ভোটারদের প্রশ্ন, ভোট হবে তো!|195056|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
ঘুরেফিরে একই জিজ্ঞাসায় বিব্রত আ.লীগের মেয়র প্রার্থীরা
ভোটারদের প্রশ্ন, ভোট হবে তো!
পাভেল হায়দার চৌধুরী

ভোটারদের প্রশ্ন, ভোট হবে তো!

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারে ভোট নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ছেন আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী উত্তরের আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণের শেখ ফজলে নূর তাপস। ভোট কতখানি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে ভোটাররা তার নিশ্চয়তা চাইছেন ক্ষমতাসীন দলের দুই মেয়র প্রার্থী ও তাদের প্রচারের দায়িত্বে থাকা নেতাদের কাছে। ভোট চাইতে অলিগলি ও ঘরে ঘরে যেখানেই যাচ্ছেন ঘুরেফিরে ভোটারদের একই প্রশ্নের মুখে পড়ছেন তারা- ভোট হবে তো? কারচুপি হবে না তো? দুই সিটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরাও প্রচারে একই প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। ভোটারদের এই প্রশ্ন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিচ্ছে বলে প্রচারে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।

প্রচারে থাকা ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা বলেন, ‘ভোট চাওয়ার পাশাপাশি আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠিত হবে সেই প্রচারও করছি।’ প্রচারে থাকা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, গত রবিবার কল্যাণপুরে নির্বাচনী গণসংযোগকালে লিফলেট দিতে গেলে মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামকে স্থানীয়

ব্যবসায়ী রতন আসলে ভোট হবে কি না সেই প্রশ্ন করেন। একই দিন নটর ডেম কলেজের সামনে দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসও ভোটারদের একই প্রশ্নের মুখে পড়েন। তবে হাসিমুখেই এসব বিব্রতকর প্রশ্নের উত্তর দেন মেয়র প্রার্থীরা।

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটিতে নৌকার মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের কৌতূহল কাজ করে। কোনো কোনো ভোটার কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করেন, ভোট হবে তো? ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ভোট হবে এ কথাও বলি আমরা এবং ভোটারদের বলি আপনারা ভোট দিতে যাবেন, অবশ্যই ভোট দেবেন। সিটি নির্বাচনের প্রচারের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোট নিয়ে সবার মধ্যে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে ঠিকই। ফলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট নিয়ে ভোটারদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে আমরা ভোট যে হবে সেই ব্যাপারে তাদের জবাব দিচ্ছি। তিনি বলেন, ভোটে অংশ না নিয়ে এবং মাঝপথে ভোট থেকে সরে গিয়ে বিএনপি ভোট নিয়ে জনগণের ভেতরে এক ধরনের অনাস্থার জন্ম দিয়েছে। সভাপতিম-লীর ওই সদস্য আরও বলেন, এবার সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে ভোট নিয়ে জনগণের ভেতরে যে অনাস্থা তৈরি করেছে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিরই সেটা কাটিয়ে তোলা দায়িত্ব বলে মনে করি আমি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ তাপসের নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্বে থাকা দলের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিটি ভোট নিয়ে নগরবাসীর ‘ভোট হবে তো’ এই প্রশ্নের উত্তর কোথাও না কোথাও আমাদের প্রতিদিনই দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ভোটারদের বোঝাতে সক্ষম হচ্ছি। আমাদের প্রচারের ধরন দেখে, মাঠে ভোটের উত্তাপ দেখে ভোটাররা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সিটি নির্বাচন হবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর আগের নির্বাচনগুলো নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ  হয়েছে। এছাড়া এ নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হবে না। ফলে কারচুপি করে জয়ী হতে হবে না। তিনি বলেন, আমরা যখন মনোনয়ন বোর্ড বসি এবং দুই অঞ্চলে দুই মেয়র প্রার্থীকে মনোনয়ন দিই সেখানে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হবে।

লালবাগ, ওয়ারীসহ পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা কমিটি করে প্রচার কাজে নেমেছেন। প্রচার নিয়ে জানতে চাইলে সহসভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যায়ের দুই সদস্য বলেন, প্রচারে নেমে ভোটারদের ভোট নিয়ে নানা বিরূপ মন্তব্য শুনতে হয়। তাদের একজন বলেন, ‘প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার আগে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কতখানি হবে ভোটারদের সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় আমাদের। ভোটারদের এ ধরনের প্রশ্ন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।’