সর্বত্র ছড়ানো বিকাশ|194837|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
সর্বত্র ছড়ানো বিকাশ
এন আর মোহসিনা

সর্বত্র ছড়ানো বিকাশ

বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর ভাবছিলেন কী করে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করা যায়। যেহেতু তাদের গড় লেনদেনের পরিমাণ কম এবং তারা অবস্থান করেন গ্রামাঞ্চলে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পক্ষে তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়, তাই দরকার এমন একটি উপায় যাতে ন্যূনতম পরিমাণ অর্থ যখন-তখন যেকোনো প্রান্তে পাঠানো যায়। দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিস্তার কামাল কাদীরের সেই ভাবনায় আশার সঞ্চার করল। এরই মধ্যে তিনি আফ্রিকায় মোবাইলে আর্থিক লেনদেনের ব্যবহার দেখে এসে আরও অনুপ্রাণিত হলেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্যার ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১১ সালে কামাল কাদীরের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে বিকাশ। বাংলাদেশ সরকারের প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উদ্যোগে’ সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থেকে পেমেন্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকশিত হতে থাকে বিকাশ। গ্রাহকসংখ্যার ভিত্তিতে বিকাশ কেবল বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। ৩ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত করতে দেশজুড়েÑ হোক তা প্রত্যন্ত চরাঞ্চল কিংবা দুর্গম পার্বত্য এলাকা, ২ লাখ ৩০ হাজার এজেন্ট নিয়োজিত আছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হাঁটাপথের দূরত্বে অবস্থান করা একজন এজেন্ট যেমন গ্রাহকের আর্থিক লেনদেনে এনে দিয়েছেন গতিশীলতা, তেমনি তার নিজের পরিবারের আর্থিক উন্নয়নেও রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পাশাপাশি বিশাল এক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করেছে বিকাশের এই উদ্ভাবনী সেবা।

বিকাশ অ্যাপ

খুব অল্প দামের ফিচার ফোন দিয়ে বিকাশের লেনদেনের সুযোগ বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে বড় প্রভাব তৈরি করেছে। সময়ের ব্যবধানে প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও সহজলভ্যতার কল্যাণে আর্থিক লেনদেনকে একেবারে সহজ করতে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ‘বিকাশ অ্যাপ’ উদ্বোধন করে প্রতিষ্ঠানটি। নির্ভুল, নিরাপদ ও সহজ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বিকাশ অ্যাপ।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন আঙ্গিকে ভিন্ন এক ‘বিকাশ অ্যাপ’-এর সঙ্গে গ্রাহকদের পরিচয় করিয়ে দেয় বিকাশ। প্রতিদিনের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন সেবার পাশাপাশি অনেক লাইফস্টাইল সেবা সংযুক্ত করে আরও পারসোনালাইজড এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাপ নিয়ে আসে বিকাশ।

নতুন এই অ্যাপে যারা বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে আগ্রহী তাদের জন্য যুক্ত হয় নিজে নিজে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ। ই-কেওয়াইসি (ইলেকট্রিক-নো-ইয়োর কাস্টমার) ফরম দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটে জাতীয় পরিচয়পত্র স্ক্যান করে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন আগ্রহীরা। গ্রাহক যেসব সেবা ব্যবহার করছেন বা যে এলাকায় আছেন তার ওপর ভিত্তি করে বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে সাজেশন বক্স। ফলে গ্রাহকের প্রয়োজন বুঝেই তার পছন্দের সেবাগুলোর আইকন থাকে হোম স্ক্রিনেই। বিকাশের কখন কী অফার চলছে তা আরও সংগঠিত করে উপস্থাপিত হচ্ছে বিকাশ অ্যাপে। ফলে গ্রাহক তার প্রয়োজনানুসারে নিতে পারছেন বিকাশ অফারের সুযোগ। এত সব সুবিধার কারণেই বিকাশ অ্যাপের ডাউনলোড সংখ্যা প্রায় কোটি ছুঁয়েছে। বিকাশের মোট লেনদেনের প্রায় ১৫ শতাংশই হচ্ছে এখন বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে।

দৈনন্দিন যত সেবা

২০১১ সালে টাকা পাঠানো, ক্যাশইন, ক্যাশআউটের মতো সেবাগুলো নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের ব্যবধানে বহুমাত্রিকতা এসেছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস সেবায়। প্রযুক্তি ব্যবহারে গ্রাহকের জন্য আর্থিক সেবা আরও সহজ, নিরাপদ ও দ্রুততর করে চলেছে বিকাশ।

মোবাইল রিচার্জ : যেকোনো সময় দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে মোবাইল রিচার্জের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা নিয়ে এসেছে বিকাশ। বিকাশ দিয়ে যখনই প্রয়োজন যেকোনো মোবাইল নম্বরে যেকোনো অঙ্কের টাকা রিচার্জ করা যায়। বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারী মোট গ্রাহকের প্রায় ২৫ শতাংশ তাদের মোবাইল রিচার্জ এখন বিকাশের মাধ্যমে করেন।

মার্চেন্ট পেমেন্ট : কয়েক বছরে যত ধরনের পরিবর্তন আর্থিক লেনদেনে এসেছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে মোবাইল থেকে পেমেন্ট করার সেবা। সারা দেশের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মার্চেন্টের কাছ থেকে পণ্য বা সেবা নিয়ে বিকাশের মাধ্যমে এখন পেমেন্ট করতে পারে ক্রেতা। বড় দেশি ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে গলির ছোট্ট দোকানগুলোতেও এখন বিকাশে পেমেন্ট করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন ক্রেতা। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, গ্রাহকবান্ধব বিকাশ অ্যাপ দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে খুব সহজেই পেমেন্ট করা যায় বলে অনলাইন ও অফলাইন কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্ট এখন দৈনন্দিন।

রাইড শেয়ারিং সেবা, টিকিট কেনা, ভর্তি, নিবন্ধন ইত্যাদির পেমেন্ট:

রাইড শেয়ারিং সেবা পাঠাও, সহজের মতো সেবাগুলোর পেমেন্টও এখন সরাসরি বিকাশ দিয়ে করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট এখন সরাসরি বিকাশ অ্যাপ থেকেই কিনতে পারেন গ্রাহক। বিভিন্ন রুটের বাস ও বিমানের টিকিটও কেনা যায় বিকাশ পেমেন্ট করেই। এমনকি সিনেমা দেখতে যাওয়ার আগেই চাইলে ঘরে বসেই বিকাশ পেমেন্টে টিকিট কিনে রাখতে পারেন গ্রাহক। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য হোক বা বিদেশে যেতে আগ্রহী শ্রমিক একটা অঙ্কের টাকা জমা দিয়েই নিবন্ধন করতে হয়। এখন এমন অসংখ্য নিবন্ধনপদ্ধতি সহজ করেছে বিকাশ। নিবন্ধনকারী তার এলাকায় বসেই অন্য অনেক এলাকায় খুব সহজেই নিবন্ধন করে ফেলতে পারেন, যা তার ভোগান্তি যেমন কমায়, তেমনি খরচও বাঁচায়।

অনুদান, ঋণ বিতরণ ও সংগ্রহ : উন্নয়ন খাতে কাজ করেছে এমন দেশি ও আন্তর্জাতিক এনজিওর অনুদান ও ঋণ বিতরণ এবং ঋণের টাকা সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিকাশ; যা তাদের সার্বিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রার গতিশীলতা এনেছে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ডের সঙ্গে লেনদেন : যখন প্রয়োজন তখনই টাকা হাতে পাওয়াটা আর্থিক সক্ষমতার অন্যতম মাপকাঠি। এখন ১১টি ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিং অথবা অ্যাপ সেবা থেকে সরাসরি বিকাশ একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করছেন অসংখ্য গ্রাহক। কেবল অনলাইন ব্যাংকিং নয়, বাংলাদেশে ইস্যুকৃত যেকোনো ব্যাংকের যেকোনো ধরনের মাস্টার কার্ড থেকেও বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা এখন কয়েকটি ক্লিকের ব্যাপার মাত্র।

ব্যাংক থেকে বিকাশে টাকা ট্রান্সফারের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপের পাশাপাশি বিকাশ থেকে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের মতো অনন্য সেবাও চালু হয়েছে সম্প্রতি। এখন বাংলাদেশে ইস্যুকৃত যেকোনো ভিসা ক্রেডিট কার্ডের বিল বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাচ্ছে, যা সার্বিকভাবে নগদ টাকার ব্যবহার কমাতে ভূমিকা রাখবে।

বিল পেমেন্ট : ছোট অঙ্কের টাকা কিন্তু বড় ঝামেলা পোহাতে হয় ইউটিলিটি সেবার বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে, ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে, বাড়তি টাকা খরচ করে গিয়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল পরিশোধের অভিজ্ঞতা খুব পুরোনো নয়। তবে বিকাশের কল্যাণে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা এখন আর সময় ও খরচ সাপেক্ষ নয়।  বাংলাদেশের সবগুলো বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রের বিল এখন বিকাশে পরিশোধ করার সুযোগ রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী পল্লী বিদ্যুতেরই প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ প্রি-পেইড ও পোস্টপেইড গ্রাহকের বিল বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধের সুবিধা গ্রামীণ গ্রাহকদের সত্যিকার অর্থেই সক্ষমতা দিয়েছে। সারা দেশের অঞ্চলভিত্তিক ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো, ওজোপাডিকো, পিডিবি বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিলও এখন বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ সেবা চালু হয়েছে। বিদ্যুৎ ছাড়াও টেলিফোন বিল, গ্যাস, পানি, সিটি করপোরেশনের সেবা ফিসহ আরও অসংখ্য সেবা ফি এখন বিকাশের মাধ্যমেই পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

সরকারি ভাতা বিতরণ : শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের ভাতা দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে বিকাশের মাধ্যমে ৩৫ লাখ শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইলে স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও নিরাপত্তার সঙ্গে পৌঁছে যাচ্ছে উপবৃত্তির অর্থ। কেবল উপবৃত্তির অর্থই নয় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রদত্ত গর্ভবতী নারীদের ভাতাও বিকাশের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে প্রায় ১ লাখ গর্ভবতী নারী তাদের মোবাইলে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ভাতার টাকা পেয়েছেন এবং সত্যিকার অর্থেই উপকৃত হচ্ছেন।

রেমিট্যান্স  : বিশ্বের ১৬৫ দেশে ১ কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ তাদের স্বজনদের কাছে মুহূর্তেই পৌঁছে দিচ্ছে বিকাশ। এখন বাংলাদেশের ৬টি প্রাইভেট ব্যাংকে পৃথিবীর যেকোনো দেশ থেকে ৩০টি শীর্ষস্থানীয় রেমিট্যান্স কোম্পানির মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারেন প্রবাসীরা, যেখানে ‘লাস্ট মাইল সল্যুশন্স প্রোভাইডার’ হিসেবে স্বজনরা তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে যান। বৈধপথে প্রবাসের রেমিট্যান্স কোম্পানি-বাংলাদেশ ব্যাংক-প্রাইভেট ব্যাংক-বিকাশে টাকা পাঠানোর এই ধাপগুলো সম্পন্ন হয় সঙ্গে সঙ্গেই। তা ছাড়া স্বজনরা যে রেমিট্যান্স পান তা তাদের সুবিধামতো সময়ে ক্যাশআউট করতে পারেন। এসব সুবিধার কারণে এখন মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউএই, কোরিয়া, ইউকে, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিকাশ।

পোশাককর্মীদের বেতন-ভাতা : বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে বিকাশ। যে শ্রমিকদের সিংহভাগ আবার নারী। ২০১৫ সাল থেকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ার পেছনে পোশাককর্মীদের বেতন এমএফএসে বিতরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন ১৮০টি পোশাক কারখানার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কর্মী বিকাশে বেতন পাচ্ছেন, যা তাদের অর্থ প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহারে আরও বেশি সক্ষম করে তুলেছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা : আগামী প্রজন্মের উন্নয়নেও পদক্ষেপ নিয়েছে বিকাশ। সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতি বছর স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচিতে বই দিচ্ছে বিকাশ। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২ লাখের বেশি বই দিয়েছে বিকাশ, যা সারা দেশের ২ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।  বিজ্ঞানচর্চায় দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের আগ্রহী করতে বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিন বিজ্ঞান চিন্তার সঙ্গে যৌথভাবে ২০১৯ সালে বিজ্ঞান উৎসব আয়োজন করেছে বিকাশ।

নিরন্তর বিকাশ

৮ বছর আগেও বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবা পাওয়ার বিষয়টি ছিল দুরূহ। মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা মোবাইল ব্যাংকিং নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বিকাশের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ভূমিকা রেখে কেবল বাংলাদেশে নয় বিশ্বব্যাপী নজির সৃষ্টি করেছে। গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ‘ইম্প্যাক্ট অ্যানালাইসিস অব অ্যাকসেস টু ফিন্যান্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জরিপ অনুসারে সবচেয়ে কম সময়ে এবং কম খরচে আর্থিক সেবা মেলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। এই জরিপের তথ্যানুসারে মাত্র সাড়ে আট মিনিট সময় এবং ৫ টাকা ব্যয় করেই একজন গ্রাহক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নিতে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালায় পরিচালিত এই আর্থিক সেবা খাত সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের অর্থ ব্যবহারে আরও বেশি সক্ষমতা দিয়েছে।  দেশের ভেতরে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় কাজের সন্ধানে আসা মানুষের অর্জিত অর্থ পরিবারের কাছে পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ মুহূর্তেই সমাধান হয়েছে বিকাশ সেবার কারণে। প্রতিদিনের আর্থিক লেনদেন বৈচিত্র্যপূর্ণ, উদ্ভাবনী এবং সহজ করে বিকাশ এখন নগদ টাকায় লেনদেনের বিকল্প হয়ে উঠছে, যার ফলে টাকা লেনদেনের সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছে ‘বিকাশ করা’।

একনজরে বিকাশ

যাত্রা শুরু : ২০১১ সালে

বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা : ৩ কোটি ৭০ লাখ

প্রতিদিন লেনদেন সংখ্যা : প্রায় ৭০ লাখ

প্রতিদিন লেনদেনের পরিমাণ : প্রায় ৭০০ কোটি টাকা

দেশব্যাপী এজেন্ট সংখ্যা : প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার

ড্রিস্টিবিউটর প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা : ২২০টি

মার্চেন্ট সংখ্যা : ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি

পার্টনার ব্যাংক : ১৭টি

মালিকানা অংশীদারত্ব

ব্র্যাক ব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মানি ইন মোশন,  বিশ্বব্যাংকের অন্তর্গত প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি), বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, চীনা জায়ান্ট আলীবাবা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল

স্বীকৃতি ও পুরস্কার

         বিশ্বখ্যাত ফরচুন ম্যাগাজিনের ২০১৭ সালের ‘চেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড লিস্ট’-এ বিশ্বসেরা ৫০টি কোম্পানির মধ্যে ২৩তম স্থান অর্জন করে বিকাশ। পরিমাপযোগ্য সামাজিক প্রভাব, ব্যবসায়িক ফলাফল ও উদ্ভাবনের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে এই পুরস্কারের তালিকা তৈরি করে ফরচুন।

         ৪ হাজার ভোক্তার ওপর নিয়েলসন বাংলাদেশ পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে বিকাশকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্র্যান্ড হিসেবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম।

         এইচআর কংগ্রেস ২০১৭ সালে বিকাশকে ‘এশিয়াস বেস্ট এম্পলয়ার ব্র্যান্ড’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।

বিকাশ নেটওয়ার্ক

৫৩ শতাংশ ব্যবহারকারী কোনো ধরনের টাকা খরচ না করেই একজন বিকাশ এজেন্ট থেকে সেবা নিতে পারেন, প্রথাগত ব্যাংকিং সেবার ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৩ শতাংশ।

         ৭১ শতাংশ ব্যবহারকারী ১ কিলোমিটারের মধ্যে একজন বিকাশ এজেন্ট পেয়ে যান।

         ৮৭ শতাংশ ব্যবহারকারী আধা ঘণ্টারও কম সময়ে একজন এজেন্ট থেকে সেবা নিতে পারেন।