চবিতে ছাত্রলীগ সভাপতির পদত্যাগ দাবিতে ঝাড়ু মিছিল|194720|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ১৩:৩২
অনির্দিষ্টকালের অবরোধ
চবিতে ছাত্রলীগ সভাপতির পদত্যাগ দাবিতে ঝাড়ু মিছিল
চবি প্রতিনিধি

চবিতে ছাত্রলীগ সভাপতির পদত্যাগ দাবিতে ঝাড়ু মিছিল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের পদত্যাগের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল করেছে শাখা ছাত্রলীগের বিজয়  গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

এ সময় রুবেলের বিরুদ্ধে বিজয় গ্রুপের কর্মীদের উপর হামলায় মদদ, ছাত্রত্ব বিহীনভাবে সভাপতি হ্ওয়ার অভিযোগে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।

রুবেলের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের সামনে থেকে এই ঝাড়ু মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের কাছে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।

এ সময় আন্দোলনকারীদের ‘এক দফা এক দাবি, রুবেল তুই কবে যাবি’, ‘অছাত্র সভাপতি, মানি না মানবো না’, অবৈধ প্রেসিডেন্ট, মানি না মানবো না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বললে বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর পুনরায় ঝাড়ু মিছিল নিয়ে পিছু হটে এ এফ রহমান হলের সামনে অবস্থান নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা চলে এ ঝাড়ু মিছিল।

এ সময় আন্দোলনকারী বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা বলেন, আমরা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নয়, ব্যক্তি রুবেলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। সে একজন অছাত্র, তার ছাত্রত্ব অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এই অছাত্র সভাপতি রুবেলের নেতৃত্বেই গতকাল আমাদের তিন কর্মীকে শিবির স্টাইলে হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছে তার পেটুয়া বাহিনী। আমরা তার পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধ চলবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বলেন, আমরা ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। আর বড় ধরনের কোনো আপত্তিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আবাসিক হলগুলোতে একটাও অছাত্র রাখবো না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন অশৃঙ্খল পরিবেশ চাই না। বৃহত্তর ছাত্রদের স্বার্থে আমরা অচিরেই হার্ড লাইনে যাবো। কোনো অছাত্র, বহিরাগতকে আবাসিক হলে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র সংগঠনগুলো নিজেদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বার্থে এ ধরনের কাজগুলো করছে। যাদেরকে আটক করা হয়েছে, তাদের যাচাই-বাছাই চলছে। যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

বুধবার সন্ধ্যায় নিজেদের তিন কর্মীকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিজয় গ্রুপের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে বর্তমানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

এর আগে বুধবার বিকেলে কথাকাটাকাটির জের ধরে সংঘর্ষে জড়ায় বিজয় ও সিএফসি গ্রুপ। এ সময় সিএফসি গ্রুপের এক কর্মীকে মারধর করে বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। পরে সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়াদী হলে গিয়ে বিজয় গ্রুপের তিন কর্মীকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে।

এ ঘটনায় রাত নয়টার দিকে মারধরকারীদের শাস্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ঘোষণা দেয় বিজয় গ্রুপ গ্রুপ।

এর প্রেক্ষিতে রাত ১১টার দিকে দুটি হলে তল্লাশি চালিয়ে উভয় গ্রুপের ২০ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।

বিবাদমান সিএফসি গ্রুপ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও বিজয় গ্রুপ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াসের অনুসারী। এছাড়া দুটি পক্ষই শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।