মেহদি হাসানের ভাষা মুক্তির সংগ্রাম |194835|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
মেহদি হাসানের ভাষা মুক্তির সংগ্রাম
আরফাতুন নাবিলা

মেহদি হাসানের ভাষা মুক্তির সংগ্রাম

একুশে ফেব্রুয়ারি শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে আন্দোলনের কথা, সালাম-বরকত-রফিক-জব্বারসহ অনেক মানুষের মুখ। ভাষাকে অন্তরে নিয়ে এই মানুষগুলো জীবন দিয়েছেন। এত বছর সেই ভাষাতেই আমরা কথা বলি, মনের ভাব প্রকাশ করি, লিখতে পারি। কিন্তু সব জায়গায় কি লিখতে পারতাম? কম্পিউটারের কথা বলছি। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সব জায়গাতেই লিখতে হলে বিজয় ব্যবহার করা হতো। সেই নিয়ম থেকে বের করে নিয়ে আসল ‘অভ্র’। আজ অভ্রতেই লেখা হয় অনেক জায়গায়। তবে এই অভ্রের জন্য বিনিময়ে কোনো টাকাই নেননি এর নির্মাতা। ভাষার জন্য ঠিক কতটা ভালোবাসা আর মমত্ববোধ থাকলে একজন মানুষ এই কাজটা করতে পারেন?  অভ্র শুরুর গল্প এক দিনের নয়। ১৮ বছর বয়সী একজন তরুণের অনেক দিনের ভাবনার ফল, পরিশ্রম আর সাধনার এই অভ্র। ‘অভ্র’ যার আভিধানিক অর্থ ‘আকাশ’-শব্দটিও মেহদি খুঁজে বের করেছিলেন অভিধান ঘেঁটেই। আকাশ যেমন সবার জন্য মুক্ত, তেমনি অভ্রও সবার জন্য মুক্ত হবে এমনটাই ভেবেছিলেন মেহদি হাসান খান। নাম তো হলো, এবার একে সফল করার পালা।

সময়টি ২০০৩ সাল। নটর ডেম কলেজের ছাত্র তখন মেহদি।

প্রোগ্রামিংয়ের ওপর অনেক আগ্রহ থাকার কারণে ক্লাস নাইনে পড়া অবস্থাতেই বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রোগ্রামিংয়ের ওপর নানা বইপত্র জোগাড় করে পড়া শুরু করেন। অ্যাকাডেমিক পড়ার চাপ তো ছিলই। তবু থেমে যাননি তিনি। পড়ার ফাঁকে ফাঁকেই প্রোগ্রামিং নিয়ে পড়াশোনা আর চর্চা চালিয়ে যেতে থাকেন। একই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা একাডেমিতে চলছিল বইমেলা। একাডেমির সব জায়গায় নতুন বইয়ের সুবাস। সেই বইমেলায় ‘বাংলা ইনোভেশন থ্রু ওপেন সোর্স’ (বায়োস) নামে একটি সংগঠন আসে। তারা ঠিক বই বিক্রেতা নয়, তারা এসেছিল একটি প্রদর্শনী করতে। মেলায় দর্শনার্থীদের তারা বাংলায় লোকালাইজ করা একটি লিনাক্স ডিস্ট্রো নিয়ে এসেছিল। এর নাম ছিল ‘বাংলা লিনাক্স’। এর বিশেষত্ব ছিল, শুধু বাংলায় লেখা ছাড়াও, উইন্ডোর টাইটেল, মেন্যু, ফাইলের নামকরণ সবকিছুই বাংলায় করা যেত।

এদিকে কম্পিউটারে তখন বাংলা বলতে সবাই জানে শুধু ‘বিজয়’ আর ‘প্রবর্তন’র নাম। বাংলায় লিখতে চাইলে এই দুটো কিবোর্ড ছাড়া লেখা যেত না। পুরো  লিনাক্সের অপারেটিং সিস্টেমটিই বাংলায় পরিচালিত হচ্ছে, এমনটি এর আগে কখনো দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, বইমেলা নিয়ে ‘বায়োস’ যে নিজেদের সাইট বানিয়েছিল, সেটিও ছিল বাংলায়। এমন সুন্দর বিশেষ করে সবার জন্য উপযোগী সাইটটি সবারই আলাদাভাবে নজর কাড়ে। অন্যান্য দর্শকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে বায়োসের সেই প্রদর্শনী দেখছিলেন আজকের ‘অভ্র’র জনক খুদে মেহদি। অন্যদের সঙ্গে শুধু তার পার্থক্য ছিল, সবাই বাড়ি ফিরছিল মেলার ভালো লাগা নিয়ে আর মেহদি ফিরছিল প্রদর্শনীর বিষয়টি ভাবনায় নিয়ে। সেদিন থেকেই মেহদির ভাবনায় ছিল, কীভাবে এমন কিছু একটা বানানো যায়, যেটি দিয়ে সবাই খুব সহজে বাংলা লিখতে পারবে।

সেদিন মেলা থেকে ফিরেই বায়োসের ‘লিনাক্স’ নিয়ে জানার চেষ্টা করেন মেহদি। বায়োস সেই ডিস্ট্রোর জন্য ‘ইউনি বাংলা’ নামে একটি নতুন ফন্টও বানিয়েছিল। কিন্তু মেহদি কম্পিউটারে যে উইন্ডোজ ব্যবহার করতেন, সেটিতে বাংলা লিনাক্স কাজ করছিল না। বিষয়টিতে তিনি একটু অবাক হলেও এতে তার ভেতর তৈরি হয় আরও নতুন কিছু কৌতূহল।

তিনি বাংলা লিনাক্সের ফন্টটি ইনস্টল করেন। তখন তিনি খেয়াল করলেন, মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ‘ইনসার্ট কি’ ব্যবহার করলে খুব সহজেই যুক্তাক্ষর লেখা যাচ্ছে।

অর্থাৎ আগে যেমন যুক্তাক্ষর লেখার জন্য বিশেষ একটি সফটওয়্যার আর ফন্ট দুটোই লাগত, এখন ঠিক তেমন লাগছে না। শুধু ফন্ট দিয়েই যুক্তাক্ষর বানানো যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি খুব সময়সাপেক্ষ হয়ে যাচ্ছে। আর সহজে কাজও করা যাচ্ছে না। তখন তিনি ভাবলেন, শুধু কিবোর্ড ইনপুট মেথড হলেই এই ফন্ট দিয়ে বাংলা টাইপ করার কাজ দিব্যি চালিয়ে নেওয়া যাবে। তার ধারণা ছিল, এমন কিবোর্ড কেউ না কেউ বানিয়েছেন আগে। সেটি খুঁজে বের করার জন্য পুরো ইন্টারনেটে ঘুরলেন মেহদি। কিন্তু বিস্ময় ভরে তিনি খেয়াল করলেন, উইন্ডোজে কাজ করে এমন কোনো ইউনিকোডভিত্তিক কিবোর্ড লে-আউট কোথাও নেই। তখনই তার ভাবনায় আসে এমনই সহজ একটি কিবোর্ড তৈরির বিষয়, কিন্তু এ বিষয়ে তেমন ভালোভাবে জানেন না তিনি। আর জানার চেষ্টা করে কাজ করতে গেলে প্রয়োজন অনেক পরিশ্রম আর সময়ের। পরিশ্রম নিয়ে ভাবেন না তিনি, কিন্তু সময় মিলবে কীভাবে? কারণ সেই মেহদি তত দিনে পড়ছেন ময়মনসিংহ মেডিকেলে। মেডিকেলে পড়াশোনার এত চাপের মধ্যে কীভাবে কিবোর্ড নিয়ে কাজ করবেন তিনি? দুশ্চিন্তার দৌড় খুব বেশি দূর এগোল না। কারণ মেহদি তত দিনে পেয়েছেন সৃষ্টির সন্ধান।

ভাষা হোক উন্মুক্ত

নিয়মিত মেডিসিন ক্লাবে যাওয়া, প্রতিটি কাজে সরব, ক্লাস ক্যাম্পাসের উচ্ছলতায় ভরা ছেলেটি হুট করেই যেন চুপ হয়ে গেলেন। মেডিকেলের প্রচণ্ড চাপ

মাথায় নিয়ে হোস্টেলের রুম বন্ধ করে দিন-রাত কাজ করতে লাগলেন। শরীরের যতœ নেওয়া নেই, সময় নেই খাওয়া-দাওয়ার। বন্ধু-শিক্ষক সবাই ভাবলেন, মেহদি নিশ্চয়ই পড়াশোনা আর করবেন না! সবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে গেলেন তিনি। রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে চোখের নিচে কালি পড়ে গেল। চঞ্চল মেহদি ক্যাম্পাসে আসে চুপচাপ, ক্লাস করে, মাথা নিচু করে হাঁটেন, কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেন, না হলে খুব একটা কথা বলের না কারও সঙ্গে। এই মেহদিকে যেন কেউ চিনতেই পারছেন না। কিন্তু শুধু মেহদিই জানতেন তিনি কী করছেন। পড়াশোনা করেও তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন ইউনিকোডভিত্তিক কিবোর্ড বানাতে।

তত দিনে ক্যাম্পাসে অনেকেই জেনে গেছেন, কম্পিউটারে বাংলা লেখার জন্য নিজস্ব একটা সফটওয়্যার বানাচ্ছেন মেহদি। এক বড় ভাই তাকে এক দিন জিজ্ঞেস করলেন,

কী রে, কত করে নিবি?

মেহদি অবাক হয়ে বললেন, মানে? কীসের জন্য কত করে নেব?

আরে! তোর সফটওয়্যারের দাম কত নিবি?

দাম রাখব কেন? ওটা তো ফ্রি! এর জন্য কোনো টাকা-পয়সা লাগবে না।

বলিস কী! (এ ছাড়া আর কিছু বলতে পারেননি তিনি)।

হ্যাঁ। ভাষার জন্য টাকা নেব কেন?

সদ্য তরুণ বয়সে পা রাখা মেহদির সেদিনের সেই কথা শুনে ভীষণ অবাক হয়ে গিয়েছিলেন ক্যাম্পাসের সেই বড় ভাই। সবাইকে এভাবেই অবাক করে দিয়ে এক দিন তিনি বানিয়ে ফেললেন একটি প্রোটোটাইপ। মেহদি যেহেতু উইন্ডোজ ওএসের জন্য অ্যাপ্লিকেশন বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাই তাকে মাইক্রোসফটের ডটনেট ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করতে হলো। ভারতের একটি বাংলা ফন্ট প্রতিযোগিতায় তিনি সেই প্রোটোটাইপ পাঠিয়ে দিলেন। সেখান থেকে উত্তর এলো, ‘এটা ঘন ঘন ক্র্যাশ করছে।’ কেন এমন হচ্ছে এটা বুঝতে পারলেও দমে গেলেন না মেহদি। এবার তিনি ডটনেট বাদ দিয়ে ক্ল্যাসিক ভিজ্যুয়ালের ওপর ভিত্তি করে আবার সবগুলো কোড নতুন করে লিখলেন। যদিও পরে আবার একেবারে নতুন করে কোড লেখা হয় Delphi/Object Pascal-এ। এটিই ছিল অভ্রের বর্তমান ফ্রেমওয়ার্ক। এবার দেখা গেল, ক্র্যাশের ঝামেলাটা আর তেমন নেই। এরপর মেহদি মন দিলেন অভ্রর অফিশিয়াল সাইট বানানোয়। সাইটে ফোরাম সেটআপ করেন মেহদি। সেখানে অভ্রর ব্যবহারকারীরা নিয়মিত ফিডব্যাক দিত, বাগ রিপোর্ট করত, প্রশ্নোত্তর চলত। এই ফোরামের সংযোজন অভ্রকে ‘অভ্র’ হয়ে উঠতে অনেক সাহায্য করেছে।

অভ্র নিয়ে মেহদি তত দিনে বেশ সিরিয়াস হয়েছেন। শুধু ভেবেই একটা সফটওয়্যার বানিয়ে ফেললেও সেটিকে দাঁড় করানো বেশ বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ ছাত্র অবস্থায় কেউ একজন একটা সফটওয়্যার বানিয়ে ফেলেছেন, এ কথা জানলে স্বাভাবিকভাবেই কেউ অভ্রকে গুরুত্বসহকারে নেবে না। নিজের কাজে তাই যথেষ্ট পেশাদারিত্বের ছোঁয়া রাখার চেষ্টা করলেন তিনি। নিয়মিত রিলিজ লগ লেখা, ভার্সন নম্বর বাড়ানো, বড় বড় সব ইউজার ম্যানুয়াল লেখা সবই তিনি করতেন। প্রথম দেখাতেই এটিকে যেন পেশাদার সফটওয়্যার ডেভেলপার টিমের কাজ বলে মনে হয়, সে জন্য তিনি চেষ্টার কোনো কমতি রাখেননি। আর এভাবেই ব্যবহারকারীদের কাছে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে অভ্র। মেহদি অভ্রর স্লোগান তৈরি করেন, ‘ভাষা হোক উন্মুক্ত’।

প্রথম স্বীকৃতি

এই যে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে মেহদি সাইটটির পেছনে লেগে রইলেন, অন্যদিকে তার নিজের পড়াশোনার কী অবস্থা? আসলে সবকিছুতেই তিনি বেশ অমনোযোগী হয়ে পড়েছিলেন সে সময়। তার এলোমেলো জীবনযাপন কারও চোখ এড়ালো না। মেডিকেল কলেজে তাকে বলা হলো মেডিকেলের পড়াশোনা ছেড়ে দিতে। চারদিকের এত অসহ্য চাপ তাকে অস্থির করে তুললেও কোনো কিছুতেই কান দেননি তিনি।

ভাষার জন্য নতুন স্বপ্ন নিয়ে কাজ করা, নতুন আইডিয়া সবকিছু নিয়েও ঠিকমতো মেডিকেলের পড়া শেষ করেছিলেন তিনি। সে সময় ‘কম্পিউটার টুমারো’ নামে একটি জনপ্রিয় প্রযুক্তিবিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন ছিল। তারা মেহদির ‘অভ্র’ নিয়ে একটি ফিচার করল। শুধু তা-ই নয়, সেই ম্যাগাজিনের সঙ্গে অভ্রের সিডির একটি করে কপি ফ্রি দেওয়া হচ্ছিল। এই স্বীকৃতিতেই মেহদি বুঝতে পারেন তিনি অবশ্যই এমন কিছু করছেন, যা সবার কাছেই প্রশংসার দাবিদার।

ওমিক্রন ল্যাব

মেহদি অভ্রর জন্য যে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছিলেন, তার নাম ছিল ‘ওমিক্রন ল্যাব’। এই নামটির ধারণা তিনি পেয়েছিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস ‘ওমিক্রনিক রূপান্তর’ থেকে। প্রথম ওয়েবসাইট ডোমেইন কেনা হয়েছিল এক প্রবাসী মামাকে অনুরোধ করে। মামা দেশে এসে বিয়ে করেন আর সেই দায়িত্বও ছিল মেহদির ওপর। ওমিক্রন ল্যাবে তার তোলা বিয়ের সেই ছবিগুলো দিতে হয় মামাকে খুশি করার জন্য। ছবিগুলোর নিচে শুধু লেখা ছিল, ‘তুমি যদি এই সাইটে ইউনিবিজয়ের জন্য এসে থাকো, তবে এখানে ক্লিক করো।’ খুব বেশি দিন অবশ্য ছবিগুলো সেখানে ছিল না।

নিজ দেশের ভাষার প্রতি ভালোবাসা থেকে এক স্বপ্নবাজ তরুণের সৃষ্টির নাম ছিল ‘অভ্র’। এই সৃষ্টিকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে তিনি সঙ্গে পেয়েছিলেন আরও কয়েকজন তরুণকে। অভ্রর সেই ফোরাম থেকে মেহদির প্রথম পরিচয় হয় ওমরের। এলিফ্যান্ট রোডে ওমরের ‘বাঙ্গালিয়ানা’ নামে একটি সফটওয়্যারের দোকান ছিল, সেখানে মেহদি তার সঙ্গে বসে আড্ডা দিতেন। সেখানেই পরিচয় হয় অভ্রর ম্যাক ভার্সন তৈরি করা রিফাত-উন-নবীর সঙ্গে। ফোরাম থেকে পরিচয় হয় তানবিন ইসলাম সিয়াম আর শাবাব মুস্তফার সঙ্গে। অভ্রর ‘কাল পুরুষ’ আর ‘সিয়াম রুপালি’ নামের দুটো ফন্টের নির্মাতা সিয়াম।

ভারত থেকে এসেছিলেন ফোরামের অন্যতম মডারেটর নিপন। বর্তমানে অভ্রর ওয়েবসাইট আর লিনাক্স ভার্সন বানান তিনি। তাদের বাইরে মেহদির স্ত্রী সুমাইয়া নাজমুনও প্রায় দেড় লাখেরও বেশি শব্দের সম্পাদনা করেছে অভ্রর ডিকশনারির জন্য।

ক্যাম্পাসের বড় ভাইকে ‘ভাষার জন্য টাকা নেব কেন?’ কথাটা বলা ছেলেটি সত্যিই কোনো টাকা নেননি। ভাষাকে তিনি আকাশের মতোই উন্মুক্ত করে দিয়েছেন সবার জন্য। ২০০৭ সালে অভ্র কিবোর্ড পোর্টেবল এডিশনটি সব ব্যবহারকারীর জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দেন মেহদি। তথ্যপ্রযুক্তিতে এরপর থেকেই বাংলা উন্মুক্ত হয়ে যায় সবার জন্য। অভ্রর সোর্স কোড উন্মুক্ত থাকায় যে কেউ চাইলেই গিটহাব রিপোজেটরি থেকে এটির উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। উল্লেখ্য, ভার্সন-৫-এর পর থেকে অভ্রকে ফ্রিওয়্যার থেকে ওপেন সোর্সে রূপান্তর করা হয়। ‘মজিলা পাবলিক লাইসেন্স’র অধীনে লাইসেন্স করা।

স্বীকৃতি

মেহদি হাসানের অভ্র রাষ্ট্রীয়ভাবে এখনো কোনো স্বীকৃতি পায়নি। তবে বেশ কয়েক জায়গায় স্বীকৃতি আর সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। তার মধ্যে আছেÑ মাইক্রোসফটের অনলাইন সংগ্রহশালায় ইন্ডিক ভাষাগুলোর সমাধানের তালিকায় অভ্র কিবোর্ডকে অন্তর্ভুক্তীকরণ, বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কাজে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অভ্র ব্যবহার করছে, অভ্রকে বাংলা কিবোর্ড রিসোর্স হিসেবে ইউনিকোড সংস্থার ওয়েবসাইটে অন্তর্ভুক্তীকরণ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস বা বেসিস বাংলা তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য অভ্রটিমকে ২০১১ সালে ‘বিশেষ অবদান পুরস্কার’ (Special Contribution Award) প্রদান করে। ব্যক্তিগতভাবে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘টপ টেন আউটস্ট্যান্ডিং ইয়ং পার্সনস’ পুরস্কার লাভ করেন মেহদি হাসান।