৩৫০ টাকা জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে ৫ বছর মেয়াদি ৬৪ পাতার পাসপোর্ট ২১ দিনে পেতে ৬৩২৫ টাকা, ১০ কর্মদিবসে পেতে ৮৬২৫ টাকা এবং দুই কর্মদিবসে পেতে ১২,০৭৫ টাকা ফি জমা দিতে হবে। একই সংখ্যক পাতার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট ২১ কর্ম দিবসে পেতে ৮,০৫০ টাকা, ১০ কর্মদিবসে পেতে ১০,৩৫০টাকা এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির মাধ্যমে মাত্র দুই কর্মদিবসে পেতে হলে ফি দিতে হবে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা।

জানা গেছে, প্রচলিত ব্যবস্থার মতো ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও ভিসার বিষয়টি একই থাকবে। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি বা অনলাইনে ভিসার শর্ত পূরণ করেই ভিসা নিতে হবে। ই-পাসপোর্ট চালু হলেও আপাতত এমআরপি পাসপোর্ট বাতিল করা হবে না বলে জানিয়েছেন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।