অনাথের মাতৃছায়া|194643|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
অনাথের মাতৃছায়া
হোসাইন মোহাম্মদ জাকি

অনাথের মাতৃছায়া

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে অনেক শিশু মাতৃ-পিতৃহীন হয়ে পড়ে। এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অস্ট্রিয়ার নাগরিক অধ্যাপক হারম্যান মেইনার। তিনি নিজেও ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারিয়েছেন। বড় হয়েছেন বোনের কাছে। কীভাবে অনাথ সন্তানদের পরিবারে রেখে মানুষ করা যায় বিষয়টি নিয়ে তার ভাবনার বাস্তবায়ন শুরু হয় ১৯৪৯ সালে অস্ট্রিয়ার টাইরল প্রদেশে শিশুপল্লী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে যার নাম হয় এসওএস শিশুপল্লী। বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে সংস্থাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। হারম্যান মেইনার তহবিল ও বিশ্বব্যাপী অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় বেড়ে উঠেছে সংস্থাটি। বর্তমানে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও সিলেটে এর কার্যক্রম চলছে।
শিশুপল্লী নাকি শিশুস্বর্গ!
ঢাকা এসওএস শিশুপল্লীর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে আছেন মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, ন্যাশনাল ডিরেক্টর গোলাম আহমেদ ইসহাকের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে এসওএস আন্তর্জাতিক শিশুপল্লীর সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী শিশুপল্লীগুলোর পরিচর্যায় ১১০২ জন শিশু বা যুবা রয়েছে। পরিবার শক্তিশালীকরণ কর্মসূচির আওতায় ৭৪৭৮ জন উপকারভোগী রয়েছেন, আরও ৩৯৩৫টি পরিবার উপকৃত হয়েছেন। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা পেয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন ১১২৬ জন যুবক। বর্তমানে শ্যামলীর শিশুপল্লীতে ১৫টি পরিবারের মাঝে সর্বমোট ১৩২ জন শিশু বসবাস করছে। একজন মায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি পরিবার পরিচালিত হয়। এই মা প্রকৃতপক্ষে একজন অনন্য নারী। এসওএস শিশু পল্লীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিশুর জীবন গঠনে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ‘মা’ নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার সময় এ শিশুদের জীবন গঠনের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। এ প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য এসওএস শিশুপল্লী তাদের প্রয়োজনীয় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। পল্লীতে থেকে যেতে চাইলে তাদের জন্য বাসভবনের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে আগত মায়েরা শিশুর লালন-পালনকে জীবনের ব্রত হিসেবে দেখেন। সাধারণত বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত একজন শিক্ষিত নারী মা হিসেবে নিয়োগ পান। অনাথ শিশুদের জন্য যত্নশীল পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তোলা একজন মায়ের মূল দায়িত্ব। একজন মায়ের তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকজন শিশু থাকে। এসওএস শিশু পল্লীর ভেতরে তাদের জন্য সুপরিসর বাসগৃহের ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণত ছয় বছরের নিচের অনাথ ছেলেমেয়েকে শিশুপল্লীতে ভর্তি নেওয়া হয়। শিশুর আত্মীয় অথবা পরিচিত বা অপরিচিত কেউ শিশুপল্লীতে এসে আবেদন করে। এরপর তদন্ত সাপেক্ষে শিশুটিকে ভর্তি নেওয়া হয়। ক্ষেত্র বিশেষে এর ব্যতিক্রমও আছে। 

ছেলেশিশুরা শিশুপল্লীতে ১৪ বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ পায়। তারপর তাদের স্থান হয় মিরপুরের যুবপল্লীতে। আর মেয়ে শিশুরা ১৮ বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। স্বনির্ভর হতে না পারলে অনেক সময় ২৬ বছর বয়স অবধি দেখভাল করে শিশুপল্লী। শিশু ও যুবপল্লীর ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষিত করার অভিপ্রায়ে ১৯৮৬ সালে মিরপুরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ। এরকম প্রতিষ্ঠান ঢাকার বাইরের অন্যান্য শিশু ও যুবপল্লীর সঙ্গেও রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণিতে শিশু ও যুবপল্লীর ছেলে- মেয়েরা ভর্তি হওয়ার পর উদ্ধৃত সিটগুলোতে পল্লীর বাইরের দেশের অন্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ ঘটে। পল্লীর ভেতরের পরিবেশও বেশ চমৎকার। টিভি, কম্পিউটারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দেখা মেলে সেখানে। শিশুপল্লীতে দেখা হয় সীমা আক্তারের সঙ্গে। সে এসওএস হারম্যান মেইনারের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। নাতিকে স্নেহরত এক মায়ের সঙ্গে কথা হয়। শিশুপল্লীর যেই অনাথ শিশুকে লালন-পালন করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার ঘরেরই সন্তান এই নাতি। ভালোবাসার কী বিচিত্র সমাহার, কী বিচিত্র রূপ! শিশুপল্লী থেকে ফেরার পথে আরেক মা ও শিশুর নিবিড় বন্ধনের ছবি ফ্রেমবন্দি হয়। প্রকল্প পরিচালকের কাছ থেকে জানা যায়, তিন দিন বয়সে এই শিশুটির দায়িত্ব পেয়েছিল ঐ মা। এসওএস মায়ের উপযুক্ত সেবা ও পরিচর্যায় বেড়ে উঠেছে শিশুটি। শিশুরাই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দেশ-বিদেশে। চীন, অস্ট্রেলিয়াসহ নানা দেশে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এসওএসরা। অধ্যাপক, ডাক্তারসহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন অনেক পেশাতেই। সাইফুল ইসলাম জানান, দুঃসহ পরিবেশ থেকে যন্ত্রণা নিয়ে পল্লীতে শিশুরা আসে। ছয় মাস থেকে এক বছর যাওয়ার পর তাদের মুখে প্রশান্তির যে হাসি দেখতে পাওয়া যায়, সেটাই শিশুপল্লীর সার্থকতা। তিনি শুধু প্রকল্প পরিচালকই নন, এখানকার সব অনাথ শিশুর বাবাসুলভ অভিভাবকও বটে! সুদীর্ঘ ২৬ বছর ধরে শিশুপল্লীর সঙ্গে কাজ করতে পেরে তিনি গর্বিত। 

শিশুপল্লী থেকে যুবপল্লীতে
১৯৮৫-তে মিরপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই যুবপল্লীটি। এখানে কথা হয়, তারেক রহমানের সঙ্গে। সে এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। সে জানায়, যুবপল্লীতে থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। স্বনির্ভর হয়ে বেড়ে ওঠার শিক্ষাটা পেয়েছি এখান থেকে। নিজেদের প্রয়োজনীয় রান্না আমরা নিজেরাই করতে শিখেছি। সব ধরনের খেলাধুলা করার সুযোগ রয়েছে। পল্লীর অনেক সিনিয়র ভাইয়াও অনেক জুনিয়রের যে কোনো সমস্যায় পাশে দাঁড়ান। বার্ষিক বনভোজন ও স্টাডি ট্যুরের ব্যবস্থা করা হয় পল্লী থেকে। এখানকার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের আমরা ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করি। তারা যে কোনো সমস্যায় বড় ভাইয়ের মতো আমাদের পাশে থাকেন। প্রকল্প পরিচালকের কাছ থেকে জানা যায়, যুবপল্লীর বাসিন্দাদের মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত ভিত্তিতে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে ডা. হেলালের মতো দেশের স্বনামধন্য সাইকিয়াট্রিস্ট ও মেহতাব খানমের মতো সাইকোলজিস্টদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এসওএস ভকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারউচ্চতর পড়াশোনায় যাদের অনীহা তাদের জন্য এখানে রয়েছে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা। এর নাম এসওএস ভকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার। কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপালের সঙ্গে। তিনি জানান, এখানে ০৫টি ট্রেডে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। দেশের অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যও এখানে কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ উন্মুক্ত। ১৮ বছর বয়স এবং ন্যূনতম ৮ম শ্রেণি পাস হলেই যে কেউ ভর্তি হতে পারবে। কোর্সগুলোতে মাসিক ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টির জন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে এসওএস ভকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার।
এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ
 শিশু ও যুব পল্লীর মতো একই স্থাপত্য শৈলীতে কলেজটি গড়া। শুরুতেই কথা হয়, অধ্যক্ষ তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে। ঐতিহ্যবাহী এই কলেজ থেকে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৬০তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে এই কলেজের ছাত্র এম আহসান আল মাহীর। অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে কলেজ ঘুরে দেখার সুযোগ হলো। দোতলার সিঁড়ি দিয়ে উঠেই লাইব্রেরি। সেখানকার দেয়ালে শোভা পাচ্ছে কলেজের পাঁচ সাবেক অধ্যক্ষের ছবি। এক পাশের র‌্যাকে শোভা পাচ্ছে বছর বছর পাওয়া বিভিন্ন আন্তঃস্কুল ও কলেজ এবং জাতীয় প্রতিযোগিতার পদক। অন্যদিকে বিষয়ভিত্তিক বইয়ের সারি। পড়াশোনার এক অনন্য পরিবেশ। লাইব্রেরিয়ানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি ঘণ্টা লাইব্রেরি ব্যবহার করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক। 

লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে মাঠে এসে দেখি ছাত্র-শিক্ষক সম্মিলিতভাবে দুই দল হয়ে ভলিবল খেলছেন। আজ কয়েকটা শ্রেণির গেমস পিরিয়ড। বিভিন্ন শ্রেণির জন্য সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন গেমস পিরিয়ড নির্ধারণ করা আছে। সে সময় খেলাধুলা করা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক। অতঃপর দেখার সুযোগ হলো ল্যাব, সুবিশাল অডিটোরিয়াম ও কম্পিউটার কক্ষ। অধিকাংশ ক্লাস তখন ছুটি হয়ে গেছে। দ্বিতীয় শ্রেণির একটা খালি ক্লাসে ঢুকে পড়লাম। কী ছিমছাম পরিপাটি ব্যবস্থা! পথিমধ্যে দেখা উপাধ্যক্ষ রাফিয়া আখতার জানালেন, প্রতিটি শ্রেণিতে দুটি করে সেকশন। এক এক সেকশনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ জন নির্ধারিত। স্কুল সময়ের মাঝেই শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়, যাতে করে তাদের আলাদাভাবে কোচিং বা প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন না হয়। এখানকার শিক্ষকদের নিজ স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর কোনো প্রচলন নেই। সম্মোহিতের মতো শুনছিলাম উপাধ্যক্ষের কথা। বিদায় নিয়ে এবার এগোলাম টিচার্স কমন রুমের দিকে। কলেজের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাওয়ার করিডরগুলোও অবাক করার মতো যথেষ্ট সুপ্রশস্ত। স্থান সংকটের এই কালে স্থাপত্যশৈলীর এমন দেখা পাওয়া ভার।
১৯৮৬ সালের ১৯ জানুয়ারি হারম্যান মেইনার কলেজের যাত্রা শুরু হয় নীলুফার মাহমুদের হাত ধরে। ঢাকা বিএএফ শাহীন কলেজ ও শহীদ বীরউত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে তার ইতিপূর্বেকার অভিজ্ঞতা হারম্যানে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছেন পুরো মাত্রায়। সত্যিকার অর্থে যিনি নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। শুরু থেকেই ছাত্রছাত্রীদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলায় নীলুফার মাহমুদের প্রচেষ্টা ছিল কিংবদন্তিতুল্য। নিলুফার মাহমুদ কলেজটিকে এতটাই ভালোবাসতেন যে তিনি বলতেন, ‘এটি আমার তৃতীয় সন্তান’। শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করেছিলেন শীত, গ্রীষ্ম ও স্পোর্টসের আলাদা আলাদা পোশাক। প্রতিটি শ্রেণির পরীক্ষায় গড়ে কমপক্ষে শতকরা ৬৫ ভাগ নাম্বার পেলে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়। 

যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে পরিচালনা পরিষদের অনবদ্য ভূমিকা থাকে। হারম্যান মেইনার কলেজও তার ব্যতিক্রম নয়। ইডেন সরকারি মহিলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আফরোজা বেগম অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে ইতিপূর্বে দায়িত্ব পালন করেছেন। হারম্যান নিয়ে তার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রমে কার্যকরী ভূমিকা পালনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ গঠনমূলক পরামর্শ আমলে নেন। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হয়, যাতে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী পরস্পরের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বেড়ে ওঠে। সর্বোপরি, শৃঙ্খলা ও নীতিমালা মেনে চলার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ অনমনীয়। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখনো সুনাম ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। কথা বলার সুযোগ হয়, এই কলেজের তিন সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তিন প্রজন্মের তিন জন। শেষ প্রজন্মের রাইয়ান মাহমুদ পড়ছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি জানান, এসওএস নামের মাঝেই রয়েছে সাম্যের কথা। সামাজিক দায়িত্ববোধের কথা। বারো বছর যাবৎ তারা এই শিক্ষাটাই পেয়েছে। তার সঙ্গে শিশু ও যুবপল্লীর অনেকে পড়েছে। পড়েছে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া অনেক শিশু-কিশোর। বইপুস্তক, পোশাক, টিফিনসহ যাবতীয় বিষয় শিক্ষার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট ছিল। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ ছিল না কোথাও। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কড়া নজরদারি ছিল এ ব্যাপারে। এটি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। মধ্য প্রজন্মের শিক্ষার্থী সাগর ভৌমিক। কাজ করছেন নেসলে বাংলাদেশ-এ। তিনি বর্তমানে হারম্যান মেইনার কলেজ অ্যালামনাই সোসাইটির সভাপতি। স্কুলজীবনের মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষাগুলো তাকে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে কর্মজীবনের পরতে পরতে। স্বনির্ভর হতে শিখেছেন স্কুল থেকেই। নিয়ম করে শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করাটা ছিল বাধ্যতামূলক। খেলাধুলার সরঞ্জামাদি ছিল পর্যাপ্ত পরিমাণে। কথা হয় বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ইরফানের সঙ্গে। তিনি প্রথম প্রজন্ম অর্থাৎ নব্বই দশকের শিক্ষার্থী। 

ইরফান বলেন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে যা ইংরেজি শিখেছি তা দিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে-বিদেশে অবলীলায় চালিয়ে নিতে পারছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজি পড়তে গিয়ে অনুভব করলাম, আমাদের কলেজের ল্যাবগুলো কতটা স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল! আর আমরা কতটা ভাগ্যবান ছিলাম যে, তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে প্রায়োগিক জ্ঞানের সংযোগ ঘটানোর জন্য মূল্যবান সব রাসায়নিক উপকরণ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি! এমন সব অপূর্ব শিক্ষক পেয়েছিলাম যে, তাদের বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান ও অনুপ্রেরণা আমাকে পারিবারিক ও কর্মজীবনে সাবলীলভাবে পথ চলার শক্তি জুগিয়েছে। এই কলেজের সুনাম ও ঐতিহ্য অটুট থাকুক নিরন্তর। 
একজন যুদ্ধপীড়িত মানুষের দেখা অভিনব এক স্বপ্নের দুনিয়ায় ছেয়ে গেছে আজকের পৃথিবী। ক্রমশ নতুন নতুন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে সংস্থাটি। সংস্থার কার্যক্রমে সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারেন আপনিও। একজন কর্মী হয়ে, একটি শিশুকে স্পন্সর করে, একটি সম্পূর্ণ পল্লী স্পন্সর করে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো অনুদানের মাধ্যমে।