ধান গবেষণায় দীর্ঘযাত্রা|194651|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
ধান গবেষণায় দীর্ঘযাত্রা
এম. এ . ইসলাম

ধান গবেষণায় দীর্ঘযাত্রা

একসময় অভ্যন্তরীণ আয়ের বেশির ভাগই ব্যয় হতো আমাদের চাল আমদানিতে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত আধুনিক ধানের জাত এবং চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ খাদ্যঘাটতির দুর্নাম ঘুচিয়ে খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে; সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। অতীতের তীব্র খাদ্যঘাটতির বাংলাদেশ বর্তমানে উদীয়মান অর্থনীতির নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ এবং গড় ফলনের হিসেবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম।

ধানকে এ দেশের জাতীয় সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা বলতে মূলত ধান বা চালের নিরাপত্তাকেই বোঝায়। ২৫০টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ধানের উচ্চফলনশীল ব্রিডার সিড সরবরাহ করে আধুনিক ধানের জাত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে ব্রি। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে বিরামহীন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা।

বিশ্বে ধান উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চতুর্থ। মাঠে কৃষক এ ধান উৎপাদনের প্রধান কারিগর হলেও নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষ ভূমিকা। ১৯৭১ সালে ৭ কোটি ১২ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে চাল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১০ লাখ টন। ঠিক ৪৯ বছর পর সাড়ে ১৬ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে চলতি বছর খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে ৩ কোটি ৮৭ লাখ টন। খাদ্য উৎপাদনে এই অসামান্য অর্জন সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উচ্চফলনশীল ধানের জাত ও আনুষঙ্গিক লাগসই চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কারণে। এ পর্যন্ত ১০০টি উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। চলতি বছরে উচ্চফলনশীল বা উফশী ধানের চাষ করা হয়েছে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ জমিতে। উৎপাদনের দিক থেকে যা মোট ধান উৎপাদনের ৯২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। উফশী ধানের প্রসার না হলে খাদ্য কিনতে বাংলাদেশকে বর্তমানের তুলনায় কয়েক গুণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হতো। রাজধানী ঢাকা থেকে ৩৬ কিলোমিটার উত্তরে গাজীপুর মহানগরীর জেলা শহরসংলগ্ন তিন সড়ক এলাকায় ১৮৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। এটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। ১৯৭০ সালের ১ অক্টোবর এটি পূর্ব পাকিস্তান ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হিসেবে কাজ শুরু করে। স্বাধীনতার পর নতুন নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।

খাদ্য নিরাপত্তায় অর্জন : অতীতের খাদ্যঘাটতির দেশ এখন চাল রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করেছে। এর পেছনে ব্রি উদ্ভাবিত উফশী ধানের জাতগুলোর একটা বড় অবদান রয়েছে। দেশের শতকরা ৮০ ভাগ ধানি জমিতে ব্রি ধানের চাষ হয় এবং এর থেকে আসছে দেশের মোট ধান উৎপাদনের শতকরা ৯১ ভাগ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্রি গত চার দশকের বেশি সময় অবিরাম কাজ করে যাওয়ার ফলে এ দেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের ক্ষেত্রে একটা নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। এখন এর মূল্যায়ন হওয়াটা খুব জরুরি। ধান গবেষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সঙ্গে সহযোগিতার টেকসই সেতুবন্ধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত যেকোনো এলাকার কৃষক এর উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলো সম্পর্কে জানেন। এগুলোর চাষাবাদ করেন। বছরের পর বছর ধরে তারা পরম যতেœ এসব বীজ সংরক্ষণ করেন।

ব্রি উদ্ভাবিত ধানের জাত : ৯৪টি ইনব্রিড, ৬টি হাইব্রিডসহ ১০০টি উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। ৯৪টি ইনব্রিড জাতের মধ্যে ১০টি লবণাক্ততা-সহিষ্ণু, ৩টি খরাসহিষ্ণু, ৩টি জলমগ্নতা-সহিষ্ণু, অলবণাক্ত জোয়ার-ভাটা অঞ্চলের জন্য দুটি, একই সঙ্গে লবণাক্ততা ও জলমগ্নতা-সহিষ্ণু ১টি, ৬টি সরু ও সুগন্ধি চালের ধান এবং ৯ জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত। এর মধ্যে ৪১টি জাত বোরো ও আউশ উভয় মৌসুম উপযোগী, ২৪টি জাত আউশ মৌসুমের, ৪২টি জাত রোপা আমন মৌসুমের, ১২টি জাত বোরো ও আউশ উভয় মৌসুমের এবং ১টি জাত বোরো, আউশ ও আমন মৌসুম উপযোগী। মাটির ধরন ও জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে এমন বেশ কয়েক জাতের ধান উৎপাদন করেছেন ব্রির গবেষকরা। লবণসহিষ্ণু বোরো মৌসুমের জন্য রয়েছে ব্রি ধান-৪৭, ব্রি ধান-৬১ ও ব্রি ধান-৬৭। এ ছাড়া লবণাক্ততা-সহিষ্ণু বেশ কিছু জাত রয়েছে। রোপা আমন মৌসুমের জন্য দুটি জিংকসমৃদ্ধ জাত ব্রি ধান-৬২ ও ব্রি ধান-৭২ (স্বল্প জীবনকাল) উদ্ভাবন করা হয়েছে। ব্রি ধান-৫০ যার জনপ্রিয় নাম বাংলামতী (বাসমতীর মতো) এবং ব্রি ধান-৬৩ (সরু বালামের মতো), এ দুটি প্রিমিয়াম বৈশিষ্ট্যের ধানের জাত অনুকূল বোরো মৌসুমের জন্য উপযোগী। আধুনিক ধানের জাত যেমন বিআর-১৭, বিআর-১৮, বিআর-১৯ হাওর এলাকার বোরো মৌসুমের জন্য অধিক উপযোগী। তা ছাড়া বিআর-১৮ ও ব্রি ধান-৩৬ চারা অবস্থায় ঠাণ্ডা-সহিষ্ণু হওয়ায় ঠা্ণডাপ্রবণ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য খুবই উপযোগী। বিআর-২০, বিআর-২১, বিআর-২৪, ব্রি- ধান-৪২, ব্রি ধান-৪৩ এবং ব্রি ধান-৬৫ অতিবৃষ্টির উঁচু জমিতে আউশ মৌসুমে সরাসরি ছিটিয়ে বোনার জন্য অধিক উপযোগী।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা জানান, ব্রি এ দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়নের মধ্যেই ব্রির কার্যক্রম সীমিত নয়। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির যথাযথ প্রচার নিশ্চিত করে তা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো হচ্ছে। ব্রির গবেষণালব্ধ জাত ও প্রযুক্তির অবদানে দুর্ভিক্ষ এ দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। দেশে এখন ভাতের অভাব নেই। বর্তমানে তিন শতাধিক বিজ্ঞানী ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে নিরলস গবেষণা করে চলেছেন। স্পেনভিত্তিক অনলাইন তথ্যভাণ্ডার ‘র‌্যাংকিং ওয়েব অব ওয়ার্ল্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গবেষণা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ নানা মানদণ্ডে দেশের সেরা গবেষণা সংস্থার তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন ধানের জাতের সংবাদ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যও নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। যেমন ধান উৎপাদন প্রযুক্তির তথ্যসংবলিত বইপত্র, লিফলেট, ফোল্ডার, পোস্টার, বার্ষিক প্রতিবেদন, জার্নাল ইত্যাদি প্রকাশ করে তা বিতরণ; গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা, গোলটেবিল বৈঠক, সেমিনার, ফিল্ড ডে, কৃষক স্কুল, বীজ উৎপাদন ও বিতরণ; মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জরিপ; কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও সম্প্রসারণ কর্মীদের সরাসরি অবহিতকরণ।

ব্রির অর্জন:  ছয়টি হাইব্রিডসহ ১০০টি উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন। এদের ফলন দেশে প্রচলিত সনাতন জাতের চেয়ে তিন গুণের বেশি। আধুনিক ধান চাষের জন্য মাটি, পানি ও সার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ৫০টির বেশি উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবন। ৩৯টি লাভজনক ধানভিত্তিক শস্যক্রম উদ্ভাবন। ৩২টি কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উন্নয়ন। ধানের ৩২টি রোগ (১০টি প্রধান) ও ২৬৬টি ক্ষতিকর পোকা (২০টি প্রধান) শনাক্তকরণ এবং বালাই ব্যবস্থাপনা উদ্ভাবন। ৮০ হাজারের বেশি কৃষক, বিজ্ঞানী ও সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ২৬১টি বই-পত্র প্রকাশ। প্রায় সাত হাজারের বেশি ধানের জার্মপ্লাজম ব্রি জিন ব্যাংকে সংরক্ষণ। প্রতি বছর ব্রি থেকে প্রায় ১০০ টন ব্রিডার বীজ উৎপাদন করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করা হয়, যা পরে বর্ধিত আকারে বীজ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশের কৃষকের কাছে যায়। দেশে আবাদকৃত উফশী ধানের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত ধানের জাত চাষ করা হয় এবং এ থেকে পাওয়া যায় দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ ভাগ। ১৯৭০-৭১ সালে এ দেশে চালের উৎপাদন ছিল ১ কোটি ১০ লাখ। ২০১২-১৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ টনে। ধান গবেষণা ও সম্প্রসারণে প্রতি এক টাকা বিনিয়োগ থেকে ৪৬ টাকা মুনাফা অর্জন। ১৪টি দেশে ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ও কৃষি উন্নয়নে অবদানের জন্য ব্রি ও এর কয়েকজন বিজ্ঞানীর তিনবার স্বাধীনতা দিবস স্বর্ণপদক ও তিনবার প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক, পরিবেশ পদক ২০০৯, মার্কেন্টাইল ব্যাংক সম্মাননা ২০১৩, এমসিসিসিআই পদক ও কেআইবি পদক ২০১৪-সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মোট ১৭টি পুরস্কার লাভ।

ব্রি-এর কৃষি প্রকৌশলীরা এয়ার ব্লো টাইপ এঙ্গেলবার্গ চালকলের পরিবর্তন সাধন করে এর কার্যকারিতা বাড়িয়েছেন। পরিবর্তিত এয়ার ব্লো টাইপ এঙ্গেলবার্গ চাল কলে ঘণ্টায় ২৫০-৩০০ কেজি বেশি চাল উৎপাদন করা যায় এবং ১-১ দশমিক ৫ শতাংশ অপচয় কম হয়। রোপা ধানের ক্ষেতে মাটির গভীরে সাধারণ ইউরিয়া প্রয়োগ কৌশল ব্রির কৃষি প্রকৌশলীরা উদ্ভাবন করেছেন। এ যন্ত্রের মাধ্যমে সাধারণ ইউরিয়া প্রয়োগ করে গুটি ইউরিয়ার মতো ফলাফল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া স্ব-চালিত ধান কাটা যন্ত্র, কৃষিকাজে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার ও ধান ঝাড়াই কাজে পাওয়ার টিলার ইঞ্জিন ব্যবহারের উপায় তারা উদ্ভাবন করেছেন।

আর্থসামাজিক সমীক্ষায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, দেশের ধান উৎপাদনের শতকরা প্রায় ৯১ ভাগ ধান আসে ব্রি উদ্ভাবিত জাত থেকে। বোরো ধান চাষে হেক্টরপ্রতি প্রায় ৯৪৯ কেজি ধানের সমমূল্য খরচ হয় সার, বালাইনাশক ও চারা উৎপাদনে; ২ হাজার ২৫৭ কেজি ধানের সমমূল্য খরচ হয় শ্রমিক বাবদ; ৪৫৯ কেজি ধানের সমমূল্য খরচ হয় জমি তৈরিতে; ১ হাজার ১৬৩ কেজি ধানের সমমূল্য খরচ হয় জমির ভাড়া বাবদ এবং ৯৬৮ কেজি ধান কৃষকের লাভ থাকে। কৃষকের লাভের পরিমাণ আমনে কিঞ্চিৎ কম এবং আউশে কৃষক হেক্টরপ্রতি প্রায় ৩৩৩ কেজি ধানের সমমূল্য ক্ষতির সম্মুখীন হন।  টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ধানের জাতের উন্নয়ন ও ধান উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবনই হচ্ছে ব্রির ভিশন। এর মিশনের মধ্যে আছে কৌলিতাত্ত্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে কম খরচে অধিক ও মানসম্পন্ন ধান উৎপাদনে অবদান রাখা; বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মানসংরক্ষণের মাধ্যমে রোগ, পোকামাকড়, সার, মাটি ও পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা; বৈরী পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো ধানের জাত উদ্ভাবন ও প্রাগ্রসর গবেষণার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।

স্বীকৃতি : বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট অসংখ্য স্বীকৃতি পেয়েছে গত ৪৯ বছরে। কৃষি গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৪ সালে পেয়েছে বঙ্গবন্ধু পদক। এরপর একে একে লাভ করেছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস স্বর্ণপদক, প্রেসিডেন্ট গোল্ড মেডেলসহ বহু পুরস্কার। ব্রির অবদানের ইতিবাচক মূল্যায়ন দেশে যেমন হচ্ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. শাহজাহান কবীর বলেন, ব্রি-এর প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৃষকসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন সংস্থার ৮০ হাজারেরও বেশি বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, সম্প্রসারণ কর্মী ও কৃষককে দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ। এ ছাড়া অসংখ্য অর্জন রয়েছে ব্রি-এর ঝুড়িতে। দেশের কৃষকদের ব্যবহারোপযোগী ৩২টি কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও ৬০ শতাংশ ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি মাঠপর্যায়ে বিতরণ করেছে। ধানের ৩২টি রোগ (১০টি প্রধান) এবং ২৬৬টি (২০টি প্রধান) ক্ষতিকর পোকামাকড় শনাক্তকরণ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে এসবের দমন ব্যবস্থা উদ্ভাবন করা হয়েছে। অর্ধশতাধিক অধিক মৃত্তিকা, পানি, সার এবং ধানের আন্তঃপরিচর্যা-সংক্রান্ত উন্নত কলাকৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে।